‘নির্বাচকদের কাজ কিন্তু সবার মন জোগানো না’

দেশের ক্রিকেটের অনেক প্রথমের সঙ্গে যুক্ত হাবিবুল বাশার সুমন। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শেষে ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক এবং নির্বাচক— নামের আগে এই বিশেষণগুলো থাকার পরেও নতুন করে এবার বাশারের নামের পাশে যুক্ত হলো প্রধান নির্বাচকের তকমা। বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাশারসহ আরও তিন নির্বাচককে আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি, দল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।
ঢাকা পোস্ট : আবারো পুরোনো দায়িত্বে ফিরলেন, এবার সহকারী থেকে চিফ সিলেক্টর হিসেবে। কেমন লাগছে?
বাশার: আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে, এটা এখন বড় দায়িত্বের জায়গা। এখানে দায়িত্ব অনেক বেশি সবার এক্সপেক্টেশন (প্রত্যাশা) থাকবে বেশি। সেই সঙ্গে চাপ নিতে হবে অনেক, আর একই সঙ্গে এটা একটা সম্মানের চাকরি। আগে যেহেতু সহকারী সিলেক্টর হিসেবে ছিলাম। এবার প্রধান নির্বাচক হয়েছি ভালো তো অবশ্যই লাগছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা পোস্ট : এখন চ্যালেঞ্জটাও আরও বেশি হবে নিশ্চয়ই
বাশার: গতবার সহকারী নির্বাচক ছিলাম এবার প্রধান নির্বাচক হয়েছি। ভালো লাগাটা বেশি থাকবে, আগে শুধু আমি আমার মতামতটা দিতাম। যেহেতু সহকারী ছিলাম প্রধান যিনি ছিলেন উনি সিদ্ধান্ত নিতেন। আর এখন তো আসলে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা সম্মানের অধিনায়কত্ব করাটা আরো সম্মানের। ব্যাপারটা এরকমই সিলেক্টর হওয়া সম্মানের, প্রধান নির্বাচক আরও সম্মানের। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আছে।

ঢাকা পোস্ট : প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা বেশি কাজ করেছে?
বিজ্ঞাপন
বাশার: স্বপ্ন বা প্রবল আগ্রহ কোনোটাই ছিল না। কারণ এই পথটা আমি আগেও পার করে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে সহকারীর দায়িত্ব পালন করেছি সেহেতু নতুন কিছু না এটা আমার কাছে। আর আমাকে যখন প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল আমি কিছুদিন সময় নিয়েছিলাম। আমার কিছু পরিকল্পনাও ছিল সব শেষ গেম ডেভেলপমেন্টে যেখানে ছিলাম।
ভালোভাবে যুক্ত ছিলাম সেখানে আমি। তো ওটা ছেড়ে আসা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। তো ওই কারণে আসলে একটু সময় চেয়েছিলাম। ওখানে আমার অনেক পরিকল্পনা ছিল, ফলে প্রধান নির্বাচক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল আগ্রহ বা স্বপ্ন কোনোটাই ছিল না। তবে জাতীয় দলের সাথে কাজ করতে পারা সব সময় ভালো লাগার আর কি।
ঢাকা পোস্ট : ভালো করলে ভালো বলার চেয়ে খারাপ করলে সমালোচনাটা বেশি হয়, এটা কিভাবে দেখেন?
বাশার: আমি এর আগেও দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সমালোচনা বা অন্য যা এগুলো সয়ে গেছে এগুলো অনেক পেয়েছি। এটা আমার জন্য নতুন কিছু না এখন প্রধান নির্বাচক যেহেতু চাপটা একটু বেশি হবে। আমি খুব বেশি চিন্তিত এটা নিয়ে। আমার মূল প্রচেষ্টা হচ্ছে সিলেকশন প্রসেস নিয়ে কারণ এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে নিয়ে কি বলা হবে বা কি লেখা হবে ট্রল হবে এগুলো নিয়ে আমি অত ভাবতেছি না। আমি দলের পারফর্মম্যান্স নিয়েই চিন্তা রাখছি। দল কেমন করবে আমার মনোযোগ সেদিকেই থাকবে সবসময়।
ঢাকা পোস্ট : নির্বাচক হলে সবার মন জোগানো কঠিন বিশেষ করে ক্রিকেটার কিংবা ভক্ত, এটা কিভাবে সামলাবেন
বাশার: নির্বাচকদের কাজ কিন্তু সবার মন জোগানো না। সবার মন যদি কোনো নির্বাচক জোগাতে চায় তাহলে কিন্তু সে ভালো নির্বাচক হতে পারবে না। একই সঙ্গে ভালো নির্বাচনটাও হবে না। সবার পছন্দ মত দল করতে হবে এটা কখনোই সম্ভব না। দলের ভালোর জন্য যেটা প্রয়োজন যেটা দরকার সেটা অনুযায়ী নির্বাচন করা হবে দল।
ঢাকা পোস্ট : প্রধান নির্বাচকের পদে আসার আগে পরিবার থেকে ফুল সাপোর্ট পেয়েছেন কি না
বাশার: আমার পরিবার যে খুব আগ্রহী ছিল সেটা না। তারা তো দেখেছে আগে যখন নির্বাচক ছিলাম কতটা স্ট্রেসের মধ্যে যেতে হতো। এই কারণে তারা একটু আগ্রহী কম ছিল আসলে। এসব চিন্তা করে আমার পরিবারও চাচ্ছিল না নির্বাচক পদে আবার যুক্ত হই। তবে পরে পরিবারকে বুঝিয়েছি, কনভিন্স করেছি। আগের মতো এখন আর এতটা স্ট্রেস থাকবে না।

