২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে একেবারে আলাদা। সবচেয়ে বেশি দল নিয়ে হতে চলেছে এবারের প্রতিযোগিতা। প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশ। ৩৯ দিনে ১০৪ ম্যাচ হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে—যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি স্টেডিয়ামে।
মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিশ্বকাপ। নিউ জার্সির নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে বিশ্বের পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
ফুটবলের কিংবদন্তিতুল্য স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ যাত্রা। ১১ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচ হবে।বিশ্বের আর কোনো স্টেডিয়ামের এই রেকর্ড নেই! এই স্টেডিয়ামটি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র ভেন্যু যা তিনটি আলাদা ফিফা বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজন করার গৌরব অর্জন করেছে।
১৯৬৬ সালে নির্মিত ও ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম বড় এবং বৈশ্বিক ফুটবলের অন্যতম স্বীকৃত অ্যারেনা। এই মাঠে হবে ৫টি ম্যাচ।
এই স্টেডিয়ামে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল। যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ট্রফি হাতে নিয়েছিল। ইতিহাসের একমাত্র ভেন্যু হিসেবে দুই ফুটবল আইকন পেলে ও ম্যারাডোনা এখানে শিরোপা হাতে নেন।

সমৃদ্ধ ইতিহাস
গত পাঁচ দশক ধরে, লাখ লাখ ভক্ত এই ভেন্যুতে অসাধারণ কিছু অর্জনের সাক্ষী হয়েছে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে দুই সেরা ফুটবলারকে বিশ্বকাপ ট্রফি নিতে দেখেছে।
১৯৭০ সালে ‘দ্য কিং’ ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতেন। ওই দলে ছিলেন রিভেলিনো, টোস্টাও, গার্সন ও জাইরজিনহোর মতো গ্রেটারা। টিভিতে সেই ম্যাচটি ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ টিভিতে দেখেছিল বলে জানা যায়।
১৬ বছর পর শিরোনামে আসেন ম্যারাডোনা। এই মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ম্যাচে ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র দেখা মিলেছিল।
এস্তাদিও আজটেকায় অন্যতম সেরা মুহূর্তের দেখা মিলেছে ইতালি ও জার্মানির ম্যাচে, যাকে বলা হয় ‘দ্য ম্যাচ অব দ্য সেঞ্চুরি’। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের এই দলটি ছিটকে যায়। সাত গোলের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে হয়েছিল পাঁচ গোল। ইতালি ফাইনালে উঠলেও হেরে যায় ব্রাজিলের কাছে।

মেক্সিকো জাতীয় দলও তাদের বীরদের ট্রফি হাতে নিতে দেখেছে এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে। ১৯৮৬ সালে পেনাল্টি স্পট কিক থেকে সিসর-কিকে গোল করে সেরা গোলের স্বীকৃতি পান ম্যানুয়েল নেগ্রেতে। দলটি ১৯৯৯ সালের কনফেডারেশন্স কাপে বিজয়ী হয়েছিল এবং একই বছর গোল্ড কাপ জেতে। ২০১১ সালে তাদের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
বর্তমানে এটি ক্লাব আমেরিকার হোম গ্রাউন্ড। কিন্তু অতীতেও ক্রুজ আজুল, নেকাসা, অ্যাতলেটিকো এস্পানল ও আতলান্তের হোম ভেন্যু ছিল।
মেক্সিকো সিটির বিশ্বকাপ ম্যাচ
১১ জুন: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
১৭ জুন: উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া
২৪ জুন: চেক রিপাবলিক বনাম মেক্সিকো
৩০ জুন: শেষ ৩২ এর ম্যাচ
৫ জুলাই: শেষ ষোলোর ম্যাচ
এফএইচএম

