গেল মাস খানেক ধরেই গুঞ্জন ছিল ভেঙে দেওয়া হবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ। এরপরই নতুন করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি।
সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে বিবিসির অ্যাড-হক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ ভাঙার খবর আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে এনএসসি। একই সঙ্গে অ্যাড-হক কমিটির নামও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
অ্যাড-হক কমিটিতে জায়গা পাওয়ার পর নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন একাধিক সদস্য। শুরুতে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আবারও বিসিবিতে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা সুন্দর একটা নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করব। যেটার জন্যই এখন থেকে চেষ্টা থাকবে। আর বিসিবির হারানো যে গৌরব সেটা ফিরিয়ে আনতে চাই। ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের যে একটা নাম খারাপ হয়েছে সেটা থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করব। ক্রিকেটকে আমরা আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে চাই।'
বাবু নিজে গ্রাউন্ডস এবং ফ্যাসিলিটিজ বিভাগে কাজ করার কথা জানিয়ে বলেন, 'খুব দ্রুত এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে (কে কোন বিভাগে)। আগামীকালকে যে সভা রয়েছে সেখানে এটার সিদ্ধান্ত হতে পারে। ঘরোয়া লিগ নিয়েও কাল জানা যাবে। আমার ব্যক্তিগতভাবে গ্রাউন্ডস এবং ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ স্বাচ্ছন্দ্য। কেননা আমি আগেও কাজ করেছি এখানে। তবে কে কোন বিভাগ হবে সেটা কালকে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।'
এদিকে আবারো বোর্ডের দায়িত্বে ফেরত আসা পরিচালক তানজিল চৌধুরি বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ। যে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই পেয়েছি দায়িত্ব। ক্রিকেটের সাথে যুক্ত থাকাটাও একটা গর্বের বিষয়। এটাই আসলে ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে।'
তানজিল মিডিয়া কমিটির দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, 'কোন বিভাগের হয়ে কাজ করব এটা আসলে আমি ঠিক জানি না। আগে আমি গ্রাসরুট লেভেলের ক্রিকেটে ছিলাম এবং ক্লাব ক্রিকেটে ছিলাম। এই দুটোতে আমি আসলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। এ ছাড়া আমার ব্যাকগ্রাউন্ড ফিনান্স তো এই রিলেটেড যদি কোনো কমিটিতে যদি আমাকে রাখে ভালো। কারণ সেটাতে আমার স্কিল রয়েছে ভালো করার এখন দেখা যাক আর কি।'
প্রথমবারের মতো বোর্ড পরিচালক হওয়া মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, 'আজকে আমরা প্রথম বৈঠক করলাম। আলহামদুলিল্লাহ অনুভূতি তো ভালোই লাগছে। ক্রিকেটার সাথে থাকতে পারলে ভালো, আমরা সবসময় বলেছি সবার আগে ক্রিকেট থাকবে। একইসঙ্গে সবার আগে দেশের কথা চিন্তা করা উচিত। আর ঘরোয়া যে খেলা গুলো হচ্ছে না সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব মাঠের খেলায় ফেরানোর লক্ষ্য থাকবে।'
বিসিবির যেখানে প্রয়োজন সেখানেই কাজ করতে প্রস্তুত নান্নু, 'ক্রিকেটের উন্নয়নে যেখানে কাজে লাগাবে সেখানে কাজ করতে চাই। এতদিন ধরে বোর্ডে কাজ করেছি। আগামীকালকে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।'
কখনো বোর্ড পরিচালক হবে ভেবেছিলেন কি না? এমন প্রশ্নে নান্নু বলেন, 'না, ওরকম চিন্তা আসলে আসেনি মাথায় কখনো। তবে ডিজার্ভ তো করি, এতদিন ধরে যেহেতু কাজ করি। এটাতো আসলে এডহক কমিটি যতটুকু সময় পাব ভালো কাজ করার চেষ্টাই থাকবে।'
আরেক সদস্য মির্জা সালমান ইস্পাহানি আগেও কাজ করেছেন বোর্ডে। আবারো আসলেন। যদিও স্বশরীরে আজ ছিলেন না মিটিংয়ে। তিনি বলছিলেন, 'এটা আসলে এডহক কমিটি হয়েছে তিন মাসের জন্য। নতুন ইলেকশনের পরেই এই কমিটি তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিবে। ভালোভাবে কাজ করাই প্রধান লক্ষ্য থাকবে।'
'আজকে প্রথম সভা হয়েছে এবং আগামীকাল আবার সভা হবে। সেখানে আসলে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আগে নিজেদের কাজ শুরু করি তারপর আসল বিস্তারিত বলতে পারব। আমাকে যেখানে কাজে লাগাবে সেখানে করতে চাই। আমি আসলে চট্টগ্রামে আছি অনলাইনে যুক্ত ছিলাম।'-যোগ করেন তিনি।
দেশের বাইরে থাকায় ফাহিম সিনহাও যুক্ত হয়েছিলেন অনলাইনে। তিনি বলছিলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আবারও বোর্ডে আসতে পেরে ভালো লাগছে। প্রথম দিন আজকে নিজেদের পরিচয় পর্ব ছিল একপ্রকার। তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আগামীকালকে আলোচনা হবে সব বিষয়ে কে কোন বিভাগে যাব। আজকে বিভাগ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি কালকে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।'
পরে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে ফাহিম বলেন, 'আবারও বোর্ডে আসলাম তবে এটা চ্যালেঞ্জিং। আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং আরকি। হ্যাঁ অবশ্যই এজন্য আর কি যে একটা বোর্ড ভেঙ্গে যাওয়ার পরে নতুন বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়া। এরপর ইলেকশন পর্যন্ত পার করা এটা কিন্তু চ্যালেঞ্জিং, আশা করছি ভালো করতে পারব।'
এসএইচ/এইচজেএস
