অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার খরা ঘুচল, বৈশ্বিক ফুটবলের গত তিনটি আসরে অনুপস্থিত থাকার পর। ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বসেরাদের আতিথ্য দেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ‘বাফানা বাফানা’রা ফিফা বিশ্বকাপে ফিরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্লাব মামেলোডি সানডাউনস তাদের শ্বাসরুদ্ধকর আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে নিরপেক্ষ ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করার পর, এখন দেশটির জাতীয় দলও উত্তর আমেরিকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একই রকম পারফরম্যান্স করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
প্রধান কোচ: হুগো ব্রোস
২০২১ সালের মে মাস থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডাগআউটে আছেন হুগো ব্রোস। দেশটি অল্পের জন্য ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই বেলজিয়ান ট্যাকটিশিয়ান দলটি পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন এবং তার হাত ধরে থালেন্টে এমবাথা, অসউইন অ্যাপোলিস ও এভিডেন্স মাকগোপার মতো প্রতিভাবান তরুণদের অভিষেক হয়। তারাই দলকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
ব্রোসের অধীনে এই পরিবর্তন ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে তাদের তৃতীয় স্থান এনে দেয়। সবশেষ আসরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। তবে সাবেক ক্যামেরুন কোচের কাছে আসল লক্ষ্য হলো ২০২৬ বিশ্বকাপ এবং তার প্রধান লক্ষ্য প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

বিশ্বকাপের ফিক্সচার ও গ্রুপ ‘এ’
১১ জুন: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা - মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
১৮ জুন: চেকিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা - আটলান্টা স্টেডিয়াম
২৪ জুন: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া - এস্তাদিও মন্টেরি
বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা বিশ্বকাপ: গ্রুপ পর্ব (১৯৯৮, ২০০২, ২০১০)
শেষ বিশ্বকাপ: ২০১০ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৯৮ (গ্রুপ পর্ব)
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ৪ বার (১৯৯৮, ২০০২, ২০১০, ২০২৬)
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ৯, জয় ২, ড্র ৪, হার ৩, গোল করেছে ১১, গোল খেয়েছে ১৬
ফিফা র্যাংকিং: ৫৯তম

শেষ বিশ্বকাপ
দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বশেষ ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে না পারলেও তারা দেশবাসীকে গর্বিত করেছিল। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ১-১ ড্র দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ডিয়েগো ফোরলানের জোড়া গোলে উরুগুয়ের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। তবুও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা ইউরোপীয় পরাশক্তি এবং ২০০৬ সালের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক সমাপ্তি টানে।
প্রথম বিশ্বকাপ
ফ্রান্স ১৯৯৮-এ দক্ষিণ আফ্রিকার ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হয়, যেখানে স্বাগতিক দেশের বিপক্ষে মার্সেইতে তারা প্রথম ম্যাচটি খেলে। শেষ ১৫ মিনিট পর্যন্ত তারা কেবল ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে গেলেও, শেষ দিকে ফ্রান্স আরও দুটি গোল করলে ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে শেষ হয়।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ইতিহাস সৃষ্টি হয়; ডেনমার্কের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ গোল এবং পয়েন্ট অর্জন করে। ৫১ মিনিটে বেনি ম্যাকার্থির গোলটি তাদের এই সাফল্য এনে দেয়। এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে ২-২ ড্র করে তারা আরও একটি পয়েন্ট অর্জন করে, যেখানে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে শন বার্টলেটের পেনাল্টি গোলটি সমতা নিশ্চিত করেছিল।
বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতা
শন বার্টলেট এবং বেনি ম্যাকার্থি ২টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বার্টলেট তার দুটি গোলই করেছিলেন ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই নাটকীয় ড্র ম্যাচে। অন্যদিকে ম্যাকার্থির গোল দুটি ১৯৯৮ এবং ২০০২ বিশ্বকাপে বিস্তৃত ছিল, যা তাকে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
চারজন খেলোয়াড় যৌথভাবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন। কুইন্টন ফরচুন, বেনি ম্যাকার্থি, লুকাস রাদেবে এবং অ্যারন মোকোয়েনা—প্রত্যেকেই ৬টি করে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। ফরচুন, ম্যাকার্থি এবং রাদেবে ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলা বাফানা বাফানা দলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে মোকোয়েনা ২০০২ দলের তরুণ সদস্য হিসেবে শুরু করে ২০১০ সালের হোম বিশ্বকাপে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়
বাফানা বাফানা তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় পেয়েছিল ২০০২ সালে ডেগুতে, তবে তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়টি আসে ২০১০ সালে ব্লুমফন্টেইনে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে। প্রথমার্ধে বঙ্গানি খুমালো এবং কাটলেগো মফেলার করা গোল দুটি স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।
বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার: রনওয়েন উইলিয়ামস, রিকার্ডো গস, সিপো চেইন
ডিফেন্ডার: খুলিসো মুদাউ, এনকোসিনাতি সিবিসি, ইমে ওকোন, খুলুমানি ন্দামানে, অব্রে মোদিবা, সামুকেলো কাবিনি, থাবাং মাতুলুদি, ওলওয়েথু মাখানিয়া, কামগোনেলো সেবেলেবেলে, ব্র্যাডলি ক্রস, ম্বেকেজেলি ম্বোকাজি
মিডফিল্ডার:তেবোহো মোকোয়েনা, থালেন্দে ম্বাথা, ইয়ায়া সিথোল, জেইডেন অ্যাডামস
ফরোয়ার্ড: অসউইন অ্যাপোলিস, ইকরামি রেইনার্স, তশেপাং মোরেমি, রেলেবোহিল মোফোকেনগ, এভিডেন্স মাকগোপা, থেম্বা জোয়ানে, লাইল ফস্টার, থাপেলো মাসেকো।
এফএইচএম

