২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ দল নিয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আসর বসেছিল। যাকে বলা হচ্ছিল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ। মার্কিন ভূমিতে তখন প্রতিকূল আবহাওয়ায় বেশ ভুগতে হয়েছে ফুটবলারদের। আসন্ন বিশ্বকাপেও তেমন কিছুরই শঙ্কা দেখছেন এক দল বিজ্ঞানী। সে কারণে তারা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফিফাকে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনার আহবান জানিয়েছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট বসবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। গবেষকদের মতে, টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত ১৬টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ১৪টিতেই বিপজ্জনক মাত্রায় তাপমাত্রা মোকাবিলা করতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর মেক্সিকোর কিছু এলাকায় গড় দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে এবং অতিরিক্ত গরমের সময় তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

তাপমাত্রার পাশাপাশি আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও সূর্যের তীব্রতাও বিবেচনায় নিলে, বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোতে খেলোয়াড়দের শরীরে চরম মাত্রার তাপজনিত চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও ক্রীড়া পারফরম্যান্স বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ফিফাকে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে বলেছেন, ফিফার বর্তমান নির্দেশনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যৌক্তিকতার দিক থেকেও সমর্থনযোগ্য নয়। তাদের দাবি– দীর্ঘ সময়ের কুলিং ব্রেক এবং চরম আবহাওয়ায় ম্যাচ বিলম্ব বা স্থগিত করার স্পষ্ট নীতিমালাসহ আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
অবশ্য এর আগে ফিফা ‘খেলোয়াড়দের কল্যাণে প্রতিশ্রুতি’র অংশ হিসেবে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের কুলিং ব্রেক চালু করার কথা জানায়। আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন এই নীতি বহাল থাকবে। সব আউটডোর ম্যাচে টেকনিক্যাল স্টাফ ও বদলি খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত বেঞ্চ। ফিফা খেলাধুলায় ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মানের তাপমাত্রা সূচক ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ ব্যবহার করে, যা তাপ ও আর্দ্রতা মিলিয়ে শরীরের ওপর তাপের প্রভাব নির্ধারণ করে। সাধারণভাবে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে সীমা হিসেবে ধরা হয়, যেখানে অভিজাত ক্রীড়াবিদদের জন্য গরমজনিত চাপ বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়ায়।
ফিফার জরুরি চিকিৎসা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচারে তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রির কাছাকাছি বা তার ওপরে পৌঁছে যায়, তাহলে আয়োজকদের ‘তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হবে’ তা নির্ধারণ করতে হবে। ফুটবল দল ছাড়া দর্শকদের জন্যও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিফা। অতিরিক্ত গরমের পূর্বাভাস থাকলে দর্শকদের কারখানায় সিল করা পানির বোতল আনার অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাখা হবে ছায়াযুক্ত এলাকা, মিস্টিং সিস্টেম (তাপ কমানোর উপযোগী পদ্ধতি), কুলিং বাস ও অতিরিক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও।

কিন্তু ফিফার এমন উদ্যোগ পর্যাপ্ত বলে মনে করছে না ২০ সদস্যের বিজ্ঞানী দল। তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন। ফিফার প্রতি জরুরি নীতিমালা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। যেখানে বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব দেন– তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির বেশি হলে ম্যাচে বিলম্ব কিংবা স্থগিত করা, অন্তত ছয় মিনিটের কুলিং ব্রেক চালু, খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত কুলিং সুবিধা এবং সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত নির্দেশিকা হালনাগাদ করা।
চিঠির সমন্বয়কারী এবং নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অ্যান্ড্রু সিমস সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এখন তাৎক্ষণিক ও জরুরি উদ্বেগের বিষয়, কারণ অতিরিক্ত গরমে খুব দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে। আমরা উদ্বিগ্ন যে ফিফা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বেপরোয়া আচরণ করছে।’ এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো’র প্রস্তাবিত মানদণ্ড গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এএইচএস
