আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কোন ২৬ জন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কেমন হতে পারে শুরুর একাদশ, তা নিয়ে একটা সম্ভাবনার ছক আঁকা যেতে পারে।
যদিও কাতার বিশ্বকাপের সময় লিওনেল স্কালোনির শুরুর একাদশ নিয়ে অনুমান করা কঠিন ছিল। কারণ অনুশীলনে খেলোয়াড়দের মান দেখে পরের ম্যাচের একাদশ ঠিক করতেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের যে কাঠামো, তাতে সম্ভাব্য একটা একাদশ দাঁড় করানো যেতে পারে।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কোচ কাদের দিয়ে শুরু করাবেন, তা ম্যাচের আগে বোঝা যাবে না। তবে কিছুটা ধারণা দেওয়া যেতে পারে।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
গোলরক্ষক পজিশনটি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ‘দিবু’র খেলার মান দুর্দান্ত। এ কারণে শুরুর একাদশে তার জায়গা পাকা হয়ে গেছে আগেই। কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলে, পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই তিনি মূল গোলরক্ষক হিসেবে খেলবেন।
নাহুয়েল মলিনা
২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদে কখনো শুরুর একাদশে খেলেন, আবার কখনো বদলি হিসেবে নামেন। তবে জাতীয় দলে এই পজিশনে বিকল্প কম থাকার কারণে সবকিছু ইঙ্গিত করছে যে তিনিই মূল একাদশে শুরু করবেন।
ক্রিস্তিয়ান রোমেরো
জাতীয় দলের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। বেলগ্রানো ক্লাব থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার সম্পূর্ণ ফিট থাকলে তার শুরুর একাদশে জায়গা নিশ্চিত। ২ নম্বর জার্সিধারী এই খেলোয়াড়ের অন্যতম প্রধান গুণ নেতৃত্ব, মাঠে উপস্থিতি এবং রক্ষণভাগ গুছিয়ে রাখার ক্ষমতা।
নিকোলাস ওতামেন্দি
ইকুয়েডরের বিপক্ষে গত বাছাইপর্বের ম্যাচে পাওয়া নিষেধাজ্ঞার অংশবিশেষ ফিফা তুলে নিয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে যে এই অভিজ্ঞ লেফট সেন্টার-ব্যাক উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে থাকবেন। তবে এই পজিশনটির জন্য লিসান্দ্রো মার্তিনেজও সমানতালে লড়াই করছেন।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো
একই রকম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে রাইট-ব্যাক পজিশনেও। নিজের দারুণ ফর্ম এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের অফ-ফর্মের কারণে তাগলিয়াফিকো এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো একজন হলেন ভ্যালেন্তিন বার্কো। যদিও ক্লাব রেসিং স্ত্রাসবুরের মতো মাঝমাঠেও খেলার যোগ্যতা তার রয়েছে।
রদ্রিগো দে পল
নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড় রদ্রিগো দে পল। তার থাকাটা নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। তবে প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে স্কালোনি তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারকে এনে মাঝমাঠে কোনো রদবদল করেন কি না, তা দেখার বিষয়। এই জায়গাটিতে কড়া নজর থাকবে।
লেয়ান্দ্রো পারেদেস
বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার গত কয়েকটি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেললেও, এই পজিশনে কোচের কাছে অনেক বিকল্প থাকায় পারেদেসের জায়গা একদম নিশ্চিত নয়—যদিও তিনি সামান্য সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। তিনি যদি শুরু না করেন, তবে এনজো ফার্নান্দেজ সেই জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন।
এনজো ফার্নান্দেজ
এই মিডফিল্ডার প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত খেলছেন এবং জাতীয় দলের হয়েও নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সময় মাঠে কাটাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে তিনি মাঝমাঠের একাধিক পজিশনে খেলতে পারেন, তবে তাকে মাঝমাঠে ভিন্ন কার্যকারিতা দেখানো আলেক্সিস মাক অ্যালিস্টারের কাছ থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। তারা কেবল শুরুর একাদশের জন্যই লড়ছেন না, বরং দুজনে একসাথে মাঝমাঠ ভাগাভাগি করে দে পল বা পারেদেসকে বেঞ্চেও বসিয়ে দিতে পারেন।
লিওনেল মেসি
আরেকজন খেলোয়াড়ের জায়গা সম্পূর্ণ নিশ্চিত। কেবল কোনো শারীরিক সমস্যাই মেসিকে তার ষষ্ঠ এবং সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে দূরে রাখতে পারে। তার শুরুর একাদশে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে আসলে কোনো শব্দের ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
জুলিয়ান আলভারেজ
আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের মধ্যে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা স্কালোনির পুরো কোচিং মেয়াদে একটি নিয়মিত দৃশ্য ছিল। কে শুরু করবেন তা নির্ধারণ করতে কোচ সাধারণত খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করেন। গত বিশ্বকাপে লাউতারো শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ দিকে আলভারেজ নিজের জায়গা পাকা করে নেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই এই লড়াই চলবে, তবে বর্তমানে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের এই খেলোয়াড় কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে।
থিয়াগো আলমাদা
জাতীয় দলের হয়ে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে মনে হচ্ছে, ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী আলমাদা তৃতীয় স্ট্রাইকার বা চতুর্থ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি একেবারেই নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন না, কারণ নিকোলাস গঞ্জালেসের মতো বেশ কয়েকজন শক্তিশালী বিকল্প তার এই জায়গার জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলার আগে আর্জেন্টিনা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ম্যাচ দুটি হবে বিশ্বকাপে না ওঠা হন্ডুরাস (৬ জুন) ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে (৯ জুন)। এই দুই ম্যাচ থেকেই স্কালোনি হয়তো তার একাদশ ঠিক করে ফেলবেন।
এফএইচএম
