২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নেবে কানাডা। দেশটি তৃতীয়বারের মতো ফিফার এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছে।
‘লেস রুজ’ বা ‘দ্য রেড’-দের আগের দুটি বিশ্বকাপ ছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো ও ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। আমেরিকান কোচ জেসি মার্শের অধীনে এবং ঘরের মাঠের সমর্থকদের অনুপ্রেরণায় কানাডিয়ানরা এবার শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে এবং হয়তো আরও বড় স্বপ্ন দেখছে। কারণ এই স্কোয়াডের ওপর অনেক আস্থা কোচের, ‘বিশ্বকাপের জন্য কানাডার এটি সেরা স্কোয়াড না হলেও অন্যতম সেরা স্কোয়াড।’

প্রধান কোচ: জেসি মার্শ
গত বছরের মে মাসে নিযুক্ত হওয়া মার্শ তার খেলোয়াড় জীবনে একজন পথিকৃৎ ছিলেন। ১৯৯৬ সালে মেজর লিগ সকারের উদ্বোধনী মৌসুমে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। উত্তর আমেরিকার শীর্ষ স্তরের লিগে ৩০০-এর বেশি ম্যাচে অংশ নেওয়ার পর তিনি কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। মন্ট্রিল ইমপ্যাক্ট ও নিউইয়র্ক রেড বুলসের দায়িত্ব পালনের পর তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সলজবার্গ, লাইপজিগ ও লিডস ইউনাইটেডের হট সিটে বসেছিলেন।
কানাডার সূচি
১২ জুন: কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা — টরন্টো স্টেডিয়াম
১৮ জুন: কানাডা বনাম কাতার — বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার
২৪ জুন: সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা — বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার
বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: কনকাকাফ
সেরা সাফল্য: গ্রুপ পর্ব (১৯৮৬, ২০২২)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: মেক্সিকো ১৯৮৬
অংশগ্রহণ: তিনবার (১৯৮৬, ২০২২, ২০২৬)
টানা অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা: দুইবার
সামগ্রিক বিশ্বকাপ রেকর্ড: ম্যাচ ৬, জয় ০, ড্র ০, হার ৬, গোল করেছে ২, গোল খেয়েছে ১২।
ফিফা র্যাংকিং: ৪৮

প্রথম বিশ্বকাপ
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকানরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পায়। গুয়াতেমালা ও হাইতির সমন্বয়ে গঠিত বাছাইপর্বের গ্রুপে শীর্ষে থেকে তারা ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এক পুলে জায়গা করে নেয়। জিন-পিয়েরে পাপিনের হেডার টনি ওয়েটার্সের শিষ্যদের ১-০ গোলে পরাজয়ের স্বাদ দেয়। এরপর তারা হাঙ্গেরি ও ওলেগ ব্লখিন-অনুপ্রাণিত সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে টানা ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়।
শেষ বিশ্বকাপ
কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের গ্রুপে শীর্ষে থেকে কানাডা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তাদের স্থান নিশ্চিত করেছিল। তাদের সামনে ছিল এক কঠিন গ্রুপ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রচুর সুযোগ তৈরি করে হুমকি দিলেও কানাডিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আলফোনসো ডেভিস মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে একটি ঐতিহাসিক গোল করেন, তবে সেই ম্যাচে তারা ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায়। তাদের বিশ্বকাপ শেষ হয় পরবর্তীতে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরে।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা
বর্তমানে আলফোনসো ডেভিস বিশ্বকাপে কানাডার একমাত্র গোলদাতা। কাতার ২০২২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তার দুর্দান্ত হেডার তাকে কানাডিয়ান ফুটবল ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে। তবে বর্তমানে দলের আক্রমণভাগে যে শক্তি রয়েছে, তাতে এই রেকর্ড তার কাছে খুব বেশিদিন থাকবে না বলেই মনে হয়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
কানাডার অন্তত ২৩ জন খেলোয়াড়ের নামের পাশে তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমান দলের অনেকেই আগামী বছর বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মঞ্চে তাদের সেই সংখ্যাটি বাড়িয়ে নিতে মুখিয়ে থাকবেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয়
কানাডা এখনও তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের খোঁজে রয়েছে। তবে তাদের বর্তমান দলের মান ও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের আবেগী সমর্থনের কথা বিবেচনা করলে, আসন্ন আসরে তারা সেই রেকর্ডটি ঠিক করে নিতে পারবে না— এমন বাজি ধরা নিশ্চিতভাবেই কঠিন।
কানাডার বিশ্বকাপ দল
গোলকিপার: ম্যাক্সিম ক্রেপো, ওয়েন গুডম্যান, ডেন সেন্ট ক্লেয়ার।
ডিফেন্ডার: মোইসে বোম্বিটো, ডেরেক কর্নিলিয়াস, আলফোনসো ডেভিস, লুক ডি ফুগারোলেস, অ্যালিস্টেয়ার জনস্টন, আলফি জোনস, রিচি লারিয়া, নিকো সিগুর, জোয়েল ওয়াটারম্যান।
মিডফিল্ডার: আলি আহমেদ, তাজন বুকানন, ম্যাথিউ চোইনিয়েরে, স্টিফেন ইউস্তাকিও, মার্সেলো ফ্লোরেস, ইসমায়েল কোনে, লিয়াম মিলার, জোনাথন ওসোরিও, নাথান সালিবা, জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ।
ফরোয়ার্ড: জোনাথন ডেভিড, প্রমিস ডেভিড, কাইল লারিন, তানি ওলুয়াসেয়ী।
এফএইচএম

