World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখার আশা কলম্বিয়ার

বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখার আশা কলম্বিয়ার

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি কলম্বিয়া। তারা সপ্তমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ফিরছে। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর নেস্টর লোরেঞ্জো একদল প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে নিয়ে অভিযান শুরু করবেন। অভিজ্ঞ জাদুকর জেমস রদ্রিগেজের নেতৃত্বে লা ত্রিকলর রিচার্ড রিওস, লুইস দিয়াজ ও ঝন আরিয়াসের মতো তারকাদের ওপর ভরসা তার।

আর্জেন্টিনার কাছে ২০২৪ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হারের আগে লোরেঞ্জোর কলম্বিয়া ২৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত ছিল। গত দুই বছর ধরে দলের যে অগ্রগতি, তাতে বড় আশা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তারা। ৩৪ বছর বয়সী রদ্রিগেজের ভর করে শক্তিশালী এই দল বিশ্বকাপে ছাপ রাখবে বলেই দৃঢ় বিশ্বাস অনেকের।

কলম্বিয়ার কোচ: নেস্টর লোরেঞ্জো

যদিও প্রধান কোচ হিসেবে তার রেকর্ড খুব বেশি দীর্ঘ নয়, তবে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ হিসেবে লোরেঞ্জোর বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে জোসে পেকারম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করার কারণে এই আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের কাঠামো সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানেন। ২০২২ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দ্রুত পেকারম্যান যুগের মতো একটি কৌশল তৈরি করেন। রদ্রিগেজকে দলে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তিনি রিওস, আরিয়াস, কেভিন কাস্তানিও ও ঝন ডুরানের মতো তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছেন।

বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার ফিক্সচার

১৭ জুন: উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া - মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম

২৩ জুন: কলম্বিয়া বনাম কঙ্গো ডিআর - এস্তাদিও গুয়াদালাজারা

২৭ জুন: কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল - মায়ামি স্টেডিয়াম

কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস

কনফেডারেশন: কনমেবল

সেরা সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১৪)

শেষ বিশ্বকাপ: রাশিয়া ২০১৮ (শেষ ১৬)

প্রথম বিশ্বকাপ: চিলি ১৯৬২

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: সাতবার (১৯৬২, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৬)

সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ- ২২, জয়- ৯, ড্র- ৩, হার- ১০, গোল করেছে- ৩২, গোল খেয়েছে- ৩০।
কলম্বিয়ার শেষ বিশ্বকাপ (২০১৮)

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: ১৩তম।

কলম্বিয়ার শেষ বিশ্বকাপ

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে কলম্বিয়া এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। জাপানের কাছে ২-১ হারের মাধ্যমে শুরুটা খারাপ হলেও পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় এবং সেনেগালকে ১-০ তে হারিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। ইনজুরির কারণে রদ্রিগেজ সাইডলাইনে থাকলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ইয়েরি মিনার শেষ মুহূর্তের গোলে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে কলম্বিয়া বিদায় নেয়।

কলম্বিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ

১৯৬২ সালে চিলিতে বিশ্বকাপ অভিষেকে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে কলম্বিয়া। উরুগুয়ের কাছে ২-১ এবং যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরে যায় তারা। এর মাঝের ম্যাচের সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৪-৪ গোলে ড্র করে দক্ষিণ আমেরিকানরা। ১১ মিনিটে ৩-০ ও ৫৬তম মিনিটে ৪-১ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা।

বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতা

জেমস রদ্রিগেজ ৬টি গোল নিয়ে কলম্বিয়ার সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি সবকটি গোলই করেছিলেন ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে, যেখানে তিনি গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমন ঘোষণা করেছিলেন। ডিফেন্ডার মিনা ৩টি গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

রেকর্ড সংখ্যক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়

ফ্রেডি রিনকন এবং কার্লোস ভালদেরামা কলম্বিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। প্রত্যেকে ১০টি করে। হুয়ান কুয়াদ্রাদো এবং ডেভিড ওসপিনা ৯টি করে ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। জেমসের বর্তমানে ৮টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে; ২০২৬ আসরে আর ৩টি ম্যাচ খেললেই তিনি তালিকার শীর্ষে চলে যাবেন।

কলম্বিয়ার বড় জয়

প্রতিযোগিতায় কলম্বিয়া তিনবার তিন গোলের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে দুটি জয় এসেছিল ২০১৪ সালে। তারা ১৪ জুন গ্রিসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে এবং এরপর ২৪ জুন জাপানকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে। ঠিক চার বছর পর রাশিয়ায় তারা এর পুনরাবৃত্তি ঘটায়। টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৪ জুন ২০১৮-তে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেদিন দলটিতে কুয়াদ্রাদো, রদ্রিগেজ, কুইনতেরো এবং রাদামেল ফালকাওয়ের মতো বিধ্বংসী খেলোয়াড়রা ছিলেন।

কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার- আলভারো মন্টেরো, কামিলো ভারগাস, ডেভিড ওসপিনা

ডিফেন্ডার- ড্যানিয়েল মুনোজ, সান্তিয়াগো আরিয়াস, ডেভিনসন সানচেজ, জন লুকুমি, ইয়েরি মিনা, উইলার ডিটা, ডাইভার মাচাদো, জোহান মোকিকা

মিডফিল্ডার- গুস্তাভো পুয়ের্তা, জেমস রদ্রিগেজ, জেফারসন লেরমা, জন আরিয়াস, হোর্হে কারাসকাল, হুয়ান ফার্নান্দো কিন্তেরো, রিচার্ড রিওস, কেভিন কাস্তানো, জামিনটন ক্যাম্পাজ, হুয়ান পোর্তিয়া

ফরোয়ার্ড- লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ, জন কর্ডোবা, কার্লোস গোমেজ, হুয়ান কামিলো হের্নান্দেজ

এফএইচএম