বিজ্ঞাপন

‘মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করা স্বপ্নের’

‘মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করা স্বপ্নের’

বিগত কয়েক বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান এবং ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন অমিত হাসান। দীর্ঘ অপেক্ষা আর নিরলস পরিশ্রমের পর অবশেষে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি। জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে তার আন্তর্জাতিক পথচলা।

দলে ডাক পাওয়ার পরই ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনের মুখোমুখি হন অমিত হাসান। জানিয়েছেন প্রথমবার দলে ডাক পাওয়া, নিজের ডিসিপ্লিনারি জীবন এবং আইডলসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

অবশেষে ডাক পেলেন জাতীয় দলে, কেমন লাগছে?

অমিত: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো লাগছে। দীর্ঘ সময় ধরে যেদিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, আজকে সেটা পেয়েছি। এতদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্যই চেষ্টা করছিলাম। আজকে জানতে পারলাম যে দলে আছি, খুবই ভালো লাগছে।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ আসবে, এমনটা ভেবেছিলেন কি?

অমিত: না, এমনমটা কখনও চিন্তা করিনি। আমি আপনাকে আগেও বলেছি, আমি সবসময় বর্তমানে থাকতেই পছন্দ করি। সবশেষ যখন বিসিএল খেললাম, সেটা নিয়ে চিন্তা করছিলাম। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে থাকব বা খেলব, এরকম কোনো চিন্তা আসলে করিনি।

দলে আপনার দায়িত্বটা কি থাকবে, সে বিষয়ে জানতে পেরেছেন?

অমিত: না, এরকম কোনো কথা হয়নি। তবে এনসিএল শেষ হওয়ার পরে শান্ত ভাই একদিন আমাকে ফোন করেছিলেন। তখন আমাকে বলেছিলেন যে, আমি করতেসি। এটা নিয়মিত করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং ধৈর্য না হারানোর কথা বলেন।

বছরের পর বছর লাল বলে রান করেছেন। আপনার কি মনে হয় যে, একটু দেরিতেই জাতীয় দলে ডাক পেলেন?

অমিত: না, আমার আসলে এমন কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। কারণ এখন সুযোগ এসেছে। আলহামদুলিল্লাহ, চেষ্টা করব দলের সঙ্গেই যুক্ত থাকার। খেলার সুযোগ পেলে অতীতে ঘরোয়াতে যেভাবে খেলেছি এবং রান করেছি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।

আপনার পছন্দের ফরম্যাট লাল বলের খেলা। সেই ফরম্যাট দিয়েই জাতীয় দলে। অনুভূতি কেমন?

অমিত: লাল বলের খেলাটা আমার ভালো লাগে এবং খুবই উপভোগ করি। আমি সাদা বলেও ভালো করার চেষ্টা করি। আমি যখন যেখানে যে বলে খেলি না কেন, ভালো করাই থাকে আমার মূল লক্ষ্য। আমি আসলে সব বলেই ভালো খেলতে চাই এবং উপভোগ করতে চাই।

আপনি খুবই ডিসিপ্লিন ক্রিকেটার। দ্রুত ঘুমিয়ে যান, আবার সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন। অনুশীলনটাও সময়মতো করেন…

অমিত: ডিসিপ্লিন জিনিসটা যে কোনো ক্রীড়াবিদের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় এটা মানার চেষ্টা করি। কারণ ডিসিপ্লিন না থাকলে আপনি বড় হতে পারবেন না।

জাতীয় দলে অনেকে ডাক পায়। আবার কিছুদিন পর হারিয়ে যায়। আপনি এটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না?

অমিত: না, আমি বেশি কিছু চিন্তা করছি না। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি। আমি যেভাবে পারফরম্যান্স করে এসেছি, সেভাবেই ভালো করার চেষ্টা করে যাব। আর চ্যালেঞ্জ তো সব জায়গাতেই থাকে।

সেক্ষেত্রে কত বছর দলকে সার্ভিস দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে?

অমিত: আগেও বলেছি যে, আমি বর্তমানে থাকতেই পছন্দ করি। লম্বা চিন্তা-ভাবনা কখন করি না। যে ফরম্যাটে বা যে ম্যাচেই খেলি না কেন, সেটা নিয়ে চিন্তা করি।

প্রথম শ্রেণিতে আপনার ৩ হাজারের বেশি রান। খেলতে নামলেই সেঞ্চুরি করেন। এটা আত্মবিশ্বাস জোগাবে নিশ্চয়?

অমিত: হ্যাঁ, অবশ্যই আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ঘরোয়াতে যখন আপনি লম্বা সময় ধরে খেলবেন এবং রান করবেন, তখন এটা জাতীয় দলেও কাজে লাগবে। কারণ আপনার রান করার একটা অভিজ্ঞতা থেকেই যায়। ঘরোয়াতে যেটা করেছি, সেটা জাতীয় দলের জন্যও করা চেষ্টা করব।

টেস্ট ক্রিকেটারের তকমা আপনার গায়ে লেগে আছে, এটা ভাঙতে চান কি না?

অমিত: ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা তো জানিনা। এখন যেহেতু জাতীয় দলে ডাক পেয়েছি, আপাতত টেস্টটা নিয়েই ভাবছি। যখন অন্য ফরম্যাটে ডাক পাব, তখন সেটা নিয়ে চিন্তা করব।

জাতীয় দলের হয়ে সব ফরম্যাটেই খেলতে চান নিশ্চয়?

