মহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়ার মতো আইভরি কোস্টও ২০১৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে। নিজেদের শেষ বিশ্বকাপে তারা নকআউট পর্বে ওঠার খুব কাছাকাছি ছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়।
ইমার্স ফায়ের শিষ্যরা ২০২৩ সালে নিজেদের মাটিতে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস জয়ের স্বাদ পায়। তারা এবার এক নতুন লক্ষ্য নিয়ে উত্তর আমেরিকায় যাচ্ছে। ২০০৬ সালে অভিষেকের পর থেকে গত তিনবারের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর অধরা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্য পূরণের মিশনে নামার আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছে তারা প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে।
আইভরি কোস্টের প্রধান কোচ: ইমার্স ফায়ে
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস চলাকালে জিন-লুই গাসেট বরখাস্ত হওয়ার পর ইমার্স ফায়ে দলের দায়িত্ব নেন। ফায়ে কতটা দ্রুত সাফল্যের দেখা পেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ৪১ বছর বয়সী এই কোচ শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে দায়িত্ব পেলেও, আইভরি কোস্টকে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন। গাসেটের কোচিং স্টাফ থেকে পদোন্নতি পাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নাইজেরিয়াকে ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে আবির্ভূত হন। সাবেক এই আন্তর্জাতিক মিডফিল্ডার এরপর থেকে ডাগআউটে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
ফায়ের অধীনে আইভরি কোস্ট ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দাপটের সাথে খেলেছে। তারা কোনো গোল হজম না করে এবং অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সূচি
১৪ জুন: আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর — ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
২০ জুন: জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট — টরন্টো স্টেডিয়াম
২৫ জুন: কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট — ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
সেরা সাফল্য: গ্রুপ পর্ব (২০০৬, ২০১০, ২০১৪)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: ২০১৪
প্রথম বিশ্বকাপ: ২০০৬
অংশগ্রহণ: ৪ বার (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০২৬)
সম্মিলিত রেকর্ড: ম্যাচ ৯, জয় ৩, ড্র ১, হার ৫, গোল করেছে ১৩, গোল খেয়েছে ১৪
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৩৩তম।
আইভরি কোস্টের প্রথম বিশ্বকাপ
২০০৬ সালে জার্মানিতে আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ অভিষেক ছিল অগ্নিপরীক্ষার মতো। শুরুতেই তাদের পড়তে হয় আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো দুই ফুটবল পরাশক্তির গ্রুপে। কোচ হেনরি মিশেলের অধীনে আইভরিয়ানরা দারুণ লড়াই করলেও কোনো অলৌকিক সাফল্য আসেনি। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ এবং ডাচদের কাছেও একই ব্যবধানে হেরে তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজে। তবে শেষ ম্যাচে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তারা মাথা উঁচু করে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
আইভরি কোস্টের সর্বশেষ বিশ্বকাপ
আফ্রিকান এই জায়ান্টরা সর্বশেষ ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল, যেখান থেকে তাদের বেশ হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়। সাবেক সেন্টার ব্যাক কোলো তুরে ফিফাকে বলেছিলেন, ‘ব্রাজিলের মতো ফুটবল তীর্থে খেলার রোমাঞ্চ আমাদের ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছিল।’
সাবরি লামুশির দল জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে আসর শুরু করেছিল। তবে এরপর হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়ার কাছে তারা ২-১ গোলে হেরে যায়।
শেষ ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে ড্র করলেই তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ১৬ নিশ্চিত হতো। কিন্তু ৯৩ মিনিটে জর্জিওস সামারাসের একটি পেনাল্টি গোল আইভরিয়ানদের স্বপ্ন চুরমার করে দেয় এবং গ্রিস পরবর্তী রাউন্ডে চলে যায়।

বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা
২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আইভরি কোস্ট মোট ১৩টি গোল করেছে। এর মধ্যে চারজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপে দুটি করে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন– কিংবদন্তি দিদিয়ের দ্রগবা (২০০৬ ও ২০১০), আরুনা দিনদান (২০০৬), উইলফ্রিড বনি এবং গার্ভিনহো (২০১৪)। দ্রগবা ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে দেশের প্রথম গোলদাতার সম্মান অর্জন করেন।
বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
ইয়ায়া তুরে আইভরি কোস্টের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই মিডফিল্ডার ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের ৯টি ম্যাচের প্রতিটিতেই মাঠে ছিলেন। ব্রাজিলের মাটিতে গ্রিসের কাছে হারের পর তিনি এবং তার সতীর্থরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এবং ২০১৫ সালে ঘানাকে পেনাল্টি শুটআউটে ৯-৮ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস জয় করেন।
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে তরুণ দল আইভরি কোস্টের। ২৬ জনের স্কোয়াডের গড় বয়স ২৫.৮ বছর।
আইভরি কোস্ট বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- ইয়াহিয়া ফোফানা, মোহামেদ কোনে, আলবান লাফোঁ
ডিফেন্ডার- এমমানুয়েল আগবাদু, ক্রিস্টোফার ওপেরি, ওসমান দিওমান্দে, গ্যুয়েলা দোয়ে, ঘিসলাঁ কোনান, ওডিলন কসুনু, উইলফ্রিড সিঙ্গো, ইভান এনডিক্কা
মিডফিল্ডার- সেকো ফোফানা, পারফে গুইয়াগন, ক্রিস্ট ইনাওয়া ওলাই, ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, জ্যাঁ-মিশেল সেরি
ফরোয়ার্ড- সাইমন আদিংরা, আঞ্জ-ইয়োয়ান বনি, আমাদ দিওলো, ওমর দিয়াকিতে, ইয়ান দিওমান্দে, ইভান গুয়েসঁদ, নিকোলাস পেপে, বাজারমানা তুরে, এলিয়ে ওয়াহি
এফএইচএম

