অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত পাল্টে ইরানে ফিরছেন নারী ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে জাতীয় সংগীত চলাকালে চুপ থাকায় তোপের মুখে পড়েন ইরানের ফুটবলাররা। এই ঘটনায় তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে দেশে ফিরলে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের এক উপস্থাপক। এরপর অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ইরানি নাগরিকরা বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নারী ফুটবলারদের আশ্রয় (এসাইলাম) দেওয়ার নির্দেশনা দেন অস্ট্রেলিয়াকে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশটিতে আশ্রয় নেয় ইরানের ৭ ফুটবলার, তাদের মধ্যে একজন সিদ্ধান্ত পাল্টে দেশে ফিরছেন।
আজ (বুধবার) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কে সংসদে জানিয়েছেন, ‘২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মোহাদ্দেসে জোলফি এবং দলের সাপোর্ট স্টাফ জাহরা সুলতান মোশকেহকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এর একদিন আগে দলটির পাঁচজন খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। তবে গত রাতে যারা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদের একজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়া কয়েকজন সতীর্থের সঙ্গে কথা বলে মত পরিবর্তন করেছে।’ তবে বার্কে স্পষ্ট করেননি তাদের মধ্যে কে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়া কিংবা দেশে ফেরার বিষয়ে যে কারও সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানোর কথা বললেন বার্কে, অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, ভ্রমণ করতে পারে। তাই যে পরিস্থিতিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা সেটিকে সম্মান করি। যিনি সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ায় বাকি খেলোয়াড়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যানবেরায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার এই মন্ত্রী জানান, ‘আমরা নিশ্চিত করেছি যেন কোনো তাড়াহুড়ো বা চাপ না থাকে। প্রত্যেকের মর্যাদা বজায় রেখে যেন তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেটিই ছিল আমাদের লক্ষ্য। কয়েকজন খেলোয়াড় আমার কাছে পরিবারের সদস্যদের ইরান থেকে বের করে আনতে সহায়তার সম্ভাবনা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন। স্থায়ী বাসিন্দা হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের স্পন্সর করার কিছু অধিকার থাকে। কিন্তু সেটি তখনই সম্ভব, যখন তারা প্রথমে ইরান থেকে বের হতে পারবেন।’
এদিকে, সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে– কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করার পর অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর দলটির বেশিরভাগ সদস্য ইতোমধ্যে ইরানে ফেরার পথে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছে। কুয়ালালামপুরভিত্তিক এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, ইরান নারী দল রাজধানীর একটি হোটেলে অবস্থান করছে। তবে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দলটির অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে এএফসি।’ কুয়ালালামপুরে ইরানের দূতাবাস মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা ভালো আছেন এবং দেশে ফিরতে চান। এ ছাড়া ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির জেনারেল প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে– ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দলের বাকি সদস্যদের।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, ‘ইরান তার সন্তানদের দু’হাত প্রসারিত করে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে সরকার। ইরানি জাতির পারিবারিক বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপের অধিকার নেই এবং একইসঙ্গে কেউ মায়ের চেয়ে মাসির মতো বেশি দরদ দেখানোরও সুযোগ নেই।’ এ ছাড়া ইরানের ফুটবল ফেডারেশন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (ফিফা) ‘ট্রাম্পের ফুটবলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের’ বিষয়টি পর্যালোচনার আহবান জানিয়েছে।
এএইচএস