ফিফা প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ব্রাজিল। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের এই দ্বৈরথ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে, যদিও গ্যালারি দেখে সেটি ব্রাজিলের মাঠও মনে হতে পারে! যেখানে সেলেসাওদের হারের ম্যাচেও দলের বাইরে থাকা নেইমারের নামে স্লোগান শোনা গেছে। যা নিয়ে পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও তারকা মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো।
বিজ্ঞাপন
বোস্টনের উপকূলবর্তী ফক্সবোরো জিলেট স্টেডিয়ামে ব্রাজিল দ্বিতীয় গোল হজমের পর সমর্থকরা নেইমারের নাম ধরে কোরাস গাইতে থাকেন। ম্যাচটিতে দুই দফা পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল এক গোল দিয়ে হারের ব্যবধান কমায়। চোটের বিতর্ক ছাপিয়ে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ৩২ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। আরেক গোল আসে লিভারপুল ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকের কাছ থেকে। বিপরীতে ব্রাজিল ব্যবধান কমায় ডিফেন্ডার ব্রেমারের গোলে।
খেলা শেষে আলোচনা শুরু হয় ম্যাচটিতে অনুপস্থিত সান্তোস তারকা নেইমারকে নিয়ে। তিনি আনচেলত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাবেন কি না তা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নের একটি। যার জবাবে আনচেলত্তি বললেন, ‘এখানে যারা আছে আমাদের উচিত তাদের নিয়ে কথা বলা, যারা খেলেছে, নিজের সবটুকু দিচ্ছে, আগাচ্ছে ধাপে ধাপে এবং কঠোর পরিশ্রম করছে। আমি (তাদের নিয়ে) সন্তুষ্ট। এখানে (দলে জায়গা পেতে) প্রচুর প্রতিযোগিতা চলছে।’
— Sudanalytics (@sudanalytics_) March 26, 2026
বিজ্ঞাপন
নেইমার নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া মেগা ইভেন্টের স্কোয়াডে জায়গা পেতে মরিয়া। যদিও সান্তোসের জার্সিতে নিজের ফর্মও খুঁজে ফিরছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অবশ্য তার ওপর আস্থা রাখছেন সতীর্থ ক্যাসেমিরো, ‘আমরা নেইমারের যোগ্যতা সম্পর্কে জানি। সে জাতীয় দলের জন্য অপরিহার্য, বিশেষ করে যখন ফর্মে থাকে। আমার প্রজন্মের কাছে তার জায়গা শীর্ষ তিনে– ক্রিশ্চিয়ানো (রোনালদো), (লিওনেল) মেসি এবং নেইমার। আমি তার কাছের বন্ধু, যদিও এটি আমার বিষয় নয় যে দলে কারা থাকবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা অন্যতম প্রধান দুই তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়া থাকলেও, ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এমন কেন সেই আলোচনাও চলছে। রাফিনিয়াকে অবশ্য বিরতির পরপরই তুলে নেওয়া হয় মাংসপেশির চোট পাওয়ায়। দুই শিষ্যের পক্ষ নিয়ে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘আমার মতে রাফিনিয়া খুব ভালো খেলেছে। প্রথমার্ধের শেষদিকে মাংসপেশির অস্বস্তিতে ভোগায় তাকে বদলি করা হয়। তবে সে অনেক সুযোগ তৈরি করেছে এবং বল নিয়ে তার মুভমেন্টও খুব ভালো ছিল। ভিনিও সবসময়ই চেষ্টা করে, সবসময়ই পার্থক্য গড়ে দেয় সে। একজন স্ট্রাইকার সবসময় গোল করতে পারবে না, তবে উভয়েই যার যার কাজ ভালোভাবে করেছে।’
বিজ্ঞাপন
মার্চ উইন্ডোতে ব্রাজিলের আরেকটি ম্যাচ বাকি। যেখানে আগামী মঙ্গলবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। সেই ম্যাচে রাফিনিয়া খেখলতে পারবেন কি না সেটি আজ (শুক্রবার) জানা যাবে। ফ্রান্স ম্যাচে রাফিনিয়ার বদলি নেমেছিলেন লুইস হেনরিক। এরপর ম্যাচের পরিস্থিতিও বদলেছে, গতি আসে ব্রাজিলের খেলায়। আনচেলত্তি বলছেন, ‘আজকের ম্যাচ থেকে এটা স্পষ্ট যে, আমরা বিশ্বের যেকোনো সেরা দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারব। এ নিয়ে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’
ম্যাচ হারলেও, শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা লড়াই করেছে বলে তৃপ্ত কোচ আনচেলত্তি, ‘আমরা খুবই শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলেছি, যাদের অনেক দক্ষতা আছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। বিপরীতে প্রতিপক্ষ দল জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সময় নষ্ট করেছে। আমার বিশ্বাস বিশ্বকাপে আমরা নিজেদের সকল শক্তি নিয়ে লড়াই করতে পারব।’
এএইচএস
