বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলে এক সময় অপরিহার্য ফুটবলার ছিলেন মামুনুল ইসলাম। ২০২০ সালের পর আর জাতীয় দলে সেভাবে খেলা হয়নি সাবেক অধিনায়কের। তবে ঘরোয়া ফুটবল খেলে গেছেন এবং সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেল আজ (শুক্রবার)। দেশের ফুটবলে গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম সেরা ফুটবলার মামুনুল গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার ক্লাব ফর্টিজ প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলন করে ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
আজ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেছেন মামুনুল। বিদায়ী ম্যাচে মাত্র ২৪ মিনিট মাঠে ছিলেন ফর্টিজের এই তারকা। জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ককে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সম্মাননা দিয়েছে। ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও তিন কার্যনির্বাহী সদস্য তার হাতে ফুলের তোড়া ও বাফুফের ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় ফুটবলসংশ্লিষ্ট আরও অনেকে তাকে ফুল দেন। তার আগে মামুনুলকে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়া হয়। মামুনুল ফর্টিজে নিয়মিত খেলতেন না। আজ তার শেষ ম্যাচ হওয়ায় মূল একাদশে ছিলেন। ২৪ মিনিটে তিনি যখন মাঠ থেকে উঠে যান, তখন দুই দলের খেলোয়াড়েরা দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেন। এই মিডফিল্ডারের বিদায়ক্ষণ স্মরণীয় করে রাখার আনুষ্ঠানিকতা সারতে খেলা দুই মিনিটের মতো বন্ধ ছিল।
মামুনুলের বিদায় নাড়া দিয়েছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনেও। বাংলাদেশের টেস্টের অন্যতম সেরা ব্যাটার মুমিনুল হক এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। তিনি সাবেক মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মামুনুল ইসলাম—একটা বাঁ পায়ের স্পর্শ, একটা আলতো চিপ, একটা নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠে খেলার ছন্দ বদলে দেওয়ার শিল্প। আমাদের প্রজন্মের ফুটবলে সৌন্দর্য যদি কাউকে দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হতো, অনেকের মতো আমিও হয়তো মামুনুলের নামই বলতাম।’
ম্যাচ শেষে মামুনুলকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে তিনি সেটার দাবি রাখেন বলেও উল্লেখ করলেন মুমিনুল, ‘আজ কিংস অ্যারেনার গার্ড অব অনারটা তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল দুই দশক ধরে দেশের ফুটবলকে কিছু দিয়ে যাওয়া একজন শিল্পীর প্রতি সম্মান। সব কিংবদন্তির বিদায় একরকম হয় না। কেউ নীরবে হারিয়ে যান, কেউ ট্রফি হাতে বিদায় নেন। মামুনুল বিদায় নিলেন সম্মান, ভালোবাসা আর স্মৃতির ভেতর দিয়ে। বাংলাদেশ ফুটবলের গল্পে তাঁর বাঁ পায়ের জাদু অনেক দিন বেঁচে থাকবে।’
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মামুনুলের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে। ব্রাদার্সের পর আবাহনী, মোহামডোন, চট্টগ্রাম আবাহনী, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, রহমতগঞ্জ হয়ে এখন ফর্টিজে। জাতীয় দলেও খেলেছেন প্রায় এক দশক। এর মধ্যে ২০১০ সালে এসএ গেমসে বাংলাদেশ স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে বেশ বড় ক্যারিয়ার মামুনুলের।
বিদায় বেলায় মামুনের কণ্ঠে ঝরেছে দুটি আক্ষেপ। ২০০৩ সালের পর বাংলাদেশ আর সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ছয়টি সাফ খেললেও সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে। তবে যাবার বেলায় যে সম্মান পেলেন, তা হয়তো অনেকদিন হৃদয়ে আগলে রাখবেন তিনি।
এফএইচএম
