১৯৭০ সালে পেলের বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্ব যখন এক নতুন যুগের অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ১৯৭৪ সালের পশ্চিত জার্মানি বিশ্বকাপ নিয়ে আসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এই আসরটি ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে মূলত দুটি কারণে- ডাচদের টোটাল ফুটবল জাদুতে বিশ্বকে মোহিত করা এবং ফুটবলের আঙিনায় রাজনীতির এক অভূতপূর্ব দৃশ্য, যেখানে জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিল খোদ জার্মানি!
১৯৭০ সালে ব্রাজিল জুলেরিমে ট্রফিটি চিরতরে নিজেদের করে নেওয়ার পরের আসরেই প্রথম উন্মোচন করা হয় বর্তমানের ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি। সেবার এই নতুন ট্রফির দাবিদার হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল বিশ্বের সোর ১৬টি দল।
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপের সমার্থক শব্দ ছিল নেদারল্যান্ডস। ইয়োহান ক্রুইফের নেতৃত্বে এবং কোচ রাইনাস মিশেলসের হাত ধরে তারা বিশ্বকে দেখায় টোটাল ফুটবল। যেখানে মাঠের নির্দিষ্ট কোনেসা পজিশন নয়, বরং একজন খেলোয়াড় যেকোনো অবস্থানে খেলতে পারেন।

ডাচদের এই কৌশলের কাছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিগুলো পরাস্থ হয়েছিল। ক্রইফের সেই বিখ্যাত ক্রইফ টার্ন আজও ফুটবলের অন্যতম শৈল্পিক মুভ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি ছিল গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি। স্নায়ু যুদ্ধের উত্তাপ তখন ফুটবল মাঠে। হামবুর্গের সেই ম্যাচে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পূর্ব জার্মানি ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিল ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি পশ্চিম জার্মানিকে। এটিই ছিল ইতিহাসে দুই জার্মানির একমাত্র ফুটবলীয় লড়াই।
তবে টুর্নামেন্টে শেষ হাসি হাসে পশ্চিম জার্মানিই। মিউনিখের ফাইনালে ডাচদের সেই শৈল্পিক ফুটবলকে রুখে দিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। পল ব্রেইটনার এবং গার্ড জার্ড মুলারের গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। স্বাগতিক অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে নতুন এই ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন।
এই আসরেই চিলির কার্লোস ক্যাসজেলিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথমবার লাল কার্ড দেখানো হয়।
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানারআপ কোনোটাই হতে পারেনি পোলান্ড ফুটবল দল। এরপরও সেই আসরটা আজও স্মরণ করেন পোলিশ সমর্থকরা। কেননা ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার সেরা চারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পোল্যান্ড।
সেমিফাইনালের লড়াইয়ে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে মাঠে নামে পোলিশরা। কিন্তু সেই ম্যাচের স্মৃতিটা সুখকর ছিল না তাদের। জার্মানির বিপক্ষে খেলতে নেমে ৭৫তম মিনিট পর্যন্ত নিজেদের গোলবার অক্ষত রাখলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ১-০ গোল ব্যবধানে হেরে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের।

তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারিত ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্ববাসীকে আরও একবার চমকে দেয় পোলিশরা। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ১-০ গোল ব্যবধানে জিতে নেয় পোল্যান্ড ফুটবল দল।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন পোল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তোলা পোলিশ কিংবদন্তি ফুটবলার জর্জ লাতো। সর্বোচ্চ সাতটি গোল করেছিলেন তিনি। এছাড়া পাঁচটি করে গোল করে যথাক্রমে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন আরেক পোলিশ তারকা আন্দ্রেজ সাজারমাচ ও ইয়োহান নেসকেন্স।
এমএমএম/

