বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ চার টেস্টেই হেরেছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডির পর হোয়াইটওয়াশ হয়েছে মিরপুর-সিলেটে হওয়া বাংলাদেশ সফরে এসেও। উত্তরসূরীদের পারফরম্যান্স দেখে দারুণ ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল। দল নির্বাচন, ক্রিকেটারদের নিবেদন এবং পিসিবির কার্যক্রম নিয়ে তিনি কড়া সমালোচনা করেছেন।
ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘দ্য গেম প্ল্যান’-এ বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানালেও, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আকমল বলেন, ‘বাংলাদেশ দল ও পুরো জাতিকে অনেক অভিনন্দন। তারা নিঃসন্দেহে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। বিক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির মাঝেও মৌলিকত্ব থেকে তারা সরে যায়নি। এটা বড় অর্জন। (নিজেদের খেলা নিয়ে) তীব্র হতাশা ছাড়া আর কিছু বাকি নেই। আমরা ৬-৭ বছর ধরে একই কথা বলে আসছি। কিছুই বদলায়নি।’

খুব সহসাই পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতি দেখছেন না ৪৪ বছর বয়সী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার। সে কারণে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের তাগিদ দিলেন আকমল, ‘বাস্তবিক অর্থে আমি আগামী ৪-৫ বছরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখছি না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে থাকবে। যদি আরও ভালো করতে চান, তাহলে বড় ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুরই উন্নতি হবে না।’
এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চিন্তা-ভাবনা ও দল নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘পিএসএলে কখনও একজন খেলোয়াড়ও আনফিট থাকে না। ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হয়, আর ফিটনেসের চিঠি আসতে শুরু করে। পিএসএলের সময় একটিও আসে না। এই যখন মানসিকতা, তখন ক্রিকেটের উন্নতি কীভাবে হবে? যখন ক্রিকেটের বাইরের লোকদের অহংকার জড়িত থাকে, তখন ক্রিকেটের উন্নতি হয় না। যখন প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে হুট করে খেলোয়াড় নির্বাচন করেন, তখন আপনার কাছে মেধা ও দক্ষতার কোনো মূল্য থাকে না। গোড়ায় গলদ থাকলে কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না, পারফরম্যান্সের কোনো মানদণ্ড থাকবে না।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের দিকে পিসিবির নজর নেই বলেও মনে করেন আকমল। ফিটনেসের মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি, ‘যে খেলোয়াড় ১০০–২০০ রান করতে পারে এবং দিনে ১৮ ওভার বল করতে পারে, আপনারা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করে দিচ্ছেন। কারণ সে কেবল একটা লাফ দিতে পারেনি। দুই কিলোমিটার দৌড়ানোর সময় যদি সে আধা মিনিট বেশি নেয়, আপনারা বলেন সে খেলার জন্য ফিট নয়। যারা ক্রিকেটের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা আগে নিজেদের দিকে তাকান। আগে এত নাটক ছিল না যে ক্রিকেট আরও ভালো জায়গায় ছিল।’
বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আকমলের পরামর্শ, ‘মানসিকতা পাল্টাতে হবে। আপনার লোকদের মাঠে পাঠান, তাদের খেলা ও শারীরিকভাবে কতটুকু আত্মবিশ্বাসী দেখুন।’ ভারতের উদাহরণ টেনে পাকিস্তান দলে পছন্দের লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ২৬৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকার, ‘(চেতেশ্বর) পুজারাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, অজিঙ্কা রাহানেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, শিখর ধাওয়ানকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সে কত বড় পারফর্মার ছিল? তাদের কাছে ক্রিকেট ও দল আগে। অথচ তারা (পাকিস্তান) এখানে বন্ধুত্বকে মাঠে টেনে আনে।’
এএইচএস