অমিত: অবশ্যই। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলতে পারলে কিংবা ওয়ানডেতে ভালো করতে পারলে অবশ্যই আমারও সুযোগ আসবে। আসলে টিম ম্যানেজমেন্ট বা সিলেক্টর যারা আছে, তারা তখন সেটা চিন্তা করবে।

টেস্ট মেজাজের হয়ে ব্যাট করার কি টি-টোয়েন্টিতে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়?

অমিত: না, এরকম কিছু মনে হয়নি কখনই। আমার মনে হয় যে, টেস্ট ক্রিকেট মানিয়ে নিতে পারলে বাকি ফরম্যাটেও ভালো করা সম্ভব।

নারায়াণগঞ্জ বাড়ি হয়েও খেলেছেন সিলেটের হয়ে। সামনেও খেলবেন কি না?

অমিত: ইনশাল্লাহ, সামনে যখন আবার এনসিএল খেলা হবে, তখন আমি আবারও সিলেটের হয়ে খেলব। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সিলেটের হয়ে খেলে আসছি। এখানে একপ্রকার ঘরের ছেলে হয়ে গেছি। প্রায় ৬-৭ বছর হয়ে গেছে। আশাকরি সামনেও খেলব। আমি সিলেট দলের পরিবেশটা খুব উপভোগ করি।

আজকের অমিত হতে কোচদের অবদান কতটুকু?

অমিত: যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু করি, তখন সিলেটের একজন উইকেটরক্ষক ব্যাটার দরকার ছিল। তখন হান্নান স্যার রাজিন স্যারকে আমার নাম বলে দিয়েছিল। এরপর থেকেই আমার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু। এরপর রাজিন স্যারের সাথে কাজ করেছি। তার অভিজ্ঞতা আমার সাথে শেয়ার করেছেন। এখনও সবসময় কথা হয়, খেলা নিয়ে খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক রয়েছে স্যারের সাথে। আমার আজকের অমিত হয়ে ওঠার পেছনে হান্নান স্যার এবং রাজিন স্যারের অবদান অনেক।

আপনার উইকেটকিপিং নিয়ে আলোচনা কম, এটা কিভাবে দেখেন?

অমিত: হ্যাঁ, উইকেটকিপিংটা আমি খুব উপভোগ করি। এটাও চালিয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে জাতীয় দলেও করতে চাই। অনেক সময় দেখা গেছে যে, আমি যে দলে খেলেছি- সেখানে আরও কয়েকজন উইকেটকিপার রয়েছে। যে কারণে আমার তখন ফিল্ডিং করতে হয়েছে স্লিপে বা অন্য কোথাও।

আপনি নিয়মিত রান করেও আড়ালেই থেকে গেছেন, সেভাবে আলোচনা হয়নি..

অমিত: না, আমার এমনটা মনে হয়নি। আমার কাজ পারফর্ম করা, আমি সেটাই করে গেছি। আমি শুধু আমার পারফরম্যান্সের দিকে নজর রেখেছি। বিশ্বাস রেখেছিলাম ভালো করলে একদিন সুযোগ আসবে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ এসেছে।

জাতীয় দলে ডাক পেলেন। তবে যুব দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না?

অমিত: না, সেটা নিয়ে এখন আর কোনো আক্ষেপ নেই। সেটা ভুলে গেছি। যখন বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখন আমার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। সেসময় ভালো পারফর্ম করেছিলাম। তাই কোনো আক্ষেপ নেই।

ক্রিকেটে আপনার আইডল কে?

অমিত: আমার ছোটবেলা থেকেই মুশফিক ভাইকে ভালো লাগতো। উনাকে দেখে উইকেটরক্ষক ব্যাটার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। সবসময় উনার মতো হওয়ার চেষ্টা করতাম। ঘরোয়াতে উনার সাথে ব্যাটিং করেছি, উনি আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন। এখন জাতীয় দলে খেলব, এটা আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। এখন গর্বেরও বলতে পারেন। এক প্রকার স্বপ্ন সত্যি হলো যাকে বলে। ছোটবেলা থেকে যাকে দেখেছি, আইডল হিসেবে মেনেছি- তার সাথে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করাটা সত্যিই ভাগ্যের।

মানুষ বড় হয় তার কর্ম গুণে এবং বিনয়ী আচরণে। আপনার মাঝে এমন লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টা কিভাবে দেখছেন…

অমিত: আলহামদুলিল্লাহ, পরিবেশ একটা বিষয়। তার সঙ্গে আমার পারিবারিক একটা বিষয় রয়েছে। কারণ আমার পরিবারের সবাই এমন। যে কারণে তাদের থেকে শিখেছি এই গুণগুলো।

আপনি খুবই শান্ত স্বভাবের। খেলার ক্ষেত্রে এটা কোনো কাজে দেয় কি না?

অমিত: না। আমি আসলে ছোটবেলা থেকে এরকম চুপচাপ থাকতে পছন্দ করি।

আজকের এই খুশির দিনে পরিবারের মানুষদের অনুভূতি কেমন?

অমিত: আলহামদুলিল্লাহ, সবাই খুব খুশি হয়েছে। এত বছর ধরে একটা স্বপ্ন নিয়ে খেলে আসছিলাম। পরিবারের সবাই আমার পাশে ছিল। এই আনন্দের খবর শুনে আজ সবাই খুব খুশি হয়েছে।

এসএইচ/এমএমএম