দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি স্বাধীনতা পুরস্কার। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৬ সালে এই পুরস্কার পেয়েছেন জোবেরা রহমান লিনু। এই পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আজ ক্রীড়াঙ্গনে তার শুভাকাঙ্খী ও পারিবারিক লোকজন নিয়ে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এতে সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, সাংবাদিকসহ নানা অঙ্গনের মানুষ ছিলেন।
জোবেরা রহমান লিনু ও বাংলাদেশের টেবিল টেনিস একে অন্যের পরিপূরক। ১৬ বার জাতীয় নারী চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন লিনু। গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে নাম উঠার পাশাপাশি ইউনিসেফের বাংলাদেশ দূত ছিলেন। টেবিল টেনিসের পাশাপাশি সাইক্লিংও পদক রয়েছে এই কৃতি ক্রীড়াবিদের। খেলোয়াড়ের পাশাপাশি সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন টেবিল টেনিস, সাইক্লিং ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনে। ক্রীড়াঙ্গনে প্রায় পাচ দশকের সম্পৃক্ততা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিনুর বোনের মেয়ে। অনুষ্ঠান শুরুর পরপরই একটি ভিডিও ডিসপ্লে করা হয়। সেখানে লিনুর খেলোয়াড় হওয়ার গল্প, পরিবারের অবদান ও জীবনের অপূর্ণতার বিষয়গুলো উঠে আসে। মিনিট দশেকের সেই ডিসপ্লের পর লিনু নিজে বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার লিনু হয়ে উঠার পেছনে বাবার অবদান অনেক। আমার বোন হেলেনও ছিলেন আমার বড় সঙ্গী। অনেক পরিশ্রম ও সাধনায় আমি এই জায়গায় এসেছি।’ ক্রীড়া সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘কামরুজ্জামান ভাই, মঞ্জু ভাইয়ের মতো সাংবাদিকরা আমার ক্যারিয়ারে অবদান রেখেছেন। তাদের পত্রিকায় ছবি ও রিপোর্ট আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সাংবাদিকদের আমি আজীবনই পাশে পেয়েছি।’

লিনুর ক্যারিয়ারের সময় টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইসতিয়াক আহমেদ কারেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নাম উঠানো নিয়ে লিনু বলেন, ‘১৯৯৬ সালের দিকে আমি টেবিল টেনিস ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। তখন কারেন ভাই বললেন, ‘তুমি ১৪ বার চ্যাম্পিয়ন আর দুই বার হলে গিনেস বুকে নাম উঠবে।’ আমি চ্যাম্পিয়ন হলেও কাগজপত্র জমা দেয়াসহ সকল কাজই কারেন ভাই করেছেন।’
আজকের অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক কামরুজ্জামান এসেছিলেন। তিনি লিনু সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের রাণী লিনু। তার স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য দারুণ প্রাপ্তি।’ নব্বই দশক পর্যন্ত স্বাধীনতা পুরস্কারে ক্রীড়া থাকত। ২০০০ সালের পর থেকে দীর্ঘদিন ক্রীড়া বিভাগ অনুপস্থিত ছিল। বছর তিনেক আগে সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান স্বাধীনতা পুরস্কার পান। আজ লিনুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কারের আবেদনে একজন পুরস্কারপ্রাপ্তর স্বাক্ষর থাকতে হয়। আমি লিনুর আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলাম। লিনু বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তার পুরস্কারপ্রাপ্তিতে ক্রীড়াঙ্গনে সবাই খুশি আজকের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে।’
এজেড/এইচজেএস
