২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে একেবারে আলাদা। সবচেয়ে বেশি দল নিয়ে হতে চলেছে এবারের প্রতিযোগিতা। প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশ। ৩৯ দিনে ১০৪ ম্যাচ হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে—যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি, মেক্সিকোর তিনটি ও কানাডার দুটি স্টেডিয়ামে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মিশ্রণ নিয়ে মন্টেরে স্টেডিয়াম ২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বমঞ্চে মেক্সিকোর ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ভেন্যু মন্টেরে স্টেডিয়াম। মেক্সিকোর নুয়েভো লিওন প্রদেশের গুয়াদালুপেতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
এই স্টেডিয়ামে প্রায় ৫৩,৫০০ জন দর্শক একসাথে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। স্টেডিয়ামটি ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এর মাধ্যমে মেক্সিকান ফুটবলে এক নতুন আধুনিক স্থাপত্য যুগের সূচনা হয়।
স্টেডিয়ামটি মেক্সিকোর অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ঘরোয়া ফুটবল ক্লাব সিএফ মন্টেরের নিজস্ব হোম গ্রাউন্ড। ২০১৫ সালে স্টেডিয়ামটির উদ্বোধনী ম্যাচে পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকার মুখোমুখি হয়েছিল মন্টেরে। ওই ম্যাচে স্বাগতিক দল ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়।

স্থানীয়ভাবে এই স্টেডিয়ামটিকে একটি বিশেষ ডাকনামে ডাকা হয়—‘এল হিগান্তে দে আসেরো’, যার বাংলা অর্থ স্টিলের দৈত্য। এর বাহ্যিক কাঠামো তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল ব্যবহার করার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। এর ধাতব রূপটি দূর থেকে দেখতে বেশ রাজকীয় লাগে।
মন্টেরে স্টেডিয়ামকে আমেরিকার অন্যতম চাক্ষুষ আকর্ষণীয় ফুটবল ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্টেডিয়ামটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এর উন্মুক্ত প্রান্ত দিয়ে পেছনের বিখ্যাত ‘সেরো দে লা সিয়া’ পর্বতমালা সরাসরি দৃশ্যমান হয়।
মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের প্রধান ফুটবল কেন্দ্র হিসেবে এই স্টেডিয়ামটি দেশি-বিদেশি ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে এই মাঠে মোট ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
১৫ জুন: সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া
২১ জুন: তিউনিসিয়া বনাম জাপান
২৫ জুন: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
৩০ জুন: শেষ ৩২- এফ১ বনাম সি২
এফএইচএম

