সঞ্জুর রহস্য: এক মাস ফোন অফ, শচীনের উপদেশে বিশ্বকাপ সেরা

সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্বপ্নের মতো কাটিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। আসরে শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি ম্যাচে একাদশে ছিলেন না। শেষ দিকে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাতেই ৩২১ রান করে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচে তার স্কোর ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান। ছক্কা মেরেছেন সবচেয়ে বেশি ২৪টি। প্রত্যাশিতভাবেই আসরের সেরা হয়েছেন।
আহমেদাবাদের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ভারত। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি জিতল তারা। টুর্নামেন্ট শেষে নিজের ব্যাটিংয়ের রহস্য জানালেন সঞ্জু স্যামসন, কোলাহল থেকে দূরে থাকতে এক মাস ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। ব্যাটিংয়ের ধরন বদলাতেই সাফল্য পেয়েছেন।
ভারতের কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকারের কাছ থেকেও পরামর্শ পেয়েছিলেন স্যামসন। এদিকে, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, তার ক্রিকেটজীবন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েছিল। বিশ্বকাপ জয়ের পর গতকাল (সোমবার) নিজ বাসভূম তিরুঅনন্তপুরমে ফিরেছেন সঞ্জু। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন কেরালার শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবনকুট্টি। হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন বিমানবন্দরের বাইরে। ‘সঞ্জু, সঞ্জু’ চিৎকারে তারা ভরিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় এই উইকেটকিপার ব্যাটার বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা সবার জানা উচিত। সামাজিক মাধ্যম থেকেই জানতে পারি লোকে আমায় কতটা ভালোবাসে। তবে ব্যর্থ হলে বুঝে নিতে হবে কী আসতে চলেছে। আমি ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলাম যাতে বাইরের আওয়াজ না শোনা যায়। দেশে বিশ্বকাপ হলে বাইরে থেকে প্রচুর আওয়াজ শোনা যাবে। তাই ফোন বন্ধ রেখে ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছি।”

ম্যাচের পর গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের যুবরাজ সিংহের সঙ্গে সঞ্জুর তুলনা করা চলে কি না? গম্ভীর বলেন, “দু’জনের তুলনা করা উচিত নয়। যে ফর্মে সঞ্জু ছিল সেখান থেকে ফিরে এসে টানা তিনটি ম্যাচে ও রকম খেলা কল্পনা করা যায় না। কতটা চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং সাহস থাকলে ও রকম খেলা যায়, বিশেষ করে যখন আপনি জানেন ক্রিকেটজীবন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
নিউজিল্যান্ড সিরিজের পরেই ব্যাটিংয়ের দর্শন বদলে ফেলেছিলেন সঞ্জু। তিনি বলছিলেন, “আগে প্রতিটা বলে মারতে যেতাম। সেটা কাজে লাগেনি। ব্যর্থতা থেকে শিখেছি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে স্ট্রাইক রেট বাড়াতে চেয়েছিলাম। সেটাও পারিনি। তাই পরেই নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টে ফেলি।”

রোববার আহমেদাবাদের ফাইনালে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময়েই শচীনের উপদেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন সঞ্জু। এ দিন সে প্রসঙ্গে বলেন, “গত কয়েক বছর ধরেই উনার সঙ্গে মেসেজে কথা হয়। আইপিএলে সামনাসামনি কথাও হয়েছে। এ বার যোগাযোগ করার পর উনি খুব সাহায্য করেন। ২৫ মিনিট ধরে বোঝান যে তার ক্রিকেটজীবনে কী হয়েছে, কঠিন মুহূর্ত কীভাবে সামলাতে হবে, কীভাবে অনুশীলন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। এই উপদেশ প্রচণ্ড সাহায্য করেছে।” সঞ্জুর সংযোজন, “বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের দিনও উনি যোগাযোগ করে জিজ্ঞাসা করেন আমি তৈরি কি না। এটা সবাই পায় না। আমি খুব খুশি উনার পরামর্শ পেয়ে।”
এফআই