বোলিংয়ের ধরন নিয়ে আগেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিক। প্রথমে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কথা উঠলে তিনি হাতে অকৃত্রিম সমস্যার কথা জানিয়েছেন। পরবর্তীতে তার বোলিং করার মাঝে বিরতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে চলমান পিএসএলে। বল ছাড়ার আগমুহূর্তে তার থেমে যাওয়ার কৌশল দেখে বিরক্ত হয়ে পড়েন ব্যাটার ড্যারিল মিচেল।
বিজ্ঞাপন
গতকাল (শুক্রবার) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স বনাম রাওয়ালপিন্ডিজ ম্যাচে ওই ঘটনা ঘটে। রাওয়ালপিন্ডিজের নিউজিল্যান্ড তারকা মিচেল তখন ব্যাট করছিলেন, কোয়েটার পাকিস্তানি স্পিনার তার উদ্দেশে বল করার আগমুহূর্তে খানিক বিরতি দিলে তাকে কিছুটা হতভম্ব দেখা যায়। প্রথমবার হাত তুলে অপ্রস্তুত বলে জানান দেন মিচেল। পরেরবার তিনি ব্যাটিংয়ের জায়গা থেকে যখন সরে যান, ততক্ষণে বল ডেলিভারি করে ফেলেছেন উসমান। যা নিয়ে স্পষ্ট নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান ২৮ বছর বয়সী এই স্পিনার।
একপর্যায়ে আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত গিয়ে মিচেলকে বারবার বোলারের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর বিষয়ে বোঝাতে থাকেন। এরপর শান্ত হয় উভয়পক্ষ। যা নিয়ে হতাশা দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা বলেন, ‘সে কি তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে? আমার মনে হয় আম্পায়ারদেরই এই বিষয়টি সমাধান করতে হবে। আমার মতে তাকে (মিচেল) প্রস্তুত থাকতে হবে। ড্যারিল মিচেলকে ভালোভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে।’
— Taimoor Zaman (@taimoor_ze) April 10, 2026
বিজ্ঞাপন
ওই সময় ঠিক কী ঘটেছিল তা নিয়ে ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন উসমান তারিক। ডানহাতি এই স্পিনার বলেন, ‘যখন ড্যারিল মিচেল (ব্যাট না চালিয়ে) পেছনে সরে যায়, আমি তার কাছে কারণ জানতে চাই। সে জানায় “তুমি বিরতি নিচ্ছ”। তখন আমি জবাবে বলি– “আমি দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার এমনকি চতুর্থবারও এভাবে ‘পজ’ করতে পারি। তারপর সে যে ব্যাটিং থেকে এভাবে বারবার সরে যেতে পারে না বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। বলা হয়– উসমানের অ্যাকশন (ক্রিকেটীয়) আইনে বৈধ।’
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আউট হওয়ার পর যা নিয়ে অস্তুষ্টি জানান অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন। অবশ্য পিএসএলে চাকিংয়ের অভিযোগ তোলা হয় উসমানের বিরুদ্ধে। প্রতিবারই তিনি কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। আম্পায়ারদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষাও দিতে হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুনরায় বোলিংয়ে ফেরেন এই অফস্পিনার। উসমানের দাবি– ‘আমার হাতে দুটি কনুই, ফলে বোলিংয়ের সময় হাত প্রাকৃতিকভাবে বেঁকে যায়। আমি (বোলিং অ্যাকশনের) পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণও হয়েছি। সবাই মনে করে আমি হাত বাঁকিয়ে ফেলি, কিন্তু দৃশ্যমান ওই বাঁক সম্পূর্ণ জৈবিক ব্যাপার।’
বিজ্ঞাপন
তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক উঠার সমর্থন পেয়েছেন ভারতীয় সাবেক তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। তিনি বলেন, ‘ব্যাটার তো আম্পায়ার বা বোলারকে না জানিয়েই সুইচ হিট বা রিভার্স শট খেলতে পারে। অথচ তিনি অন্যদিকে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন, কেবল বোলারের ওপরই বিধিনিষেধ কেন? এমনকি বোলার কোন হাতে বল করবেন, সেটাও আম্পায়ারকে না জানিয়ে বদলাতে পারেন না! আগে সেই নিয়মটা বদলানো উচিত। ক্রিজে ‘পজ’ বৈধ কি না– আমার বিশ্বাস এটি পুরোপুরি বৈধ, কারণ এটি তার স্বাভাবিক অ্যাকশনের অংশ।’
এএইচএস
