বিশ্বকাপ জিতে অন্যরা উদযাপনে ব্যস্ত, আর তিনি ছদ্মবেশে ট্রেনে বাড়ির পথে

শেষ ওভারে তিন চার ও দুই ছয় মেরে ভারতের ইনিংস আড়াইশ ছাড়া করলেন। তাতে লক্ষাধিক আসনের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ‘দুবে, দুবে’ স্লোগান উঠেছিল। ঘণ্টা কয়েক পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নেন শিবম দুবে। ক্রিকেটারদের জন্য চার্টার ফ্লাইট থাকলেও ভারতের ‘লাস্ট অ্যাকশন হিরো’ কয়েক ঘণ্টা পর আহমেদাবাদ থেকে নিজ শহরে ফিরতে অপ্রচলিত একটি পথ বেছে নিলেন।
ট্রফি হাতে নেওয়ার পর সন্তানদের দেখার জন্য তর সইছিল না। বাড়ি ফেরার জন্য অধীর হয়ে উঠলেন। কিন্তু আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাইয়ে ফেরার জন্য কোনো বিমানের টিকিট পেলেন না। কিন্তু দমে যাননি। যে করেই হোক বাসায় ফিরতে হবে! ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, তাই ট্রেনযাত্রার ভাবনা এলো মনে। পরের গল্পটা অন্যরকম। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার দুবে ছদ্মবেশ ধারণ করে ট্রেনে চেপে বাড়িতে ফিরে গেলেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে সেই গল্প শুনিয়েছেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ভারতীয় খেলোয়াড়। নিজের ও স্ত্রীর জন্য ফ্লাইট বুক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি কোনো টিকিট। সড়কপথকে বেছে নিতে চাইলেও তাড়াতাড়ি যাওয়া যাবে ভেবে ট্রেনে চড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দুবে বললেন, ‘রাতে কোনও বিমান ছিল না। তাই আমি ঠিক করি আহমেদাবাদ থেকে ট্রেন ধরে সকালের মধ্যে মুম্বাই ফিরব। আমি গাড়িতেও ফিরতে পারতাম। কিন্তু ট্রেনে তাড়াতাড়ি হলো।’ স্ত্রী ও এক বন্ধুকে নিয়ে এসির টিকিট পান তিনি, ‘আমি, আমার স্ত্রী ও এক বন্ধু ঠিক করি ট্রেনে ফিরব। থার্ড এসি'র টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল, তাই সেটাই কেটে নিই। সবাই একটু দুশ্চিন্তায় ছিল যে, ট্রেনের ভিতর কেউ যদি আমাকে চিনে ফেলে, তাহলে কী হবে?’
কীভাবে নিজেকে লুকিয়ে রাখলেন দুবে, তা জানালেন, ‘আমি টুপি ও মাস্ক পরেছিলাম। ফুল হাতা টি-শার্ট পরা ছিল। ভোর ৫টা ১০-এ ট্রেন ছিল। স্ত্রীকে বলি ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগে জানাতে। আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম। তারপর দ্রুত ট্রেনে উঠে যাই।’
তবে একটুর জন্য ধরা পড়তে বসেছিলেন তিনি টিকিট চেকারের কাছে। হাতে টিকিট নিয়ে টিকিট চেকার জিজ্ঞাসা করেন, ‘শিবম দুবে? সে কে, ক্রিকেটার?’ দুবের স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, ‘না, না। সে কোথা থেকে আসবে।’ টিকিট চেকার পরে অন্য যাত্রীর কাছে চলে যান।
বাড়ি ফিরে চার বছরের ছেলে আয়ান ও দুই বছরের মেয়ে মেহউইশের সঙ্গে দেখা করাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তাই 'ছদ্মবেশে' ফেরার পরিকল্পনা করেন। শেষটাতেও কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাকে। দুবে বললেন, ‘আমাকে কেউ চিনতে পারেনি। মুম্বাই ঢোকার আগে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। তারা সব ব্যবস্থা করে। তবে পুলিশও অবাক হয়েছিল, বিমানে না এসে ট্রেনে এসেছি বলে।’
এফএইচএম/