সানরাইজার্সে পাকিস্তানি খেলোয়াড়, নিজেদের অবস্থান জানাল বিসিসিআই

দ্য হানড্রেড ভারতের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হলেও এই টুর্নামেন্ট নিয়ে একধরনের আগ্রহ কাজ করে ভারতীয় সমর্থকদের মনে। সেখানে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ভারতীয় মালিকানাধীন। ভারতের মালিকানায় থাকা অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডস তাদের কাছে ঘোরতর শত্রুতে পরিণত হয়েছে। আইপিএল চলাকালে যখন একই মালিকানার দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সহমালিক কাব্য মালানের রূপ আর ভঙ্গির প্রশংসা চলে, তিনিই এখন তাদের কাছে ‘রক্তচোষা ডাইনি’।
বিজ্ঞাপন
কারণ একই মালিকানার দল সানরাইজার্স লিডস হানড্রেডের নিলামে কিনেছে পাকিস্তানের ক্রিকেটার আবরার আহমেদকে। ভিনদেশী লিগের ক্লাব, তবুও ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে কিনে বিতর্কিত লিডস। এবার এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানাল ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।
সানরাইজার্স আবরারকে কেনায় ভারতীয় ভক্তদের মাঝে উঠেছে নিন্দার ঝড়। কেউ কেউ আইপিএলে হায়দরাবাদকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। কিছুক্ষণ পর সানরাইজার্স লিডসের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়।
বিজ্ঞাপন
গতকাল (শুক্রবার) এএনআই-এর সঙ্গে আলাপে বিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব শুক্লা জানান, বিসিসিআই-এর সীমানা আইপিএল পর্যন্ত। হানড্রেডে লিডসের সঙ্গে কী ঘটছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না তারা। কার সঙ্গে চুক্তি করবে আর কার সঙ্গে করবে না, সেটা কেবলই ফ্র্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমানা শুধু আইপিএল কেন্দ্রিক। এর বাইরের কোনো লিগে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কর্মকাণ্ডে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কোনো বিদেশি লিগে তারা কাকে দলে নেবে, সেটি একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। যেহেতু আইপিএলে এমন কোনো খেলোয়াড় (বিতর্কিত বা সংশ্লিষ্ট) নেই, তাই বিদেশের লিগ নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই।’
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিক চেন্নাই ভিত্তিক মিডিয়া জায়ান্ট সান গ্রুপ। তাদেরই মালিকানাধীন দল সানরাইজার্স লিডস। দ্য হানড্রেডে প্রথম পাকিস্তানি খেলোয়াড় হিসেবে কোনো ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিক্রি হলেন আবরার। ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে লড়াই করে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে তাকে কেনে লিডস।
বিজ্ঞাপন
নিলামে উপস্থিত ছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সহ-মালিক কাব্য মারান। নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটারকে কেনার ব্যাপারে মুখ খোলেন দলের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি।
বিবিসি স্পোর্টসকে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বললেন, ‘সে (আবরার আহমেদ) তার বৈচিত্র্যের দিক থেকে অনন্য এবং অনেক খেলোয়াড়, বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা তাকে আগে সেভাবে দেখেনি।’
পাকিস্তানি কোনো ক্রিকেটারকে না নেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ছিল জানান তিনি, ‘আমরা যখন নিলামে আসি, তখন প্রতিটি খেলোয়াড়ই আমাদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। যখনই এই বিকল্পটি সামনে আসে— আন্তর্জাতিক দলগুলোর অনেক ভালো স্পিনার সেখানে অপশন হিসেবে থাকলেও আবরারই ছিল আমাদের অগ্রাধিকার।’
নিলামে বিক্রি হওয়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি খেলোয়াড় ছিলেন আবরার। তার আগে বার্মিংহাম ফিনিক্স ১৪০,০০০ পাউন্ডে আরেক রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিককে দলে নেয়। অবশ্য ফিনিক্স দলের সঙ্গে আইপিএলের কোনো সংযোগ নেই।
এফএইচএম/