রোনান সুলিভানে মুগ্ধ ফুটবলাঙ্গন

মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোনান সুলিভানের দর্শনীয় বাঁকানো ফ্রি কিক থেকে গোলের দৃশ্য প্রশংসার সাগরে ভাসছে। ফুটবলপ্রেমী সমর্থক থেকে শুরু করে সাবেক ফুটবলার, সংগঠক, সাংবাদিক সবাই অসাধারণ গোলে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন। এর আগে সিনিয়র কিংবা জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো পর্যায়ের বাংলাদেশি ফুটবলারের কাছ থেকে এমন গোল দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
হামজা-সামিতের মতো ফুটবলার আসার পর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একটিতে জিতেছে। কয়েকটি ম্যাচে জয়ের সুযোগ আসলেও দক্ষ স্ট্রাইকারের অভাবে জয় পাওয়া হয়নি। আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভানের অভিষেকে জোড়া গোল দেখে ফুটবলাঙ্গন অনেকটাই আশাবাদী। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির পর বড় মাপের স্ট্রাইকার পায়নি বাংলাদেশ। রোনানের খেলা দেখে বেশ আশাবাদী এমিলি, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমাদের জাতীয় দলে নাম্বার নাইন সংকট। রোনান গতকাল অসাধারণ খেলেছে। তাকে নিয়ে জাতীয় দলে আশা দেখাই যায়।’
গোলের খেলা ফুটবল। রোনানের দুই গোলে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়েছে। ৫৪ মিনিটে ৩০ গজের বেশি দূর থেকে বাঁকানো ফ্রি কিকে মনমুগ্ধকর গোল। মিনিট বারো পরে বক্সের মধ্যে বুদ্ধিদীপ্ত হেডে আরেকবার পাকিস্তানের জালে বল পাঠান তিনি। রোনানের দুই গোল নিয়ে এমিলি বলেন, ‘দু’টি গোলই অসাধারণ। তার শুটিং এবং হেডওয়ার্ক উভয় দক্ষতা দারুণ সেটা তিনি দেখিয়েছেন। পজিশন সেন্স, গতি সব কিছুই তার দারুণ যা একজন স্ট্রাইকার বা নাম্বার নাইনের প্রয়োজন।’
রোনান মুগ্ধতা ছড়ালেও খেলার আরেকটি চিত্র ফুটে উঠেছে। ভালো পজিশনে থাকার পরও তাকে বল দেননি সতীর্থরা। এতে কখনো তিনি হতাশ হয়েছেন আবার কখনো মেজাজ হারাতে দেখা গেছে। অন্য সবার মতো এটিও চোখে পড়েছে এমিলির, ‘বাংলাদেশের হয়ে গতকালই তার প্রথম ম্যাচ। সমন্বয় ও কমিউনিকেশনে একটু সমস্যা তো হয়েছেই। তিনি যেহেতু নাম্বার নাইন অনেক বারই তিনি গোলমুখে ছিলেন। মিডফিল্ডারদের উচিত তার প্রতি আরো বেশি বল বাড়ানো। অনুশীলনে কোচ এ নিয়ে কাজ করলে সামনে আরো বেশি গোল পাবে সে।’
বিজ্ঞাপন

সুলিভান ব্রাদার্স অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে আলোচনায়। রোনান ও ডেকলানের বড় ভাই কুইন সুলিভানকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল। তিনি আমেরিকায় মেজর সকার লিগ খেলছেন ও জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা নেই।
রোনান ও ডেকলানের ছোট ভাই কাভানের বয়স ১৮। তিনি আমেরিকা অ-১৭ দলের হয়ে খেলেছে এবং জার্মান পাসপোর্ট রয়েছে। কাভানের চেয়ে একটু বড় যমজ ভাই রোনান এবং ডেকলান। তারা ফিলাডেলফিয়া একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন। তারা দুই জনই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করায় বাফুফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছে। রোনানের মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান। রোনান ও ডেকলানের নানী সুলতানা আলমের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের মাধ্যমেই তাদের বাংলাদেশের হয়ে খেলা। রোনান অভিষেকে জোড়া গোল করে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। ডেকলানের এখনো অভিষেক হয়নি।
এজেড/এইচজেএস