একটি গল্প, যা লেখা থাকবে ইতিহাসের বইয়ে। জেনিকায় ফুটবলের অবিস্মরণীয় রাত। উত্তেজনায় হাজারো দর্শক-সমর্থকরা সিটে যেন বসতেই পারছিলেন না। এরই মাঝে এক ১৪ বছর বয়সী বসনিয়ান বলবয় চোরের ভূমিকায়, যা তাকে ‘বসনিয়ার হিরো’ বানিয়ে দিয়েছে। আর তার চুরির খেসারত দিতে হয়েছে ইতালিকে, টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ তারা।
বিজ্ঞাপন
এই বলবয়ের নাম আভান সিজমিক। পেনাল্টি শুটআউট চলাকালে ইতালিয়ান গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুমার ‘চিটশিট’ চুরি করে রাতারাতি ‘জাতীয় বীর’ হয়ে গেছে। পেনাল্টি শুটআউটে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পরাজিত করে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপে উঠতে পেরে বসনিয়া যখন উদযাপনে মত্ত, তখন সিজমিকের গল্প শিরোনামে। স্থানীয় ক্লাব সেলিচের হয়ে খেলে সে। সার্গেজ বারবারেজের স্কোয়াডে সেদিন সে ছিল না। তাই বলবয় হিসেবে ইলেক্ট্রিক বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে ছিল।

পেনাল্টি শুটআউটের উত্তেজনা যখন চরমে, তখন দোনারুমা ও বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিলির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ইতালিয়ান কিপারের ধারণা ছিল ভাসিলি সেটি চুরি করেছে। গত রোববার ভাসিলি বললেন, ‘দোনারুমা একটি কাগজ ছিঁড়ে ফেলতে চেষ্টা করছিল, যেখানে আমি ইতালিয়ান পেনাল্টি টেকারদের সম্পর্কে তথ্য টুকে রেখেছিলাম। ভাগ্য ভালো যে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম এবং একটা ফটোকপি সঙ্গে এনেছিলাম।’
বিজ্ঞাপন
সেই বাকবিতণ্ডার কারণ তখনো স্পষ্ট ছিল না। সিজমিক জানাল আসল কারণ। দোনারুমার তোয়ালের পাশে একটি কাগজের টুকরো দেখতে পায় সে। বুঝতে বাকি ছিল না সেখানে বসনিয়ান খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু লেখা আছে। তারপর নিজের কাজ করে ফেলে সে।
বসনিয়ান চ্যানেল ফেস টিভির এক প্রশ্নে এই খুদে বলবয় বলল, ‘আমি কাগজটা দেখতে পেলাম, তখনই বুঝলাম এটা কী ছিল। আমি সেটা তুলে নিয়ে লুকিয়ে ফেলি।’ সে আরও বলল, ‘সেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ছিল। ওই শিট ছাড়া দোনারুমাকে কেবল তার সহজাত প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে হতো।’
দোনারুমাকে নিয়ে সিজমিক আরও বলেছে, ‘সে খুবই হতাশ ছিল, রেগে ছিল। সে যখন তার তোয়ালে নিলো এবং দেখল শিট নেই। সে খুঁজতে থাকল, কিন্তু পায়নি।’
বিজ্ঞাপন

পরে কী ঘটেছিল, তা ইতিহাস। দোনারুমা কোনো পেনাল্টি ঠেকাতে পারেননি। বসনিয়া দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। ওই রাতের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় সিজমিককে প্রশংসায় ভাসিয়ে বার্তার বন্য বয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সে সেই মূল্যবান কাগজ নিয়ে বাসায় ফিরেছে, যে চিটশিট ম্যাচের ভাগ্য পাল্টে দিয়েছিল। স্থানীয় মিডিয়ার খবর, এই কাগজটি নিলামে তুলতে চাইছে সে এবং যে দাম পাবে, সেটা দাতব্য কাজে দিতে চায়। আরও খবর, মাসকট হিসেবে তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বসনিয়া।
এফএইচএম/
