সারা বিশ্বের আলোচনায় এখন ফিফা বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলেও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। পুরুষ দল আজ (শুক্রবার) রাতে সান মারিনোতে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। আর নারী দল আগামীকাল সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতের।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল টানা দু’বার সাফ চ্যাম্পিয়ন। এবার তাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে লড়বেন মারিয়ারা। গত দুই চ্যাম্পিয়ন দলেও ছিলেন মারিয়া মান্দা। এবার তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিরোপা লড়াইয়ে নামবে। আজ ফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা বলেন, ‘আমাদের টিমের সব প্লেয়ার ফিট আছে। নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও আমরা জয় পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। ফাইনালে মানসিকভাবে দারুণ উজ্জীবিত।’
এবারের ফাইনালটি বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন রকম। স্বাগতিক ভারতকে হারাতে পারলে সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ। তাই কালকের ম্যাচে অতিমাত্রায় মনোযোগী বাংলাদেশ, ‘ক্যাপ্টেন এবং প্লেয়ার হিসেবে, মনের ভেতর এই সুযোগটা কাজে লাগানোর তাগিদ কাজ করছে। টানা তৃতীয়বারের মতো সুযোগ এসেছে, এমন সুযোগ সবসময় আসে না। দেশবাসীকে একটি ভালো খেলা উপহার দিতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করব।’
বাংলাদেশ গত দুই সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে যায়। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তেমন ভালো খেলতে পারেনি পিটার বাটলারের দল। এসব ছাপিয়ে অধিনায়কের মনোযোগ এখন শুধুই শিরোপায়, ‘আমরা এখন শুধু কালকের ফাইনাল নিয়েই ভাবছি অন্য কিছু নয়।’
ভারত শক্তিশালী দল এবং স্বাগতিক। এ নিয়ে তেমন শঙ্কিত নন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘বিগত সাফে আমরা যখন নেপালে খেলেছিলাম, তখনও সেখানে প্রচুর দর্শক এবং অনেক চাপ ছিল। আমরা সেগুলো ফেস করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তাই দর্শক বা বাইরের কোনো কিছু নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা জানি ভারত শক্তিশালী দল, তবে আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্যই প্রস্তুত হয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মানসিকতা আমাদের আছে।’
বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার যেকোনো মূল্যে কালকের ফাইনাল জিততে চান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সবসময় সুন্দর ফুটবল খেলাটা মুখ্য নয়, আসল বিষয় হলো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া। আমি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশায় আছি এবং নিশ্চিত করে বলতে পারি, সেরা দলগুলো শিরোপা জয়ের পথে সেমিফাইনাল বা ফাইনালে সবসময় দারুণ ফুটবল খেলে না। আসল বিষয় হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বের করে আনা।’
এজেড/এএইচএস
