১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এবং একই সাথে ব্রাজিলের অদম্য শক্তির এক অনন্য দলিল। চিলিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষত কাটিয়ে আয়োজিত এই আসরটি সাক্ষী হয়ে আছে ব্রাজিলের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের।
টুর্নামেন্ট শুরুর দ্বিতীয় ম্যাচেই চেকাস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান কিংবদন্তি পেলে। যখন সবাই ভাবছিল ব্রাজিল এবার খেই হারিয়ে ফেলবে, তখনই জ্বলে ওঠেন লিটল বার্ড খ্যাত গারিঞ্চা। ড্রিবলিংয়ের জাদুতে প্রতিপক্ষকে একাই তটস্থ করে রাখেন তিনি। পেলের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের পুরো আক্রমণভাগ টেনে নিয়ে যান গারিঞ্চা এবং আমানিলদো। গারিঞ্চার জাদুকরী পারফরম্যান্সেই ব্রাজিল পৌঁছায় ফাইনালে।
১৯৬২ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস আসর হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে স্বাগতিক চিলি এবং ইতালির মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ব্যাটল অফ সান্তিয়াগো নামে পরিচিত।

ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতি, ঘুষোঘুষি এবং লাথি মারায় জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকবার পুলিশকে মাঠে নামতে হয়েছিল। ফুটবল মাঠের সেই দৃশ্য আজও ক্রীড়া জগতের এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে।
এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো গোল গড় নিয়মটি ব্যবহার করা হয় পয়েন্ট সমান হলে দলকে আলাদা করতে। আসরে মোট ৮৯টি গোল হয়েছিল, যেখানে গড়ে প্রতি ম্যাচে গোল ছিল ২.৭৮টি। এটিই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে গড় গোল সংখ্যা ৩-এর নিচে নেমে এসেছিল। গারিঞ্চাসহ মোট ৬ জন খেলোয়াড় ৪টি করে গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন।
ফাইনালে চেকাস্লোভাকিয়ার মুখোমুখি হয়ে শুরুতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর মাধ্যমে ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এর পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ে সেলেসাওরা। এরপর আজ পর্যন্ত আর কোনো দল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ যদি পেলের হয়ে থাকে, তাহলে ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ ছিল গারিঞ্চার। পেলের চোটের কারণে সবাই যখন ব্রাজিলকে দুর্বল ভাবতে শুরু করেছিল, তখনই ব্রাজিলের ত্রাতা হয়ে আসেন ছোট পাখি গারিঞ্চা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যন্ত একাই টেনে এনেছেন ব্রাজিলকে।
কিন্তু চিলির বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাকে মাঠের বাইরে বের করে দেন রেফারি। ফলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় ফাইনালে। যদিও শেষ মুহূর্তে বিশেষ বিবেচনায় গারিঞ্চাকে খেলার অনুমতি দেয় ফিফা। আর গারিঞ্চাই হয়ে ওঠেন ফাইনালের ব্রাজিলের রক্ষাকর্তা।
ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো গারিঞ্চা পুরো টুর্নামেন্ট মোট চারটি গোল করেন। তাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান। যদিও একা সর্বোচ্চ গোলদাতা হননি তিনি। গারিঞ্চা ছাড়াও সর্বোচ্চ চারটি করে গোল করেছেন ভাভা, লিওনেল সানচেজ, ফ্লোরিয়েন আলবার্ট, ভ্যালেন্টাইন ইভানোবভ ও ড্রাজান জারকোভিচ। এছাড়া তিনটি করে গোল করেন আমারিন্দো, এডোলফ স্কেরার লাজোস টিসি এবং মিলান গ্যালিক।
এমএমএম/
