World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

আমেরিকার মাটিতে ৯৪-এর পুনরাবৃত্তি চায় সুইডেন

আমেরিকার মাটিতে ৯৪-এর পুনরাবৃত্তি চায় সুইডেন

একের পর এক প্রতিকূলতা কাটিয়ে সুইডেন ১৩তম বার বিশ্বকাপে অংশ নেবে। আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত সবশেষ টুর্নামেন্টে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। ১৯৯৪ সালের সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চায় সুইডিশরা।

স্ক্যান্ডিনাভিয়ানদের বিশ্বকাপ ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৫৮ সালের আসরে জর্জ রেইনরের অধীনে তারা ফাইনাল খেলেছিল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়া সুইডেন এবার আরেক ইংলিশম্যান গ্রাহাম পটারের অধীনে খেলবে। ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে ছাপ রাখতে চায় তারা।

সুইডেনের প্রধান কোচ: গ্রাহাম পটার

২০২৫ সালের অক্টোবরে সুইডেন কোচ হিসেবে জন ডাহল টমাসনের স্থলাভিষিক্ত হন পটার। এটা এই ইংরেজ কোচের জন্য ছিল অনেকটা ঘরে ফেরার মতো ব্যাপার। এর আগে সুইডেনের ক্লাব ওস্টারসুন্ডকে সুইডিশ ফুটবলের চতুর্থ স্তর থেকে শীর্ষ লিগে তোলেন এবং ২০১৭ সালে সুইডিশ কাপেও সাফল্য পান। তার অধীনে উয়েফা ইউরোপা লিগ গ্রুপ পর্বও খেলেছে দল।

ওস্টারসুন্ডের সঙ্গে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর ইংল্যান্ডে ফিরে সোয়ানসি সিটি, ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নে চাকরি পান। কাজ করেন চেলসি ও ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গেও। ৫০ বছর বয়সী এই কোচ সুইডিশ ভাষায় বেশ সাবলীল। তাকে অস্থায়ীভাবে সুইডেনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে ইউরোপিয়ান প্লে অফের আগে তার সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করে সুইডেন। আস্থার প্রতিদান দিতে দেরি করেননি। ইউক্রেন ও পরে পোল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে তোলেন দলকে।

সুইডেনের বিশ্বকাপ সূচি

১৪ জুন: সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া- মন্টেরে স্টেডিয়াম

২০ জুন: নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন- হিউস্টন স্টেডিয়াম

২৫ জুন: জাপান বনাম সুইডেন- ডালাস স্টেডিয়াম

সুইডেনের বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: উয়েফা

সেরা সাফল্য: ফাইনাল (১৯৫৮)

শেষ বিশ্বকাপ: রাশিয়া ২০১৮ (কোয়ার্টার ফাইনাল)

প্রথম বিশ্বকাপ: ১৯৩৪ ইতালি।

বিশ্বকাপে খেলেছে: ১৩ বার (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৮, ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৯০, ১৯৯৪, ২০০২, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২৬)

বিশ্বকাপে আয়োজক: ১৯৫৮

বিশ্বকাপ রেকর্ড: ৫১ ম্যাচ, ১৯ জয়, ১৩ ড্র, ১৯ হার, ৮০ গোল দিয়েছে, ৭৩ গোল হজম

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ৩৮তম।

সুইডেনের প্রথম বিশ্বকাপ

১৯৩৪ সালে ইতালি বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল। প্রথম রাউন্ডে (শেষ ষোলো) ১৯৩০ সালের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল। সভেন জোনাসনের জোড়া গোল ও ৭৯তম মিনিটে কেনাট ক্রুনের জয়সূচক গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির সঙ্গে পেরে ওঠেনি। ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা।

সুইডেনের শেষ বিশ্বকাপ

সুপারস্টার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ অবসর নেওয়ায় তাকে ছাড়াই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে সুইডেন। জানে অ্যান্ডারসনের অধীনে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে। প্রথম ম্যাচে কোরিয়া রিপাবলিককে ১-০ গোলে হারানোর পর জার্মানির কাছে পরাজিত দলটি মেক্সিকোকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ বিজয়ী হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে।

শেষ ষোলোতে ভাগ্য সহায় ছিল সুইডেনের। দ্বিতীয়ার্ধে এমিল ফোর্সবার্গের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জাল কাঁপায়। সুইজারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্তু ইংল্যান্ডের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। হ্যারি মাগুইরে ও ডেলে আলীর দুই অর্ধের গোলে তাদের বিদায় করে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপে সুইডেনের শীর্ষ গোলদাতা

পাঁচটি করে গোল দিয়ে সুইডেনের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা কেনেট অ্যান্ডারসন ও হেনরিক লারসন। ১৯৯৪ সালে সুইডেনের তৃতীয় হওয়ার আসরে অ্যান্ডারসন এই গোলগুলো করে ব্রোঞ্জ বুট জেতেন। আর ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিন আসর খেলে পাঁচ গোল করেন লারসন।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা সুইডিশ ফুটবলার

তিন আসরে ১৩ ম্যাচ খেলে সুইডেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড লারসনের। ১৯৯৪ সালের আসরে মূলত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন তিনি। দলে নিজের অবস্থান তৈরি করার পর ২০০২ বিশ্বকাপে সুইডেনের চার ম্যাচের সবগুলো খেলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর লারসন ফের ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলতে মাঠে ফেরেন। ওই আসরে সুইডেন প্রথম নকআউট পর্ব খেলে বিদায় নেয়।

সুইডেনের সবচেয়ে বড় জয়

বিশ্বকাপে সুইডেন সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল ১৯৩৮ সালে। ফ্রান্সে সেই ম্যাচে কিউবাকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। ওই কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি অ্যান্ডারসন ও গুস্তাভ ওয়েটারস্ট্রোম হ্যাটট্রিক করেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।

সুইডেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার: ভিক্টর জোহানসন, ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ড, জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রম

ডিফেন্ডার: হ্যালমার একডাল, গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন, ইসাক হিয়েন, এমিল হোম, গুস্তাফ লেগারবিয়েলকে, ভিক্টর লিন্ডেলফ, এরিক স্মিথ, কার্ল স্টারফেল্ট, এলিয়ট স্ট্রাউড, ড্যানিয়েল সভেনসন

মিডফিল্ডার: তাহা আলি, ইয়াসিন আয়রি, লুকাস বার্গভাল, জেস্পার কার্লস্ট্রোম, কেন সেমা, ম্যাটিয়াস সভানবার্গ, বেসফোর্ট জেনেলি

ফরোয়ার্ড: আলেকজান্ডার বার্নহার্ডসন, অ্যান্থনি এলানগা, ভিক্টর ডিয়োকেরেস, আলেকজান্ডার ইসাক, গুস্তাফ নিলসন, বেঞ্জামিন নাইগ্রেন।

এফএইচএম