আগে থেকেই পায়ের পেশির চোটে ভুগছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ফলে চলমান আইপিএলে ৪৪ বছর বয়সী এই তারকার এখনও মাঠে নামা হয়নি। তবে আরেকটি কথা প্রচলিত রয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংস দলে তার ফেরাটা নাকি জটিল করে তুলেছেন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটার কার্তিক শর্মা। সর্বশেষ দুটি ম্যাচ জয়েই তার অবদান রয়েছে। যদিও যেভাবে রেঞ্জ হিটিংয়ের জন্য তার নাম ছড়াচ্ছে, এখনও পুরোপুরি তেমন কিছু দেখাতে পারেননি কার্তিক।
এবারের আইপিএলে তার অভিষেক হয় গুয়াহাটির একটি সিমিং পিচে, ছয় নম্বরে নেমে যদিও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে ব্যর্থ (১৫ বলে ১৮ রান)। এরপর পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে চার নম্বরে ব্যাট করতে গিয়ে তার ছক্কা মারার দক্ষতা বেশ নজর কেড়েছিল, যা দেখে কেভিন পিটারসেনও এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রশ্ন তোলেন– ‘এই ছেলেটা কে?’ সম্প্রতি দলে ফিরে চার নম্বরে সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছেন কার্তিক।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে ক্রিজে নেমে তিনি ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলান। নিজের শক্তির জায়গা খুঁজে নিয়ে অযথা বড় শট খেলেননি, তবে ছন্দময় ব্যাটিং করেন। দুটি অপরাজিত ইনিংসে ৫৪ ও ৪১ রানে দলকে জয় এনে দিলেন কার্তিক। এর আগে তার ওপর ১৪.২ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে চেন্নাই। তখন তুমুল আলোচনায় আসেন ১৯ বছর বয়সী রাজস্থানের এই ব্যাটার। শারিরীক গড়ন খুব আহামরি না হলেও তার একটি বিশেষ দক্ষতা আছে– লং হিটিং। জয়পুরের আরাবালি ক্রিকেট একাডেমিতে সাবেক কোচ বিবেক যাদবের অধীনে অনুশীলন করতেন, শুরুতেই বোঝা যায় তিনি বলের সঙ্গে ভালো সংযোগ স্থাপন করে দূরে পাঠাতে পারেন।
কার্তিকের প্রশিক্ষণে মূল ফোকাস হয়ে উঠে ‘রেঞ্জ হিটিং’। মেশিনের বিপক্ষে পেস-স্পিন দুই বিভাগেই অনেকদিন থেকে তিনি ৫০০ থেকে ৭০০ বল মোকাবিলা করতেন। লক্ষ্য একটাই– যত বেশি সম্ভব বল মাঠের বাইরে পাঠানো। তার বাবা বাড়িতেও একটি বলের মেশিন বসান, যাতে একাডেমির বাইরে থেকেও অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারেন। আরাবালি একাডেমির প্রধান কোচ জাগসিমরান সিং বলেন, ‘তার মাথায় পরিষ্কার ধারণা আছে, সে ছক্কা মারতেই কাজ করছে। কার্তিকের শ্বাস-প্রশ্বাস, নার্ভ নিয়ন্ত্রণ, হাজারও দর্শকের সামনে মানসিক চাপ সামলানো শেখানো নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ান মেন্টাল-স্কিলস কোচ ডেভিড রিড।
চেন্নাইয়ের প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের মতে– ‘মানসিক দিকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৩৫০০০ থেকে ১ লাখ দর্শকের সামনে খেলতে নামা মানে এক ধরনের চাপে পড়া। নেটে ব্যাটিং করা সহজ, কিন্তু নার্ভ, উদ্বেগ ও ব্যর্থতার ভয় বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন আপনার ওপর বড় অঙ্কের মূল্য ট্যাগ থাকে।’ শিভাম দুবেকে ফিনিশার হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল কার্তিকের জন্যও প্রয়োগ করেন রিড। ওই সময় পাশে থেকে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন ধোনিও। কার্তিককে প্রথমে ফিনিশার ভাবা হলেও এখন পজিশনে উন্নতি হয়ে তিনি চারে উঠেছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ব্যাটিং কোচ মাইক হাসি মনে করেন, ‘আশা করি আগামী পাঁচ-দশ বছর তাকে চেন্নাইতে দেখতে পাব। শেষ কয়েকটি ম্যাচে সে দেখিয়েছে, এই পর্যায়ে ভালো করার আত্মবিশ্বাস সে পেতে শুরু করেছে। সামনে হয়তো বড় কোনো ইনিংস তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’ ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও দুবের ফর্ম খোঁজার মাঝে কার্তিকের ছন্দ খুঁজে পাওয়া চেন্নাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তেমন কিছু হলে ধোনিকে দলে ফিরতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে!
এএইচএস
