বিজ্ঞাপন

চীনের বিপক্ষে লড়াকু হার বাংলাদেশের

অ+
অ-
চীনের বিপক্ষে লড়াকু হার বাংলাদেশের

বাংলাদেশের ফুটবলে চলছে ব্যস্ততা। গতকাল সাফ অ-২০ পুরুষ দল মালদ্বীপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজ নারী অ-২০ দল থাইল্যান্ডে এশিয়ান কাপ খেলেছে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশুন্য ড্র ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ ২ গোল হজম করে।

বিজ্ঞাপন

মাস খানেক আগে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী দল অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলে। এশিয়া কাপের অভিষেক ম্যাচই ছিল নয় বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচেও বাংলাদেশ লড়াকু মনোভাব দেখিয়ে ০-২ গোলে হেরেছিল। সিনিয়র দলের সঙ্গে এই ম্যাচের খানিকটা সাদৃশ্য রয়েছে। ঐ ম্যাচে চীন প্রথমার্ধে দুই গোল করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে গোল করতে পারেনি। অ-২০ টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করেছে। 
 
সিনিয়র দলের মতো চীনও অত্যন্ত শক্তিশালী দল বয়স ভিত্তিক নারী ফুটবলে। সেই চীনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুরো ম্যাচ জুড়েই দারুণভাবে লড়েছে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করেছেন। প্রথমার্ধে চীনকে রুখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর সম্ভব হয়নি। বিরতির এক মিনিট পরই চীন গোল পায়। ডান প্রান্ত থেকে করা আক্রমণে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল বক্সে দিলে সহজ প্লেসিংয়ের বল জালে জড়ান চাইনিজ মিডফিল্ডার ইউও।

বাংলাদেশ গোল সমতা আনার মতো আক্রমণ বা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। চীন ব্যবধান বাড়ানোর জন্য ছিল মরিয়া। ৮২ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান ওয়াং। ৩০ গজ দূর থেকে জোড়ালো শট বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আটকানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। তার হাতে লেগেই বল জালে জড়ায়। মিনিট পাঁচেক পর আরেকটি সহজ সুযোগ চীন মিস করলে ২-০ স্কোরলাইনে খেলা শেষ হয়।   

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলে নিয়মিত গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা। এশিয়ান কাপে রুপ্নার পরিবর্তে মিলি আক্তারকে নামিয়ে চমক দেখান কোচ পিটার বাটলার। তিনি প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ায় চীনের বিপক্ষে ভালো কিপিং করেন। চীনের সিনিয়র দলের বিপক্ষে খেলায় মিলির আজকের ম্যাচটি তুলনামূলক সহজই হয়েছে। নিজেদের বক্সে একাধিকবার ১:১ দারুণ সেভ করেছেন মিলি। কর্নার, ফ্রি কিক থেকেও লাফিয়ে লাফিয়ে দুর্দান্তভাবে গোল রক্ষা করেছেন। 

বিজ্ঞাপন

চীন বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিমত্তায় অনেক এগিয়ে। তাই আজ ম্যাচে বাংলাদেশের হাফেই খেলা হয়েছে প্রায় পুরো সময়। ফরোয়ার্ড সাগরিকা শুধু উপরের দিকে ছিলেন। কাউন্টার অ্যাটাকে কয়েক বার বল চীনের দিকে নিয়েছিলেন। দুই-একবার ছাড়া চীনের গোলরক্ষকের কাছে বাংলাদেশ সেভাবে বল পাঠাতে পারেনি। 

বাংলাদেশ এএফসি অ-২০ নারী টুর্নামেন্টে  প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা এখনও জিইয়ে রেখেছে। দুই ম্যাচ পর তাদের পয়েন্ট শূন্য ও গোল ব্যবধান -৩। ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলে কিংবা ড্র করলে গ্রুপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত হতে পারে। তখন অন্য দুই গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর চেয়ে এগিয়ে থাকলে কোয়ার্টারে খেলবে বাংলাদেশ। যা হবে নারী ফুটবলে আরেকটি ইতিহাস।

ম্যাচ জিতলেও চীন বাংলাদেশের লড়াকু মনোভাবে মুগ্ধ। তাই খেলা শেষ হওয়ার পরপর বাংলাদেশ ডাগ আউটের সামনে চাইনিজ ফুটবলাররা কুর্ণিশ প্রদর্শন করেন। অস্ট্রেলিয়ায় সিনিয়র নারী এশিয়া কাপের ম্যাচের পরও বাংলাদেশ চীনের থেকে এমন সম্মান পেয়েছিল। 

বিজ্ঞাপন

এজেড/এইচজেএস