World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

‘অনুভূতিহীন হয়ে গেছি’, বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর ইতালি কোচ

‘অনুভূতিহীন হয়ে গেছি’, বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর ইতালি কোচ

আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলো ইতালি। ২০২৬ বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪–১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র ছিল।

ম্যাচ শেষে ইতালির কোচ জেন্নারো গাত্তুসো নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি। “এটা সত্যিই দুঃখজনক, কিন্তু এটাই ফুটবল। এটা বড় একটা ধাক্কা। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত, কিন্তু অনুভূতিটা খুব কষ্টের,” বলেন তিনি।

গাত্তুসো আরও বলেন, “আজ কেউ যদি আমাকে সূঁচ ফোটাতো, রক্তই বের হতো না, আমি কিছুই অনুভব করছি না। কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু যেন অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। এই জয়টা আমাদের, আমাদের পরিবার, খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি রেফারিং বা অন্য কিছু নিয়ে কথা বলতে চাই না। ফুটবলে এমনটা হয়, তবু মেনে নেওয়া কঠিন।”

এই হারের ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পারল না ইতালি—যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাত্তুসো বলেন, “আমরা আজ মাঠে সবকিছু দিয়েছি। খেলোয়াড়রা হৃদয় দিয়ে লড়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা বিশ্বকাপে যেতে পারলাম না। ব্যক্তিগতভাবে আমি দুঃখিত—আমি এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি।”

ইতালির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ময়েস কিন। প্রথমার্ধের ১৫তম মিনিটেই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে লিড এনে দেন ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে ম্যাচের একপর্যায়ে ১০ জনে নেমে আসে দলটি, যা তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।

গাত্তুসোর ভাষায়, “এমন হার প্রাপ্য ছিল না। আমরা কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু এটাই ফুটবল—কখনো আনন্দ, কখনো কষ্ট।” নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি গাত্তুসো। আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লক্ষ্য পূরণ না হলে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইতালিকে বিশ্বকাপে নেওয়া—সেটা আমরা পারিনি।”

২০০৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতা ইতালির জন্য এই ব্যর্থতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তাদের ফুটবল কাঠামো ও পরিকল্পনা নিয়ে। একসময় বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত দলটির জন্য এটি শুধু একটি হার নয়—বরং দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ইঙ্গিত।

এফআই