বিজ্ঞাপন

‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া কাউকে ছেড়ে কথা বলব না’

‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া কাউকে ছেড়ে কথা বলব না’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ নারী দল দেশ ছেড়েছে আগেই। তবে তারা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ডে। দেশ ছাড়ার আগে বিশ্বকাপ খেলা, ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্স, দলে দুই পেসার রাখার কারণ, অধিনায়কের ইনজুরিসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদক সাকিব শাওনকে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান। 

আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন, দলের প্রস্তুতি কেমন দেখছেন? 

ইমরান: আমাদের যে সিস্টেম রয়েছে সেই অনুযায়ী আমি বলব যে, আমরা যা চেয়েছি তাই পেয়েছি। বিশ্বকাপের আগে প্র্যাকটিস করেছি, এছাড়া অন্য যা লাগে সেটাতেও প্র্যাকটিস করেছি। ছেলেদের সাথে একটা ম্যাচও খেলেছি, তার আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি টোয়েন্টি সিরিজও খেলেছিলাম। মূলত টি-টোয়েন্টি যেভাবে খেলতে হয় সেভাবে আমরা প্র্যাকটিস করেছি এই সময়ে। বর্তমানে টিম ভালো অবস্থায় রয়েছে, আমরা ভালো করব।

ফলাফলের দিকে নজর থাকবে নাকি ভালো ক্রিকেট খেলার দিকে!

ইমরান: ভালো ক্রিকেটেরর দিকে তো সবসময় নজর থাকে। আসলে আমরা তালিকায় উপরে উঠতে চাই তার জন্য ভালো ক্রিকেট খেলতেই হবে। একইসঙ্গে রেজাল্ট বের করতে হবে, শুধু ভালো ক্রিকেট খেললেই হবে না। শুধু উন্নতি হচ্ছে এটা বললে হবে না, ফলাফল আনতে হবে। বিশ্বকাপে আমরা আশা করি তিনটা ম্যাচ জিতব, নেদারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্ভাবনা অনেক। পাকিস্তানের সঙ্গে আছে, এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গেও ভালো খেলতে পারি। আর ভারত ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে, তাদের সাথে জেতার জন্য খেলবো, আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।

সবসময় বলেন ভালো ক্রিকেট খেলতে চান, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে গিয়ে কোনো কারণে সেটা আর হয়না!

ইমরান: এটা ডিপেন্ড করে আমরা আসলে কতটা টুর্নামেন্ট বা সিরিজ খেলছি। আমরা ম্যাচ কম খেলায় অন্যদের থেকে কিন্তু গেম অ্যাওয়ারনেস বা যেগুলো আছে সেগুলো কিন্তু কমে যায়। আমি সেজন্য বলব যে লোকাল টুর্নামেন্টগুলো বেশি বেশি করা উচিত। এবারও কিন্তু ঢাকা লিগ হয়নি মেয়েদের, নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট চালু হয়নি। টুর্নামেন্ট কমতে থাকলে ম্যাচের গুরুত্ব কমতে থাকবে। যত টুর্নামেন্ট কম হবে তত খেলা কম হবে, ভালো খেলোয়াড়ও আসবে না।

কন্ডিশন নিয়ে কী ভাবছেন, যদিও আগে থেকে সিরিজ থাকায় সুবিধা হবে।

ইমরান: আমি একটা কথাই বলব কন্ডিশন কিন্তু আমাদের হাতে নেই। ওইটা নিয়ে আমরা বেশি চিন্তিত না, যেহেতু এটা আইসিসি টুর্নামেন্ট সবার জন্য সুবিধা থাকবে। সেই অনুযায়ী উইকেট থাকবে আশা করি। যদি এটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হত তাহলে আলাদা কথা থাকতো, যেহেতু বিশ্বকাপ সেই কারণে সবার জন্য সমান থাকবে। আমরা বাউন্স উইকেটেও অনুশীলন করেছি আমাদের মাথায় রয়েছে সেটা। হ্যাঁ যদি বল বেশি সুইং করে তাহলে হয়তো আমাদের অসুবিধা হতে পারে ব্যাটাদের জন্য, তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে। 

