ফুটবলে সাফল্যের সঙ্গে অর্থের সম্পর্ক যতটা, তার চেয়ে বেশি হয়তো আবেগের। তাইতো শুধুমাত্র অর্থ দিয়ে এখানে সাফল্য বিচার করা যায় না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্থের অঙ্কে মাপারও সুযোগ নেই। তবে সেই স্বপ্ন ছুঁতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো যে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত, তার প্রমাণ মিলছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। শিরোপার খুঁজে দলগুলো কোটি কোটি টাকা ঢালছে ডাগআউটে।
সম্প্রতি ফুটবলার ও কোচদের বেতনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিলারি লিকস’-এর বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্ল্যানেট ফুটবল। সেখানে উঠে এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া ১০ কোচের নাম। তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সফলতার ছাপ রেখে যাওয়া বেশ কয়েকজন তারকা কোচ। কার্লো আনচেলত্তি, টমাস টুখেল কিংবা মাউরিসিও পচেত্তিনোর মতো বড় নামদের ভিড়ে জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের।
১০. রোনাল্ড কোম্যান (নেদারল্যান্ডস)
বার্ষিক বেতন: ২৬ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড
নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে এটি কোম্যানের দ্বিতীয় অধ্যায়। বার্সেলোনার সাবেক এই কোচের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তালিকার দশম স্থানে থাকলেও তার বেতনের অঙ্ক মোটেও ছোট নয়।
৯. মার্সেলো বিয়েলসা (উরুগুয়ে)
বার্ষিক বেতন: ২৬ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড
‘এল লোকো’ নামে পরিচিত বিয়েলসা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে কোচ হিসেবে নামছেন। আর্জেন্টিনা ও চিলির পর এবার উরুগুয়েকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
৮. লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা)
বার্ষিক বেতন: ২৮ লাখ পাউন্ড
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানো স্কালোনির অবস্থান তালিকার অষ্টম স্থানে। আর্থিক সংকটের সময়ে কম খরচে দায়িত্ব পাওয়া এই কোচই পরে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বিশ্বসেরার মুকুট।
৭. দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স)
বার্ষিক বেতন: ৩৩ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও কোচ দেশম এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে ফরাসি ডাগআউটে তার শেষ মিশন।
৬. রবার্তো মার্তিনেজ (পর্তুগাল)
বার্ষিক বেতন: ৩৫ লাখ পাউন্ড
বেলজিয়ামের পর এখন পর্তুগালের দায়িত্বে আছেন মার্তিনেজ। ২০২৫ নেশনস লিগ জয়ের পর তার ওপর প্রত্যাশাও বেড়েছে অনেক।
৫. ফ্যাবিও ক্যানাভারো (উজবেকিস্তান)
বার্ষিক বেতন: ৩৫ লাখ পাউন্ড
তালিকার সবচেয়ে বড় চমক ক্যানাভারো। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি এবার উজবেকিস্তানের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে ওঠা উজবেকিস্তান তাকে নিয়োগ দিয়েছে অভিজ্ঞতার কারণে।
৪. জুলিয়ান নাগেলসম্যান (জার্মানি)
বার্ষিক বেতন: ৪২ লাখ পাউন্ড
আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত নাগেলসম্যানের হাত ধরে জার্মানি হারানো গৌরব ফেরানোর স্বপ্ন দেখছে।
৩. মাউরিসিও পচেত্তিনো (যুক্তরাষ্ট্র)
বার্ষিক বেতন: ৪৫ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র বড় বাজি ধরেছে পচেত্তিনোর ওপর। তিনি বর্তমানে মার্কিন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া কোচ।
২. টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড)
বার্ষিক বেতন: ৫০ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড
গ্যারেথ সাউথগেটের বিদায়ের পর ইংল্যান্ড কোনো ঝুঁকি নেয়নি। চেলসি ও বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক কোচ টুখেলকে এনে দিয়েছে রেকর্ড অঙ্কের চুক্তিতে।
১. কার্লো আনচেলত্তি (ব্রাজিল)
বার্ষিক বেতন: ৮২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড
সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে রয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই কোচকে ব্রাজিল দায়িত্ব দিয়েছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী আনচেলত্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে তার রেকর্ড বেতনে।
এইচজেএস

