ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত ছিল– বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড বা জামানত জমা দিতে হবে। ভিসার শর্ত মেনে সঠিক সময়ে নিজ দেশে ফিরে গেলে ফেরত পাওয়া যাবে সেই অর্থ। একই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ মিস করতে যাওয়া সমর্থকদের জন্যও। অবশেষে মেগা টুর্নামেন্টটির টিকিট কেনা ফুটবলভক্তদের জন্য সেই নিয়ম প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনকারী এবং টুর্নামেন্টের টিকিট কেনা বিদেশি দর্শকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্থগিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। রিপাবলিকান প্রশাসন গত বছর এই বন্ড ব্যবস্থা চালু করেছিল। তাদের দাবি ছিল, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার হার বেশি এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ রয়েছে। বৃহত্তর অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হয় এই সিদ্ধান্ত।
বর্তমানে ৫০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বন্ড জমা দিতে হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে– আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া। সেসব দেশের ফুটবলভক্তদের সরাসরি খেলা দেখা নিয়েও নানা অনিশ্চয়তা ছিল। ফিফা থেকে টিকিট কেনা সাপেক্ষে ওই ৫ দেশের নাগরিকরা বন্ডের বাধ্যবাধকতায় পড়তে হবে না। এর আগে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্বকাপের খেলোয়াড়, কোচ ও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহকারী সচিব মোরাহ নামদার বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সেরা ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র উচ্ছ্বসিত। আমরা বিশ্বকাপের টিকিট কেনা যোগ্য সমর্থকদের জন্য ভিসা বন্ড প্রত্যাহার করছি। যারা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দ্রুত ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য চালু করা ফিফা পাস ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তারাই এই সুবিধা পাবেন।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও হোয়াইট হাউজের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের সঙ্গে আমাদের চলমান সহযোগিতার প্রতিফলন। সফল, রেকর্ডগড়া ও স্মরণীয় একটি বৈশ্বিক আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিফা।
এপ্রিলের শুরুর দিকে বিশ্বকাপের যেসব সমর্থক এই বন্ড নীতির আওতায় পড়েছিলেন, তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সম্ভবত প্রায় ২৫০ জন। সংবাদ সংস্থা এপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আরও মানুষ টিকিট কেনা এবং কেউ কেউ ভ্রমণ বাতিল করায় এই সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছিল। ফিফাই প্রথম এই ছাড়ের অনুরোধ জানায়। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউজসহ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা চলেছে।
এএইচএস
