বিজ্ঞাপন

এক লিগে ‘দুই’ বাইলজ, ৭২ মিনিট খেলা বন্ধ

এক লিগে ‘দুই’ বাইলজ, ৭২ মিনিট খেলা বন্ধ

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে বসুন্ধরা কিংস ও বাংলাদেশের পুলিশের মধ্যকার ম্যাচ ছিল ঘটনাবহুল। খেলোয়াড় পরিবর্তন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ম্যাচ ৭২ মিনিট বন্ধ ছিল। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ প্রায় তিন ঘণ্টা পর ১-১ গোলে ড্রয়ে শেষ হয়েছে। 

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে তিন জন বিদেশি ফুটবলার একাদশে থাকতে পারেন। বিদেশির পরিবর্তে আরেক বিদেশি নামাতে পারে ক্লাব। লিগের বাইলজে নিয়মটা এরকমই। বিপত্তি বাঁধে আজকের ম্যাচে পুলিশের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পাওলো হেনরিক দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে দেখে মাঠ ছাড়লে। তখন পুলিশের দুই জন বিদেশি ফুটবলার ছিল। তারা অন্য বিদেশির বদলে দেশি ফুটবলারের পরিবর্তে বিদেশি ফুটবলার দানিলোকে নামায়। এতে প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা কিংস প্রতিবাদ জানায়। তখন দুই দলের কোচিং স্টাফ-কর্মকর্তারা তর্ক-বিতর্কে জড়ান। ম্যাচ কমিশনার-রেফারি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ঘণ্টা খানেকের বেশি সময় নিয়েছেন। ৭২ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর অবশ্য পুলিশ দানিলোকে উঠিয়ে নিলে পুনরায় খেলা শুরু হয়। 

বসুন্ধরা কিংসের হেড কোচ বায়েজিদ জোবায়ের আলম নিপু বলেন, ‘রেফারি-ম্যাচ কমিশনারের অজ্ঞতা ও ভুলের জন্য খেলার সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়ের পরিবর্তে বিদেশি খেলোয়াড় নামবে এটাই নিয়ম। রেফারিরা বিষয়টি খেয়াল না করে দেশি খেলোয়াড়দের বদলে বিদেশি খেলোয়াড় নামিয়েছে। আমরা যৌক্তিকভাবে প্রতিবাদ করেছি। সেটার নিষ্পত্তি করতে এত সময় নিয়েছে, এটা খুবই দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। ’

পুলিশ এফসির হেড কোচ আসিফুজ্জামানের যুক্তি অবশ্য ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমাদের বিপক্ষে পিডব্লিউডি একাদশে তিন জন বিদেশি নামিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের এক বিদেশি লাল কার্ডের পর তখন স্থানীয় খেলোয়াড়ের পরিবর্তে আরেক বিদেশিকে নামায়। আমরাও তখন আপত্তি জানিয়েছিলাম, তখন রেফারি-ম্যাচ কমিশনার বলেছিলেন এটা আইনের মধ্যে। আমাদের ওই ম্যাচে হলে এখন এই ম্যাচে কেন নয়। বাইলজ তো সব ম্যাচ ও দলের জন্য সমান হবে।’

পুলিশের কোচের বক্তব্যের সঙ্গে সেই ম্যাচের ফলাফল শিটের প্রমাণ মিলেছে।  ওই ম্যাচে পিডব্লিউডি ঘানার কুয়াদো, ব্রাজিলের জোনাথন ও রাশিয়ার মারাতকে নিয়ে নেমেছিল। ৬১ মিনিটে ব্রাজিলের জোনাথান দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পাঁচ মিনিট পর জমির উদ্দিনের বদলে ঘানার কফি জুনিয়র মাঠে নামেন। লিগের বাইলজে ২৭.১ ধারায় স্পষ্ট রয়েছে, একজন বিদেশি আরেকজন বিদেশি খেলোয়াড় দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে আরেক প্রশ্ন পুলিশ কোচের, ‘বাইলজে রয়েছে ‘ক্যান বি’ মানে হতে পারে মাস্ট বা বাধ্যতামূলক নয়।’

পুলিশ নানা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত দানিলোকে উঠাতে বাধ্য হয়েছে। নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে পুলিশের কোচ বলেন, ‘আমরা বিগত ম্যাচ ও বাইলজের যুক্তি দেখানোর পর রেফারি-ম্যাচ কমিশনার ফেডারেশনের  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তারা আমাদের জানান ১৫ মিনিটের মধ্যে মাঠে নামতে হবে দানিলোকে উঠিয়ে, না হলে তারা ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজাবেন, মাঠে থাকা দল বিজয়ী হবে। ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা দানিলোকে উঠিয়ে মাঠে নেমে খেলা শেষ করি।’

আজকের ম্যাচে ম্যাচ কমিশনার ছিলেন দেশের সাবেক ফিফা রেফারি ও বর্তমান রেফারিজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান তৈয়ব হাসান। যিনি গত দুই দশকে বাংলাদেশের রেফারি অঙ্গনে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম। তিনি আজ ম্যাচ কমিশনার থাকার পরও বাইলজের জটিলতা ও যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় বেশ হতাশ বসুন্ধরা কিংসের কোচ নিপু, ‘বাইলজ অনুযায়ী দুই দফা পনেরো মিনিট করে অপেক্ষা করা যেতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে রেফারি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেটা না করে অতিরিক্ত ৪২ মিনিট অপেক্ষা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ম্যাচ ব্যালেন্স করার জন্য আমাদের আরেক খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।’

ম্যাচ কমিশনার তৈয়ব হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আজকের ম্যাচের ঘটনা ও এক লিগে বাইলজের দুই ব্যাখ্যা নিয়ে বলেন, ‘ম্যাচ পরিচালনার সকল দায়িত্ব রেফারির। বাইলজের প্রয়োগও তারই করার কথা। কোনো দল বা খেলোয়াড়  কিছুর ব্যত্যয় ঘটালে বিষয়গুলো ডিসিপ্লিনারি কমিটি দেখবে। রেফারি-ম্যাচ কমিশনারের কোনো ইস্যু থাকলে রেফারিজ কমিটি বিবেচনা করবে। আমরা লিগ কমিটিও প্রয়োজনে এটি পর্যালোচনা করতে পারি।’

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখালেও গোলের দেখা পেতে কিংসকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৫ মিনিট পর্যন্ত। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস বাড়ান উইঙ্গার রাকিব। বক্সে অরক্ষিত কিংসের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দরিয়েলতন গোমেজ নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান। ৫৩ মিনিটে সমতা আনে পুলিশ। কিংসের ডিফেন্ডার সাদ বল ক্লিয়ার করতে না পারলে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পাওলো জটলার মধ্যে বাঁ পায়ের শটে গোল করে সমতা ফেরান। গোল উদযাপনে জার্সি খোলায় হলুদ কার্ড দেখেন। কিছুক্ষণ পর বল ট্যাকেলে ধাক্কা দেওয়ায় আরেক হলুদ কার্ড দেখেন। ওই হলুদ কার্ড নিয়ে পুলিশ অবশ্য আপত্তি করছিল। পাওলো লাল কার্ড দেখার পর দানিলোকে নামানো থেকে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ৬৩ মিনিটের পর খেলা ৭২ মিনিট বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হওয়ার আট মিনিট পর লাল কার্ড দেখেন কিংসের ডিফেন্ডার রিমন হোসেন। বাকি সময় দুই দল দশ জন নিয়ে খেলে গোল না হওয়ায় ১-১ স্কোরলাইনে শেষ হয় খেলা। 

এজেড/এফএইচএম