আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের দারুণ একটি মৌসুম কাটল। ফাইনালে উঠতে না পারলেও পুরো আসরজুড়ে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে নজর কেড়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। তাকে খুব কাছ থেকে ব্যাট করতে দেখার পর রাজস্থান কোচ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, শিগগিরই জাতীয় দলে ডাক পেতে যাচ্ছেন এই ওপেনার।
চলতি আইপিএলে ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করেছেন সূর্যবংশী। এর মধ্যে ৬৮৪ রানই করেছেন বাউন্ডারি থেকে। ৬৩টি চার ও রেকর্ড ৭২টি ছক্কায় সাজানো ছিল তার চলতি আইপিএল। একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি তার। গত চার ইনিংসের তিনটিতেই নব্বইয়ের ঘর পার করলেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
প্লেঅফে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রান করার পর গতকাল সূর্যবংশী ৯৬ রান করেছেন ৪৭ বল খেলে। ৩১ বলে ফিফটি করেন, যা তার এই আইপিএলে সবচেয়ে মন্থর। তবে পরের ১৫ বলে করেন ৪৬ রান। কিন্তু ডিপ থার্ডে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার সহজ ক্যাচ হয়ে আবার নার্ভাস নাইন্টির শিকার হন।
তার এই প্রচেষ্টা বিফলে গেছে। শুভমান গিল ও সাই সুদর্শনের ব্যাটে জিতেছে গুজরাট টাইটান্স। ২০২২ সালের পর আরেকটি ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজস্থানের। দল হারলেও মুগ্ধতা ছড়িয়ে কোচের প্রশংসা পেয়েছেন। একই সঙ্গে তার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া প্রসঙ্গে সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘বিশ্বের সেরা কিছু বোলারদের বিরুদ্ধে বৈভব যা করে দেখিয়েছে, আমি মনে করি তাকে যে চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দেওয়া হবে, সে সেটা নিতে প্রস্তুত। আমি নিশ্চিত সে শিগগিরই (জাতীয় দলে) ডাক পাবে। সে অনেক পরিপক্কতার সঙ্গে ব্যাট করে, এই মৌসুমে আমাদের জন্য সে ওপেনিং জুটিতে ভালো দায়িত্ব পালন করেছে।’
সূর্যবংশীকে স্বাধীনভাবে ব্যাট করতে দেওয়ার কথা বললেন সাঙ্গাকারা, ‘হ্যাঁ, তাকে নিয়ে আমাদের ভালো একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা তার মাথায় বাড়তি কিছু ঢুকাতে চাই না। সে আমাদের সব টিম মিটিংয়ে আসে, অবদান রাখে, শোনে এবং অনেক হোমওয়ার্ক করে সে। সে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয় এবং বোলারদের ভালো করে পড়তে পারে। সে তাদের ভিডিও দেখে নিজেকে প্রস্তুত করে। তাই আমরা তার মাথায় অপ্রয়োজনীয় চিন্তা দিতে চাই না। আমি মনে করি পরিষ্কার মন, এমন ভয়ডরহীন ব্যাটিংই আমরা তার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি।’
এফএইচএম
