নিষেধাজ্ঞা শঙ্কা সত্ত্বেও আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন ইংলিশ তারকা

এবারই প্রথম ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে দল পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার বেন ডাকেট। ২ কোটি রুপিতে দিল্লি ক্যাপিটালসে নাম লেখানোর পর আসর শুরুর আগমুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিলেন তিনি। বাঁ–হাতি এই ওপেনার মূলত ইংল্যান্ড দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে চান। যদিও দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করায় নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন ডাকেট।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজে ফর্মহীন থাকার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই ইংলিশ ওপেনারকে সাইডলাইনে বসে কাটাতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের হয়ে সব ফরম্যাটেই খেলার আশা তার, যদিও টেস্ট বাদে বাকি দুই ফরম্যাটে তিনি কিছুটা অনিয়মিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা আরেকটু সমৃদ্ধ করার আশায়, বিশেষ করে টেস্টে ফর্ম ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আইপিএলের পরিবর্তে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলবেন ডাকেট।
শেষ মুহূর্তে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পড়তে পারেন। কারণ গত বছর অল্প সময়ের নোটিশে বিদেশি ক্রিকেটাররা আইপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত জানালে তাদের শাস্তি দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। দিল্লি ক্যাপিটালসে নাম লেখানোর পর নাম সরিয়ে নেওয়ায় ২০২৫ মৌসুমে একই নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন ডাকেটের স্বদেশি অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। কঠিন সিদ্ধান্তের পর আইপিএলে খেলার দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে উল্লেখ করেও কঠিন সিদ্ধান্তটা নিলেন ডাকেট।
বিজ্ঞাপন
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেছেন, ‘এটি খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত। যে কারণে আমি দিল্লির সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। নিলামে নাম দেওয়ার সময় মনে হয়েছিল এটি আমার জন্য সেরা সুযোগ হতে যাচ্ছে, দিল্লির মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাকে বেছে নিয়েছিল, যা অসাধারণ। আমি রোমাঞ্চিত ছিলাম। এটি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সেরা প্রতিযোগিতা এবং আমারও দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারত। আমি জানি না এর মধ্য দিয়ে আইপিএলকে সম্ভবত বিদায় বলে ফেলছি, যেখানে কখনও খেলিনি। ৩১ বছর বয়সে এটি আমার জন্য কঠিন হতে পারে। তবে আশা করি একসময় দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। যা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি এবং নিজের ক্যারিয়ারের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
গত গ্রীষ্মে ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ডের টেস্ট ড্র হলে সব ফরম্যাটেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন ডাকেট। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি ফর্ম হারাতে থাকেন। সর্বশেষ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ২৮ ম্যাচে তার হাফসেঞ্চুরি স্রেফ একটি, অস্ট্রেলিয়ার কাছে সর্ব অ্যাশেজে ইংলিশদের ৪-১ ব্যবধানে হারের সময়ে ১০ ইনিংসে মাত্র ২০২ রান করেন ডাকেট। এরপর বিশ্বকাপ দলে থাকলেও, খেলার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা আরও ঘিরে ধরে তাকে, ‘বিশ্বকাপে খেলতে না পারা, অ্যাশেজে কঠিন সময়ের পর ভারতে সাইডলাইনে বসে থাকা আমার জন্য সংগ্রামের সময় ছিল। তবে নিজের ভেতর আগুন জ্বলছে, আমি জানি না কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, সামনে কী আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি যত বেশি সম্ভব ইংল্যান্ডের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলতে মরিয়া। সে কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা ১০ বছর পরে এবং ক্যরিয়ারের শেষরেখায় সঠিক মনে হতে পারে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে আমি সর্বোচ্চটা করতে চাই। আমি হয়তো আইপিএলে গিয়ে সাইডলাইনে বসেই কাটাতাম। এরপর আবার ছুটতাম টেস্ট মৌসুমের দিকে। ফলে শীতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজের ভুল থেকে শেখার সময় পেতাম না। সে কারণে নটিংহ্যামে ফিরছি।’
বিজ্ঞাপন
কাউন্টি খেলেই ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ডাকেট। চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে পারা তার কাছে অনেক মূল্যবান। কাউন্টিতে রান করার মধ্য দিয়ে পুরো মৌসুমের জন্য আত্মবিশ্বাস পুঁজি করেন তিনি।
এএইচএস