World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

ফিরে দেখা বিশ্বকাপ

১৯৩০: একটি মহাকাব্যিক ইতিহাসের গৌরবময় সূচনা

১৯৩০: একটি মহাকাব্যিক ইতিহাসের গৌরবময় সূচনা

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- ফিফা বিশ্বকাপের ২০২৬ আসরের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। মাঠের লড়াই শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েকটি দিন। ফুটবল বিশ্বের এই মেগা উৎসবকে সামনে রেখে আমাদের বিশেষ আয়োজন ‘ফিরে দেখা বিশ্বকাপ’। আজ আমরা ফিরে যাব ফুটবল ইতিহাসের সেই আদি লগ্নে, যেখানে জন্ম হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের।

ইতিহাসের পেছনে লুকিয়ে আছে এক চরম নাটকীয়তা। ১৯৩২ সালের অলিম্পিক গেমসের আয়োজক দেশ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সে সময় আটলান্টিকের ওপারে ফুটবলের প্রতি মার্কিনিদের তেমন কোনো আগ্রহ বা জনপ্রিয়তা ছিল না। ফলে মার্কিন অলিম্পিক কমিটি তাদের আয়োজনে ফুটবল ইভেন্টটি রাখার ব্যাপারে একেবারেই অনীহা প্রকাশ করে। ফুটবলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম উদাসীনতা ও অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে।

ফুটবলকে অলিম্পিকের বৃত্ত থেকে বের করে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং পেশাদার বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। অলিম্পিক কমিটির এই সিদ্ধান্তের মোক্ষম জবাব দিতে জুলে রিমে ১৯২৮ সালের ফিফা কংগ্রেসে প্রতি চার বছর পর পর একটি একক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। সেই এক জেদ আর দূরদর্শী ঘোষণাতেই জন্ম হয়েছিল আজকের ফিফা বিশ্বকাপের।

প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ লাইনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের রাজধানী মোন্তেভিডিওকে বেছে নেয় ফিফা। উরুগুয়েকে বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল বেশ কয়েকটি কারণ। ১৯২৮ সাল ছিল উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ।

এই বিবেচনা ছাড়াও উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল শেষ দুই অলিম্পিকে ফুটবল শিরোপাও জিতেছিল। কিন্তু সকল আনুষ্ঠানিকতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও বেশকিছু ঝামেলা পড়তে হয়। যাতায়াত খরচ এবং দূরত্বের কারণে এই আয়োজন থেকে বাদ পড়ে যায় কিছু দল।

তবে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৯৩০ সালে। মোট ১৩টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ। ইউরোপ থেকে অংশ নেয় ফ্রান্স, বেলজিয়াম, রোমানিয়া ও যুগোস্লাভিয়া। লাতিন আমেরিকা থেকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, চিলি ও পেরু এবং উত্তর আমেরিকা থেকে অংশ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

১৯৩০ সালের কনকনে শীতে ১৩ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ফিফা প্রথম বিশ্বকাপ। ১৩ দলকে ভাগ করা হয় চারটি গ্রুপে। নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুগোস্লাভিয়া। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে যুগোস্লাভিয়াকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারায় উরুগুয়ে। আর যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। শিরোপার লড়াইয়ে আলবিসেলেস্তেরা উরুগুয়ের কাছে হেরে যায় ৪-২ গোল ব্যবধানে।

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলটি করেন ফ্রান্সের লুসিয়ে লঁরো। পোসিটোস স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে ১৯তম মিনিটে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলটি তিনি। প্রথম বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার গুলের্মো স্টেবাইল। সর্বোচ্চ আটটি গোল করেন তিনি। চারটি গোল করে দ্বিতীয়স্থানে ছিলেন উরুগুয়ের পেদ্রো গিয়া। চারটি গোল করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট পেটেনাউডে।

ফাইনালের আগে মধুর সমস্যা:

নিজ নিজ যোগ্যতায় ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের শুরুটা করবে কে, আবার বল সরবরাহ করবে কে? সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হস্তক্ষেপ করে ফেডারেশন। সিদ্ধান্ত হয় যে, আর্জেন্টিনা ম্যাচ শুরু করবে এবং তারা বল সরবরাহ করবে। আর দ্বিতীয় উরুগুইয়ানরা বল সরবরাহ করবে এবং ম্যাচ শুরু করবে।

এমএমএম/