বিজ্ঞাপন

‘উন্নত জীবনের খোঁজে’ টুর্নামেন্টের মাঝপথে পালিয়ে গেলেন ৭ ফুটবলার

অ+
অ-
‘উন্নত জীবনের খোঁজে’ টুর্নামেন্টের মাঝপথে পালিয়ে গেলেন ৭ ফুটবলার

২০০৮ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে অংশ নেয়নি ইরিত্রিয়া। এর কারণে হিসেবে ফুটবলারদের দল থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতাকে উল্লেখ করা হয়। ১৮ বছর পর সেই নিজেদের অবস্থান বদলেছে ইরিত্রিয়া সরকার। ২০২৭ আফকনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তারা বাছাইপর্ব খেলছে। কিন্তু আবারও একই বিপত্তিতে পড়েছে দেশটি, দেশের বাইরে খেলার সুযোগ পেয়েই পালিয়েছেন ৭ ফুটবলার।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ইরিত্রিয়া। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই লেগেই হেরে যায় দেশটি। ওই সময় অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ইরিত্রিয়ান ফুটবলার সুযোগ বুঝে আর নিজ দেশে ফেরেননি বলে অভিযোগ করা হয় সরকারের তরফে।  ফুটবলাররা পালিয়ে যাবেন এই আশঙ্কায় এরপর দেশটির ফুটবল দল বাইরে খেলার অনুমতি ছিল না, ফলে ৭ বছর তাদের আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেখা যায়নি। গত ২৫ মার্চ আফকনের বাছাইপর্বের প্রথম লেগে ২-০ গোলে জয়ের পর ৩১ মার্চ দ্বিতীয় লেগে এসওয়াতিনিকে ২-১ গোলে হারায় ইরিত্রিয়া।

এসওয়াতিনির বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, খেলা শেষ হলেও সেখান থেকে ইরিত্রিয়ার ৭ ফুটবলার দেশে ফেরেননি। এ বিষয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ইরিত্রিয়া জাতীয় দলের কোচ হিশাম ইয়াকান জানিয়েছেন, ‘পলাতক ফুটবলারদের বেশিরভাগ বদলি খেলোয়াড়। আমার মনে হয় না তারা আর ফুটবলা খেলা চালিয়ে যাবে।’ ৩১ মার্চ দ্বিতীয় লেগের পর থেকেই তারা লাপাত্তা। কোচের মতে– এসব ফুটবলার ধনী দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সুযোগ খোঁজার চেষ্টা করবেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৯ সালে ইরিত্রিয়া ছেড়েছিলেন জর্জ ঘেব্রেসলাসি। বর্তমানে তিনি ইরিত্রিয়ান শরণার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। ফুটবলারদের পালানোর তথ্য নিশ্চিত করে তিনি রয়টার্সকে বলছেন, ‘এমন কিছু প্রায় সময়েই ঘটে। যা ইরিত্রিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কেও আমাদের ধারণা দেয়। আমরা মনে করি পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। নিজেদের ভূমিতেই মানুষরা আশাহত হয়ে পড়ছে।’

বিষয়টি নিয়ে ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমেন গেব্রেমেসকেল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া ইরিত্রিয়া জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্রকে রয়টার্স থেকে ইমেইলে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাড়া দেননি তিনি। তবে জাতীয় দলের এক সূত্র জানান, ‘এই ফুটবলাররা দরিদ্র। প্রথমবার তারা বাইরে খেলতে গিয়েছিল। তারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের উপার্জনে উন্নতি আনতে চায়।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ইরিত্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ার্কির শাসন চলছে। তার পরিচালিত সরকার দমন-পীড়নমূলক বলে বরাবরই জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এদিকে, ২০২৭ সালে কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডায় বসবে আফকনের পরবর্তী আসর।

বিজ্ঞাপন

এএইচএস

বিজ্ঞাপন