আফগানিস্তানের ক্রিকেট উত্থানের অগ্রপথিক রশিদ খান। দেশের প্রতি তার ঈর্ষণীয় টানের দৃষ্টান্ত আগেও দেখা গেছে। এবার তিনি এক অজানা তথ্য জানালেন তার বই ‘রশিদ খান: ফ্রম স্ট্রিটস টু স্টারডম’-এ। ভারতসহ দুটি দেশ থেকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব পেয়েছিলেন আফগান লেগস্পিনার। সুযোগ ছিল তাদের জার্সিতে খেলার। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে নিজের মাতৃভূমির প্রতি অনুগত থেকেছেন।
২৭ বছর বয়সী রশিদ আসন্ন বইটিতে বর্ণনা করেছেন, ২০২৩ সালের আইপিএল চলাকালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলবদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বইয়ে রশিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমি অস্ট্রেলিয়া ও ভারত উভয় দেশ থেকে নাগরিকত্ব ও খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু আমি তাদের বলে দিয়েছিলাম, ‘যদি আমার দেশের হয়ে খেলতে না পারি, তাহলে অন্য কোনো দেশেরও হয়ে খেলব না।”
অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাব নিয়ে বেশি কিছু না বললেও ভারতের ব্যাপারে বিস্তারিত বলেছেন রশিদ। ওই সময় তিনি গুজরাট টাইটান্সের হয়ে আইপিএল খেলছিলেন। দলের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করতে চান।
তিনি সেই দিনের কথা তুলে ধরেছেন, ‘আমি গেলাম এবং তাকে সালাম দিলাম। তারপর কথা শুরু হলো। তিনি বলছিলেন: “তোমার দেশে (আফগানিস্তান) পরিস্থিতি খুব খারাপ। ভারতে এসে থাকো। আমরা তোমাকে ভারতীয় নথিপত্র দেবো, এখানেই থাকবে, এখানেই ক্রিকেট খেলবে।’ আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম, তিনি কী বলছিলেন এবং বুঝতে পারছিলাম না কী বলব। কিন্তু আমি হেসে বললাম, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি আমার দেশ আফগানিস্তানের হয়ে খেলছি।”
এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। আফগানিস্তানের প্রতি রশিদের অনুগত থাকার ঘটনা আগেও শিরোনাম হয়েছে, বিশেষ করে ২০১৮ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার সময়। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে এক ম্যাচে অবিশ্বাস্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করেন তিনি। ১০ বলে ৩৪ রান করার পাশাপাশি তিন উইকেট নিয়ে মাচ ঘুরিয়ে দেন।
ওই পারফরম্যান্সের পর ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু হয়, ভক্তরা তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সরকারকে আবেদন জানায়। বেশ কিছু পোস্টে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ট্যাগ করা হলে তিনি জানান, নাগরিকত্ব বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখভাল করে। ওই ক্যাম্পেইন আফগানিস্তান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দেন, রশিদ তাদের জাতীয় গর্ব এবং দেশটি তাদের ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হাতছাড়া করবে না।
রশিদ তার দেশের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানান এবং আফগানিস্তানের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বলেন। নানগারহারের ধুলোমাখা রাস্তা থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হওয়ার গল্পটাও আছে তার এই বইয়ে। বাদ পড়েনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের উত্থানের কথা। আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ট্রায়ালে উপেক্ষিত হওয়ার পর কীভাবে বিশ্ব তারকা বনে গেলেন এবং আইসিসির দশকসেরা খেলোয়াড় হলেন, সেই গল্পও বলেছেন রশিদ তার বইতে।
এফএইচএম
