দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল বিশ্বকাপের নিয়মিত দল। ১২তম আসরে খেলতে নামছে তারা। ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ১১তম বার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে দলটি। ২০২২ বিশ্বকাপে কোরিয়া শেষ ষোলোতে উঠেছিল। ১২ বছরে প্রথমবার নকআউট পর্বের টিকিট কাটলেও ব্রাজিলের কাছে হেরে শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
প্রধান কোচ: হং মিউংবো
২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতীয় দলে ফেরেন হং। জুর্গেন ক্লিন্সমানের উত্তরসূরি হয়ে ১০ বছর পর প্রধান কোচ হিসেবে তার প্রত্যাবর্তন হয়। কোচ হিসেবে হং কোরিয়াকে ২০০৯ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন। ২০১২ সালে পুরুষ অলিম্পিক ফুটবলে তার অধীনে দেশটি ব্রোঞ্জ পদক জেতে। ২০১৪ বিশ্বকাপেও হং ছিলেন ডাগআউটে, ওইবার গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয় দল।

জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার আগে উলসান এইচডির কোচ ছিলেন হং। ১৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ক্লাবটি ২০২২ ও ২০২৩ সালে তার অধীনে টটানা কে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপস জেতে। অল্পের জন্য উলসান এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে না পারলেও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
কোরিয়ার বিশ্বকাপ সূচি
১১ জুন: কোরিয়া বনাম চেক রিপাবলিক- এস্তাদিও গুয়াদালাজারা
১৮ জুন: মেক্সিকো বনাম কোরিয়া- এস্তাদিও গুয়াদালাজারা
২৪ জুন: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কোরিয়া- এস্তাদিও মন্টেরি।
বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন
সেরা বিশ্বকাপ: চতুর্থ স্থান (২০০২)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (শেষ ষোলো)
প্রথম বিশ্বকাপ: সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১২ বার (১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
টানা যোগ্যতা অর্জন: ১১ বার (১৯৮৬ সাল থেকে)
বিশ্বকাপ স্বাগতিক: ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ কোরিয়া/জাপান
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ ১৮, জয় ৭, ড্র ১০, হার ২১, গোল করেছে ৩৯, গোল খেয়েছে ৭৮
ফিফা র্যাংকিং: ২৫তম
প্রথম বিশ্বকাপ
১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে অদ্ভুত পরিস্থিতির মাধ্যমে কোরিয়ার অভিষেক হয়। ওই আসর শুরু হয় কোরিয়া যুদ্ধের এক বছরও তখন পার হয়নি, দেশেও চলছিল দুর্দশা। সব খেলোয়াড়ের জন্য প্লেনে যথেষ্ট আসন ছিল না, তাদের কেউ কেউ আলাদা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানে রওনা হয়। ৬০ ঘণ্টার ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে গন্তব্যে পৌঁছায়। প্রথম ম্যাচেই তারা ৯-০ গোলে হাঙ্গেরির কাছে বিধ্বস্ত হয়। মানসিক ও শারীরিকভাবেও বিধ্বস্ত ছিল তারা, সাত জন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচটা শেষ করে কোরিয়া। তারপর ৭-০ গোলে তুরস্কের কাছে হেরে শেষ হয় তাদের প্রথম বিশ্বকাপ।

শেষ বিশ্বকাপ
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোরিয়া প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় সাবেক পর্তুগিজ মিডফিল্ডার পাউলো বেন্তোকে, যার মুখোমুখি তারা হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ঘানার কাছে ৩-২ গোলে হারের পর পর্তুগালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল। ওখানেই শেষ হয় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হারে কোরিয়ানরা।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
বিশ্বকাপে কোরিয়ার শীর্ষ গোলদাতা আহন জুংহোয়ান ও সন হিউংমিন। দুজনেই তিনটি করে গোল করেছেন। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জুংহোয়ান সমতাসূচক গোল করেন এবং ইতালির বিপক্ষে শেষ ষোলোতে করেন গোল্ডেন গোল। ২০০৬ সালে টোগোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানো ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন।
সন বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলেন ২০১৪ বিশ্বকাপে। আলজেরিয়ার কাছে ৪-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে সান্ত্বনাসূচক গোল করেন তিনি। তারপর ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে দূরপাল্লার শটে চমৎকার গোল করেন। একই আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ২-০ গোলের অবিস্মরণীয় জয়ে শেষ মুহূর্তে জালের দেখা পান।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
বর্তমান কোচ হংয়ের চেয়ে বেশি ম্যাচ আর কেউ বিশ্বকাপে খেলেননি। ১৯৯০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চার আসরে ১৬ ম্যাচ খেলেন তিনি। ২০০২ সালের স্কোয়াডের অধিনায়ক ছিলেন এবং দারুণ পারফরম্যান্স করে ব্রোঞ্জ বল জেতেন। তার পরে আছেন পার্ক জিসুং (১৪), লি ইয়াংপিও (১২) এবং লি উনজায়ে (১১) ও কিম নামিল (১১)। হংয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ড এবার ভেঙে দিতে পারেন ইতোমধ্যে ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা সন, সেটা নির্ভর করছে কোরিয়া কতদূর যেতে পারে তার ওপর।
সবচেয়ে বড় জয়
কোরিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে ২-০ গোলে। প্রথমবার ২০০২ সালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে, তারপর ২০১০ সালে গ্রিসের বিপক্ষে। সবচেয়ে বিখ্যাত জয় এসেছিল ২০১৮ সালে রাশিয়াতে। আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে দুই গোল করেন কিম ইয়াংউন ও সন।
বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার: জো হিউন-উ, কিম সেউং-গিউ, সং বাম-কেউন
ডিফেন্ডার: কিম মিন-জে, জো ইউ-মিন, লি হান-বিওম, কিম টে-হিউন, পার্ক জিন-সিওপ, লি কি-হিয়েক, লি টে-সিওক, সিওল ইয়ং-উ, জেনস কাস্ট্রপ, কিম মুন-হওয়ান
মিডফিল্ডার: ইয়াং হিউন-জুন, পাইক সেউং-হো, হুয়াং ইন-বিওম, কিম জিন-কিউ, বে জুন-হো, উম জি-সং, হুয়াং হি-চ্যান, লি ডং-গিয়ং, লি জে-সং, লি কাং-ইন
ফরোয়ার্ড: ওহ হিউন-কিউ, সন হিউং-মিন, চো কিউ-সং
এফএইচএম
