বাংলাতে একটা প্রবাদ আছে, ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো’। ঠিক যেন এমনটাই করেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স। নিরাপত্তার শঙ্কার কথা দেখিয়ে অন্যায়ভাবে বাদ দেয় কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। তার জায়গায় নেওয়া হয় জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানিকে। কিন্তু ফিজের অভাব কতটুকু পূরণ করতে পারছেন জিম্বাবুয়ের পেসার।
বিজ্ঞাপন
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর এক অজানা অভিশাপে ডুবেছে কলকাতা। ইনজুরির কারণে হার্ষিত রানা ও আকাশ দীপকে হারিয়েছে দলটি। বেশি দামে কেনা মাথিশা পাতিরানাকেও পায়নি শাহরুখের দল। ফলে নতুন করে তিনজনকে স্কোয়াডে ভিড়িয়েছে কলকাতা।
তাতে লাভ হয়েছে কি? মোটেও নয়। জোড়াতালি দেওয়া পেস বোলিং ইউনিট নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছে কেকেআর। উদ্বোধনী ম্যাচে কলকাতার বোলারদের তুলোধুনো করেছে মুম্বাইয়ের ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা যায় একই চিত্র।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে কলকাতার বোলারদের পাত্তাই দেননি অভিষেক শর্মা ও ট্রাভিস হেড। পাওয়ার প্লেতেই ৮৪ রান তুলে কেকেআরের বোলিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় এই জুটি। স্লগ ওভারেও অবস্থা ছিল যাচ্ছে-তাই! শেষ ৬ ওভারে ৭১ রান তুলেছে ইশান কিশানের দল। ম্যাচে কলকাতার তিন পেসার তাদের ১২ ওভারে খরচ করেছেন রেকর্ড ১৩৬ রান!
বিজ্ঞাপন
অথচ এই কঠিন সময়েই পার্থক্য গড়ে দিতে পারতেন মোস্তাফিজুর রহমান। স্লগ ওভারে রান আটকে রাখা এবং উইকেট তোলায় বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা। রানবন্যার পাকিস্তান সুপার লিগেও দুই ম্যাচে তিনি খরচ করেছেন মাত্র একটি বাউন্ডারি এবং ইকোনমি রেটে পেসারদের মধ্যে শীর্ষেই আছেন।
বোলারদের এই চরম ব্যর্থতার দিনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ গড়ে তোলে ২২৬ রানের পাহাড়। জবাবে ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় কলকাতা। ৬৫ রানের বিশাল জয়ে লিগে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল ইশান কিশানের দল। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে রয়েছে শাহরুখের কলকাতা।
এমএমএম/
