বিজ্ঞাপন

টিটিতে আবার সিলেকশন-র‌্যাংকিং ‘দ্বন্দ্বে’ কমনওয়েলথে নেই শীর্ষ খেলোয়াড়রা

টিটিতে আবার সিলেকশন-র‌্যাংকিং ‘দ্বন্দ্বে’ কমনওয়েলথে নেই শীর্ষ খেলোয়াড়রা

গত বছর সৌদি আরবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে জাভেদ আহমেদ ও খৈ খৈ মারমা মিশ্র বিভাগে রৌপ্য জিতে বাংলাদেশের টেবিল টেনিসে ইতিহাস রচনা করেছিলেন। সেই খেলোয়াড়রা আসন্ন কমনওয়েলথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপে দলেই নেই। শুধু জাভেদ ও খৈ খৈ নয়, রামহিম, হৃদয়, মৌ, সোমা ও ঐশীর মতো শীর্ষ খেলোয়াড়দের কেউই টিটি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছেন না। 

জাভেদ কমনওলেথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের দল নিয়ে বলেন, ‘ফেডারেশন এই টুর্নামেন্টের জন্য সিলেকশন খেলতে বলেছিল। আমরা বলেছিলাম সিলেকশনের পরিবর্তে র‌্যাংকিংয়ে ভিত্তিতে দল গড়া হোক। তারা আমাদের অনুরোধ গ্রহণ করেনি, সিলেকশনের মাধ্যমেই দল গড়েছে। সিলেকশনে শীর্ষ কোনও খেলোয়াড়ই অংশগ্রহণ করেনি। ফলে নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়েই কমনওয়েলথ টিটিতে দল নির্বাচিত হয়েছে।’

টেবিল টেনিসে নারী ইভেন্টে শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম মৌ। তিনি র‌্যাংকিং ও সিলেকশনের যৌক্তিকতা ও বাস্তবতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা সিলেকশন খেলে থাকি কোনও গেমসের সময়, যেমন ইসলামিক গেমসে যাওয়ার আগে খেলেছিলাম। যেগুলো টিটির সাধারণ টুর্নামেন্ট, সেগুলোর ক্ষেত্রে র‌্যাংকিং প্রাধান্য পাওয়া উচিত। একজন খেলোয়াড় লিগ, টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়ে শীর্ষ র‌্যাংকিংধারী যদি হয়, যদি র‌্যাংকিংয়ের গুরুত্ব না থাকে তাহলে আর র‌্যাংকিং করে লাভ কী। আমাদের চাওয়া ছিল এই টুর্নামেন্টে র‌্যাংকিংয়ের প্রাধান্যই হোক।’

গত বছর নেপালে বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টের সময় এই সিলেকশন ও র‌্যাংকিং দ্বন্দ্বে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশন। পরবর্তীতে র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতেই দল পাঠালেও ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খুবই বাজে ফলাফল করে। এরপর ইসলামিক গেমসে সিলেকশনের মাধ্যমেই দল নির্বাচন হয়। আসন্ন কমনওলেয়থ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে আবার সেই সিলেকশন-র‌্যাংকিং সমস্যা সামনে এসেছে। এ নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আহমেদ সনেটের বক্তব্য, ‘কয়েকজন (সোমা, মৌ, হৃদয়, জাভেদ, ঐশী) আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা সিলেকশনে অংশগ্রহণ করবে না। চার-পাঁচ দিন সিলেকশন হয়েছে, আমরা আশা করছিলাম এরপরও তারা ও অন্য শীর্ষ খেলোয়াড়রা আসবে, শেষ পর্যন্ত আসেনি। ফেডারেশন একটা নীতি বা পন্থা নির্ধারণ করেছে, খেলোয়াড়দের সেটা অনুসরণ করা উচিত। তারা যদি আসত তাহলে তারাই সিলেক্টেড হতো। আমাদের সিস্টেমের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তারা এক প্রকার বিদ্রোহই করেছে, এরপরও আমরা অলিম্পিক, এনএসসি বা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানায়নি। কারণ তারা আমাদেরই সন্তান।’

সিলেকশন প্রক্রিয়ায় সকল খেলোয়াড় একে অন্যের সঙ্গে খেলে। এরপর শীর্ষস্থান নির্ধারণ হয়। এতে অনেক গেম খেলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের যেমন সুযোগ থাকে, আবার একজন টানা কয়েক গেম জেতার পর চাইলে অন্য কাউকে ছাড় দিয়ে তাকেও পজিশন দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবার সিলেকশন প্রক্রিয়ায় ছেলেদের বিভাগে সাব্বির, মাসুদ রানা পরাগ, সাকিব, সাগর আলী এবং মহিলা বিভাগে বৈশাখী, অনিকা, আসমা, রাফিয়া, লক্ষী ২৭ জুলাই-২ আগস্ট দিল্লিতে কমনওয়েলথ টিটি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সিনিয়র দল তো নয়-ই, অনেকে জুনিয়র জাতীয় দলেও খেলেননি। এমন দল নিয়ে কমনওয়েলথ টিটিতে ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা বাতুলতা।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর ক্রিকেটের বাইরে অন্য সকল খেলার জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতনের আওতায় এনেছেন। টিটির শীর্ষ খেলোয়াড়রা রয়েছেন এই তালিকায়। সিলেকশনে অংশগ্রহণ না করায় কমনওয়েলথে অন্য খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে প্রবেশ করলে তখন ক্রীড়া ভাতার বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 

এজেড/এফএইচএম 

বিজ্ঞাপন