বিজ্ঞাপন

বাবার হাতে মার খাওয়া সেই ছেলেটি এখন ব্যাটারদের ত্রাস

বাবার হাতে মার খাওয়া সেই ছেলেটি এখন ব্যাটারদের ত্রাস

একটু ফুরসত মিললেই হলো, বাসায় খুঁজে পাওয়া যেত না প্রিন্স যাদবকে। দেখা যেত, পাড়ার কোনো এক গলি বা উঠোনে টেনিস বলের ক্রিকেট খেলছেন। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ছেলের এমন ‘ক্রিকেট আসক্তি’ মেনে নিতে পারতেন না বাবা। প্রায় সময় বাবার হাতে মার খেতেন প্রিন্স। দিল্লির রাজধানীর দক্ষিণ পশ্চিম উপশহর ও বীরেন্দর শেবাগের জন্মস্থান নাজাফগরের দরিয়াপুর খুর্দ গ্রামে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত প্রত্যেকটি টেনিস বল ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া-র সঙ্গে আলাপচারিতায় দুষ্টু হাসি হেসে প্রিন্স বললেন, ‘বাসায় অনেক মার খেতাম।’ লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে চলতি আইপিএল খেলা এই পেসার বললেন, ‘আমি কখনো পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। আমার মনে এমন চিন্তা কখনো আসেনি। আমি শুধু টেনিস বল ক্রিকেট খেলা উপভোগ করতাম, আর কিছুই নয়।’

প্রথম দেখায় প্রিন্সকে ফাস্ট বোলার মনে হবে না। খুব বেশি লম্বা নন এবং ক্ষীণ শারীরিক গড়নের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার বাবা ছিলেন রেলওয়ে পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা। ছেলেকে নিয়ে তাই উদ্বেগ অযৌক্তিক ছিল না। পরিবারের সিংহভাগ উপার্জন আসতো গম চাষ থেকে, সম্ভবত প্রিন্সও সেদিকেই হাঁটছিলেন। কিন্তু ২৪ বছর বয়সে এসেও যখন টেনিস বল ক্রিকেট খেলছেন, তখন আইপিএলে আনক্যাপড ভারতীয় ফাস্ট বোলার হিসেবে দ্রুত নজর কাড়লেন। 

প্রিন্স বললেন, ‘আমি এখনো টেনিস বল ক্রিকেট খেলি, গত বছরের আইপিএল খেলে আসার পরও। আমি সবার কথা বলতে পারব না, কিন্তু এটা আমার হাতের গতি বাড়াতে সাহায্য করে, কারণ টেনিস বল দিয়ে দ্রুত বল করতে গেলে অনেক শক্তি লাগে। ইয়র্কারে গতি লাগে।’ এরপর সঙ্গে সঙ্গে যোগ করলেন, ‘যখন আমি ক্রিকেটের বাইরে থাকি, আমি ক্ষেতে যাই। আমার চাষ করতে ভালো লাগে। কয়েকদিন আগেই আমরা গম কেটেছি।’

গত রোববার পাঞ্জাব কিংস ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেন প্রিন্স। চার ওভারে ২৫ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। চলতি আইপিএলে ৬ ম্যাচে সব মিলিয়ে ১১ উইকেট নেন তিনি। দিল্লি ক্রিকেটে ইয়র্কারের জন্য বেশ পরিচিত এই পেসার। লখনউ বোলিং কোচ ভারত অরুণের দাবি, একজন বিশেষ ফাস্ট বোলার হওয়ার জন্য সব উপাদান তার আছে, ‘আমরা দেখেছি সে বল সুইং করতে পারে এবং বৈচিত্রও আছে। স্লোয়ার বলে ভালো বৈচিত্র আছে এবং ইয়র্কারেও। বল করার সুযোগ পেলে সে এই দক্ষতাগুলো শানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’

উন্নতির জায়গা যে এখনো রয়েছে, সেটি বুঝতে পারেন প্রিন্স। তাই তো সুযোগ পেলেই লখনউর প্র্যাকটিস সেশনে গিয়ে মোহাম্মদ শামির কাছে টোটকা নেন। গত বছর লখনউ মেন্টর জহির খানের সঙ্গে থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন।

প্রিন্সের এই উত্থান যেন চোখের পলকে ঘটে গেল। কিন্তু তিনি বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন, যখন বিসিসিআই বয়স জালিয়াতির কারণে ২০২০ সালে তাকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছিল। তখন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলছিলেন তিনি। প্রিন্স সেই স্মৃতিচারণ করলেন, ‘ওটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার পর্ব। আমার পরিবার আমাকে সমর্থন দিয়েছে কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল আমি ক্রিকেট খেলে আমার জীবনে কিছু একটা করতে পারব। সাবেক দিল্লি ফাস্ট বোলার প্রদীপ সাংগোয়ান আমাকে ওই সময় ট্রেনিং করতে বললেন। দুই বছর আমি তার সঙ্গে চুপচাপ অনুশীলন করেছি এবং টেনিস বল ক্রিকেট খেলেছি। এ কারণেই নিষেধাজ্ঞা শেষে আমি পুরোদমে কাজ করতে পেরেছি।’

প্রিন্স এখন বিসিসিআইর নজরে থাকা ফাস্ট বোলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। ভারতের ফাস্ট বোলিংকে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তার মধ্যে দেখা গেছে। কিন্তু আপাতত তার জন্য শান্তির ব্যাপার হলো, একসময় যে বাবার হাতে মার খেতেন, তিনিই ছেলের খেলা দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকেন।

এফএইচএম