বিজ্ঞাপন

১৯৫৪: পুসকাসদের স্বপ্নভঙ্গ ও পশ্চিম জার্মানির অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

১৯৫৪: পুসকাসদের স্বপ্নভঙ্গ ও পশ্চিম জার্মানির অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর, নাটকীয় এবং বিস্ময়কর আসর ছিল ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপটি আজ এত বছর পরও ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে হাঙ্গেরির সেই অজেয় ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্সদের হৃদয়ভাঙা ট্র্যাজেডি এবং পশ্চিম জার্মানির রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের জন্য। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা একটি জাতি কীভাবে ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে নিজেদের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিল, ১৯৫৪ সালের আসরটি ছিল ঠিক সেই রকমই এক মহাকাব্য।

সে সময়ের বিশ্ব ফুটবলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল হাঙ্গেরির। কিংবদন্তি পুসকাস, ককসিসদের নিয়ে গড়া দলটি টানা ৩২ ম্যাচে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে এসেছিল। তারা গ্রুপ পর্বে পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয়।

পুরো টুর্নামেন্টে হাঙ্গেরি মোট ২৭টি গোল করেছিল, যা আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো একক আসরে কোনো দলের করা সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। একই সাথে, ১৯৫৪ সালের এই আসরটি ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলবহুল বিশ্বকাপ, যেখানে ম্যাচ প্রতি গড়ে ৫.৩৮টি করে গোল হয়েছিল।

৪ জুলাই, বার্নের ওয়াঙ্কডর্ফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মঞ্চে আবার মুখোমুখি হয় হাঙ্গেরি ও পশ্চিম জার্মানি। গ্রুপ পর্বের ফল মাথায় রেখে সবাই ধরে নিয়েছিল হাঙ্গেরি সহজেই ম্যাচটি জিতবে। ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিল ঠিক সেভাবেই। মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে হাঙ্গেরি যখন প্রায় শিরোপার ঘ্রাণ পাচ্ছিল, তখনই ফুটবল বিশ্ব দেখল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তন।

বার্নের আকাশে তখন অঝোর বৃষ্টি। কাদাভরা ভারী মাঠে হাঙ্গেরির চেনা ছন্দ হারিয়ে যেতে শুরু করে, আর ঠিক তখনই দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে জার্মানরা। একে একে গোল শোধ করে ম্যাচের ৮৪ মিনিটে হেলমুট রানের করা এক জাদুকরী গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পশ্চিম জার্মানি।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হাঙ্গেরির অধিনায়ক পুসকাসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে স্তব্ধ হয়ে যায় হাঙ্গেরি। ৩-২ গোলের এই জয়টি ফুটবল ইতিহাসে মিরাকল অব বার্ন বা বার্নের অলৌকিক ঘটনা নামে অমর হয়ে আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানির জন্য এই জয়টি ছিল স্রেফ একটি ফুটবল ট্রফি জেতার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে থাকা একটি দেশের মানুষের কাছে এই জয়টি ছিল মূলত একটি জাতির নতুন করে বেঁচে ওঠার এবং পুনর্জাগরণের প্রতীক।

ব্যাটল অব বার্ন:

কোয়ার্টার ফাইনালে হাঙ্গেরি ও ব্রাজিলের মধ্যকার ম্যাচটি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সহিংস ম্যাচ হিসেবে কুখ্যাত হয়ে আছে, যা ব্যাটল অব বার্ন নামে পরিচিতি পায়। মাঠের তীব্র লড়াই ও স্লেজিং ছাড়িয়ে ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড় এবং অফিশিয়ালরা ড্রেসিংরুমের টানেলে ভয়াবহ হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

এমএমএম/