ফ্লাইট জটিলতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি

কয়েক দফা ফ্লাইট বাতিলে কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরও ভারতে আটকে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। অবশেষে দল দুটির ক্রিকেটাররা দেশে ফিরতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে একাধিকবার তাদেরকে দেশে ফেরাতে আইসিসির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরাসরি সমালোচনায় মেতেছেন ক্রিকেটাররা। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি এর ব্যাখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও প্রোটিয়া দলের জন্য স্বস্তির খবর মিলেছে। আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফেরানোর বন্দোবস্ত হয়েছে পুরো দলকে। এর আগে ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন ক্যারিবীয় ক্রিকেটার দেশে ফেরেন। সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলগুলো বিশেষ বিমানে যাতায়াত করলেও এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হচ্ছে ক্যারিবিয়ান ও প্রোটিয়াদের। ৯ দিন অপেক্ষায় থাকার পর ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে।
এর আগে ১ মার্চ সুপার এইটে হেরে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছিল শাই হোপদের। ফলে ভারতে তাদের বন্দিদশার ১০ দিন পেরিয়েছে। আর ৪ মার্চ সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। ফলে তাদেরও দেশে ফেরার অপেক্ষায় সপ্তাহ পূর্ণ হয়েছে। ফ্লাইট জটিলতার মধ্যে ক্যারিবীয় কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ইতোমধ্যে ভারত ছেড়েছেন, বাকিরা বুধ-বৃহস্পতিবারের মধ্যে উড়াল দেবেন। এ ছাড়া আজ (বুধবার) রাত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তারা ভারত ছাড়বে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে আইসিসি।
দেশে ফিরতে না পারার হতাশায় এর আগে প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক আইসিসির সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘হাস্যকর আইসিসি, আমরা কিছুই শুনতে পারছি না! যেখানে ইংল্যান্ড যেভাবেই হোক আমাদের আগে (দেশে) ফিরে যাচ্ছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা কেবলই অন্ধকারে পড়ে আছে! অদ্ভুত ব্যাপার, কীভাবে একটি দল অন্যদের চেয়ে বেশি প্রভাব রাখে!’
প্রায় একই সুরে সমালোচনা করেছেন আরেক প্রোটিয়া তারকা ডেভিড মিলারও। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘মজার বিষয় হচ্ছে ইংল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পরে বিশ্বকাপ শেষ করেছে। কিন্তু তারাই চার্টারে (ফ্লাইট) আজ রাতে দেশে ফিরছে। যেখানে এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা কলকাতায় বসে উত্তরের অপেক্ষা করছে।’
স্বাভাবিকভাবেই কেউ আগে আসর শেষ করেও ভারতে আটকে পড়া কিংবা অন্য কারও অপেক্ষা ছাড়াই দেশে ফেরার চিত্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আইসিসি বলছে, ‘ইংল্যান্ড কিংবা অন্য দেশের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করায় আইসিসির কোনো যোগসূত্র নেই। ভিন্ন পরিস্থিতি, বিকল্প রুট খোলা থাকা এবং ভ্রমণজনিত ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে এমনটা ঘটেছে।’
উদ্ভুত প্রোটিয়া-ক্যারিবীয়দের মতো আইসিসিও হতাশ বলে উল্লেখ করেছে বিবৃতিতে, ‘আমরা জানি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সম্পন্ন করার পর খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাদের পরিবার দেশে ফিরতে উদ্বিগ্ন ছিল। কিন্তু তাদের ফিরতে না পারাই সব হতাশার কারণ, আইসিসিও সেই হতাশার অংশীদার। এই পুরো সময়ে আইসিসির কাছে প্রাধান্য ছিল ক্রিকেটার, পরিবার, সন্তানরা–সহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। যাত্রাপথ নিরাপদ হওয়ার বিষয়ে নিজের সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাউকে এখান থেকে সরিয়ে নিতে পারি না। তাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিও পরিবর্তন হবে না আমাদের।’
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ গভর্নিং বডি আরও জানায়, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার কারণে এমন বিলম্ব, যা বিস্তৃত পরিসরে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে আইসিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে, ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয়ের সমাধান অনেক জটিল ও সময়সাপেক্ষ। ব্যতিক্রমী এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা সকল খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট, বোর্ড ও অংশীদারদের ধৈর্য ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা সার্বক্ষণিক সব ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমরা পরবর্তী আপডেট জানাব।’
এএইচএস