ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই মনে করেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী হয়তোবা এক বছরের চমক! ১৫ বছরের এই ব্যাটারের জন্য আইপিএলের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন বেশ কঠিন কাজই ছিল। বিশেষ করে রাহুল দ্রাবিড় রাজস্থান রয়্যালসের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর আশঙ্কা আরও বেড়েছিল। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ হারিয়ে যেতে দেয়নি বৈভবকে। এই ব্যটারকে কীভাবে তৈরি করেছে রাজস্থান?
বৈভবের মেন্টর জুবিন ভারুচা রাজস্থানের সাবেক ডিরেক্টর অব ক্রিকেট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'অনেকেই মনে করেছিলেন বৈভব আইপিএলের দ্বিতীয় মৌসুমে আর সাফল্য পাবে না। এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল। তাকে আমরা বড় মঞ্চের উপযুক্ত করে তৈরি করতে চেয়েছিলাম।'
'এখন সবাই তার খেলার ধরন জানে। তাকে কীভাবে পাল্টা আক্রমণ করা যায়, তাও জানে। সবাই পরিকল্পনা করে বল করে। তার দুর্বল জায়গায় বল রাখার চেষ্টা করে। যথেষ্ট পরিরল্পনা করে বৈভবকে আটকাতে। অথচ বৈভব সফল। এই বয়সেই দাপটের সঙ্গে ব্যাট করছে আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায়।'
রাজস্থানের স্কাউটরা যখন বৈভবকে দলের জন্য নির্বাচন করে, তখন থেকেই এই ব্যাটারের দেখভাল করছেন ভারুচা। কীভাবে এই পর্যায়ে নিয়ে এলেন বৈভবকে? এমন প্রশ্নে ভারুচা বলেছেন, 'আমরা খুব সাবধানে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ভারী ব্যাটে অনুশীলন করানো হয়েছে। বিশেষ কিছু অনুশীলন করা হয়েছে।'
'সে প্রতিটি বলে ছক্কা মারতে চাইত। তার ওই প্রবণতাটা আমরা নষ্ট করতে চাইনি। বরং আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। তিন-চার মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। শুরুতে তার ব্যাট স্পিড ছিল ৯২ থেকে ৯৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। সেটা বেড়ে ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হয়ে যায়। কয়েকটা ভাগে বৈভবকে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে।'
ভারুচা আরও বলেছেন, 'শুরুর দিকে বৈভব শুধু অফ সাইডে শট খেলত। অন সাইডে শট খেলত না বললেই চলে। আমরা এই ব্যাপারটা নিয়েও কাজ করেছি। এখন দেখবেন ফুলটস বলও মিড উইকেট বা স্কোয়্যার লেগে খেলে। এখনও যে লেগ সাইডে দারুণ স্বচ্ছন্দ তা নয়। তবে উন্নতি করছে ক্রমশ।'
এইচজেএস