ঢাকা পোস্ট : আপনার নির্বাচক প্যানেল কেমন হলো
বাশার : আমাদের বর্তমান ৪ সদস্যের নির্বাচক প্যানেল খারাপ হয়নি। অবশ্যই ভালো হয়েছে অভিজ্ঞ লোক আছে এখানে। তারা বয়সভিত্তিক দলের হয়ে অনেক বছর ধরে কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও অভিজ্ঞ ছিল তারা। তারা অনেকদিন ধরে কাজ করছে ক্রিকেটের সঙ্গে। অনেকদিন ধরে ক্রিকেটের সাথে যুক্ত রয়েছে।
ঢাকা পোস্ট : চারজন হওয়ায় কাজ করতে সুবিধা হবে কি না
বাশার: হ্যাঁ কিছু ক্ষেত্রে তো সুবিধা রয়েছেই। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ম্যাচে নির্বাচকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। আর সংখ্যা যেটাই থাকুক না কেনো দিন শেষে আসলে প্রধান নির্বাচকেরই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সদস্য বেশি হওয়ায় এটা আসলে আমার কাছে ভালোই হয়েছে।
ঢাকা পোস্ট : নাদিফ-নাঈমকে কিভাবে দেখছেন?
বাশার: ওরা তো ভালোই। অনেক দিন ধরে ওরা ক্রিকেটের সাথে যুক্ত রয়েছে। নাদিফ তো বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বে ছিল অনেকদিন। আর নাঈম তো অনেক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাচ্ছিল। ওরা খুব কাছ থেকে ক্রিকেটটাকে দেখেছে। যে কারণে ওদের কাছে ইনফরমেশনটা সহজেই পাওয়া যাবে।
ঢাকা পোস্ট : প্রথম চ্যালেঞ্জ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজ। দল কেমন হতে পারে, নতুন কাউকে দেখা যাবে কি না
বাশার: নিউজিল্যান্ড আসলে ওদের কোন ক্রিকেটার নিয়ে আমাদের দেশে আসবে এটা নিয়ে আমি আসলে চিন্তিত নই। তবে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেটারকে খেলাব। আমরা আমাদের সেরা দলই নির্বাচন করব। তখন যদি কাউকে দরকার হয় সেটা নতুন হতে পারে পুরোনো হতে পারে। সেই অনুযায়ী আমরা খেলাব, আমি কোনো ক্রিকেটারকে স্পেশালি নাম নিয়ে বলতে চাই না। দলে যাকেই প্রয়োজন তাকেই নেওয়া হবে।
ঢাকা পোস্ট : সাকিব আল হাসান বিবেচনায় থাকবে কি না নিউজিল্যান্ড সিরিজে
বাশার: এটা আসলে সময়ই বলে দেবে। কারণ আমরা তো এখনো জানি না যে সাকিব কোন অবস্থাতে দাঁড়িয়ে আছে। সাকিব যদি দলে ফিরে তাহলে অবশ্যই সে প্রিপারেশন নিয়েই ফিরবে। সাকিবকে আসলে লম্বা সময়ের জন্যই চিন্তা করতে চাই। শুধুমাত্র একটা সিরিজের জন্য নয়, সেটা ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

ঢাকা পোস্ট : অধিনায়কত্ব, ব্যাটিংনাকি প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব সামলানো কোনটা বেশি কঠিন হবে
বাশার: প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব সামলানো অনেক বেশি কঠিন হবে। ব্যাটিং করা তো সবসময় নিজের হাতেই থাকে, অধিনায়কত্ব ও নিজের হাতে থাকে। তবে নির্বাচকের বিষয়টা কিন্তু হাতে নেই। আমি সেরা দল দিলাম কিন্তু মাঠে ভালো করতে পারল না এ কারণে দায়িত্ব এবং চাপ বেশি থাকে।
ঢাকা পোস্ট :২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আপনাদের চুক্তি, কি ফল দিতে চান এই সময়ে দেশকে
বাশার: আমি আসলে ধারাবাহিকতার সাথে একটা দলকে দাঁড় করাতে চাই এই সময়ে। যে দলটা ধারাবাহিকভাবেই পারফর্ম করে যাবে। রেগুলার যদি পারফর্ম করতে পারে তাহলে ট্রফি আসবে। ট্রফিটা কিন্তু কখনো বলে কয়ে কেউ আসবে না। একটা দল যখন তাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তখনই কিন্তু ট্রফিই আসে।
এসএইচ/এফআই