ব্যাটাররা ফর্মে রয়েছেন অন্যবারের থেকে

ইমরান: আমাদের দলে নতুন একজন ব্যাটার এসেছে, সে ভালো পাওয়ার হিটিং করতে পারে। আমাদের দল আছে, ওপেনিংয়ে ভালো ব্যাটার আছে। সুপ্তা আছে, জ্যোতি আছে। তারা ভালো ফর্মে আছে। এছাড়া শেষের দিকে সোবহানা আছে, স্বর্ণা রয়েছে। তারা রান করতে পারে। আগের থেকে এখন ব্যাটিং লাইন ভালো। এখন তো ভালো করছে, বিশ্বকাপে কেমন করবে সেটাই দেখার বিষয়। যে কারণে আসলে এখনই বলা সম্ভব না সবকিছু।

স্পিনাররা বরাবরই ভালো বাংলাদেশের।

ইমরান: আমাদের দল ডিপেন্ড করেই কিন্তু স্পিনারদের ওপরে। এছাড়া মারুফা ও তৃষ্ণা রয়েছে দুই পেসার। মারুফা যদি শুরুটা ভালো দিতে পারে আমরা হয়তো অনেক ম্যাচ জিতে যাব। 

বিশ্বকাপ দলে পেসার মাত্র দুই জন থাকার কারণ কি?

ইমরান: আপনার দলে যদি কোয়ালিটি পেসার থাকে তাহলে আপনি নিতেন। এখন লন্ডন দেখে যদি আপনি পেস বোলার নিয়ে যাবেন আর স্পিনার বাদ দিয়ে দেবেন ভালো, তাহলে তো হলো না। আমাদের স্পিনাররা ভালো দেখেই নেওয়া হয়েছে বেশি। যদি আমাদের ভালো কোয়ালিটি পেস বোলার থাকতো, তাহলে আমরা অবশ্যই নিতাম।

বিশ্বকাপ দলে কোনো কিছু ঘাটতি দেখছেন কি না

ইমরান: হ্যাঁ আপনি যেটা বললেন যে পেস বোলার ২টা। এটা যদি আরেকটু বেশি থাকতো তাহলে ভালো হতো। এছাড়া বিশ্বকাপ দলে তেমন কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।

জ্যোতি কতটা ফিট এখন, বছর খানেক ইনজুরির একটা বিষয় শোনা যায় তাকে নিয়ে।

ইমরান: হ্যাঁ জ্যোতি ভালো রয়েছে, খেলার জন্য ফিট রয়েছে। আপনি হয়তো তাকে শতভাগ ফিট বলতে পারবেন না। ৯০% ফিট বলতে পারবেন। তারপরও আমি বলব যে সে যখন মাঠে থাকে শতভাগ দিয়েই খেলে। ফিল্ডিং বলেন বা অধিনায়কত্ব করতে বলেন সবকিছুই। তার ট্রিটমেন্ট চলছে অনেক দিন ধরেই, ওষুধ নিতে হয়, পেইন কিলার খেতে হয়। 

তাজ নেহারের অন্তর্ভুক্তি ঠিক নাকি শারমিনকে সুযোগ দেওয়া যেত?

ইমরান: টি-টোয়েন্টি দলের চাহিদা মতো আসলে শারমিন বাদ পড়েছে দল থেকে। তাজ নেহার পেস বোলিংয়ে ভালো খেলে, ইংল্যান্ডে আমরা তো বেশি পেস বলার ফেস করব যে কারণে নেওয়া। শারমিন ও পেস বল ভালো খেলে, তবে তার পরিসংখ্যান খুব একটা ভালো না। তাজ নেহার যে খুব ভালো করেছে কোথাও সেটাও আমি বলব না। তবে কিছু প্র্যাকটিস ম্যাচে তাজ নেহারকে দেখে ভালো লেগেছে। তার ব্যাটে স্ট্রোক ও শটগুলো সেটা দেখে নেওয়া হয়েছে। 

কয়টা ম্যাচ জিতবেন গ্রুপ পর্বে, যদিও বড় দল রয়েছে?

ইমরান: পরের রাউন্ডে যাবে দল, আশা করি। তবে দুইটা ম্যাচ থেকে যদি তিনটা ম্যাচ জিততে পারা যায় তাহলে পরের রাউন্ডে যাওয়াটা সহজ হবে। 

গেল বছর নারী ক্রিকেটে অনেক কথা হয়েছিল, সবকিছু কাটিয়ে সবার মানসিক অবস্থা কেমন এখন?

ইমরান: না এগুলো নিয়ে আমাদের দলে কোনো ইফেক্ট পড়েনি। আমরা মানসিকভাবে সবসময় ভালো ছিলাম এবং আছি।

এসএইচ/এফএইচএম