বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে যাতায়াতের খরচ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছিল। এবার সমর্থকদের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার পর যাতায়াত ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোতে যাতায়াতের জন্য ট্রেনের টিকিট ১৫০ ডলার থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৯৮ ডলারে। আর শাটল বাসের ভাড়া ৮০ ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ২০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ম্যানহাটনের পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দূরত্ব মাত্র ১৮ মাইল, যার স্বাভাবিক ফিরতি ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্রিটিশ ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী একে আকাশচুম্বী ও অস্বাভাবিক বলে সমালোচনা করেছিল।
রাশিয়া (২০১৮) ও কাতার (২০২২) বিশ্বকাপে সমর্থকদের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ ফ্রি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রও শুরুতে একই প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে জানায় যে তারা বিনা মূল্যে নয়, বরং খরচ অনুযায়ী ভাড়া নেবে। নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল ফিফার এই নীতির সমালোচনা করে জানিয়েছিলেন যে, স্থানীয় করদাতাদের টাকায় যাতায়াতের খরচ ভর্তুকি দেওয়া হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে টিকিটের দাম কমানো সম্ভব হয়েছে।
নিউ জার্সিতে ভাড়া কমলেও বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে সমর্থকদের ৩০০ শতাংশ বেশি ভাড়া গুনতে হবে। ২০ ডলারের স্বাভাবিক টিকিটের দাম সেখানে করা হয়েছে ৮০ ডলার। এর বিপরীতে ফিলাডেলফিয়া কর্তৃপক্ষ প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাদের নিয়মিত ভাড়া ২.৯০ ডলারেই স্থির রেখেছে। কানসাস সিটিতে যাতায়াতের খরচ রাখা হয়েছে ১৫ ডলার।
ভাড়ার এই রদবদল সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের ওপর। ইংল্যান্ড তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলতে নিউ জার্সি ও ফক্সবরোতে যাবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের দুটি ম্যাচই রয়েছে ফক্সবরোতে।
এমএমএম/

