বিজ্ঞাপন

ফাইনাল হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন কোচ বাটলার

ফাইনাল হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন কোচ বাটলার

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন ব্যর্থ হয়েছে। আজ ভারতের গোয়ায় ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে ১-৩ গোলে হেরেছে মারিয়ারা। এবার হ্যাটট্রিক মিশনের জন্য বাফুফে বাংলাদেশ দলকে থাইল্যান্ড পাঠিয়েছিল। এত প্রস্তুতির পরও বাংলাদেশ এই সাফে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারেনি এবং রানার্স আপ হয়ে দেশে ফিরছে। 

ফাইনাল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে ম্যাচের চিত্র স্কোরলাইনে সব সময় প্রদর্শন হয় না। আমি মেয়েদের চেষ্টায় গর্বিত। বিশেষ করে তরুণরা দারুণ খেলেছে।’ বাংলাদেশের তিন গোল হজমের মধ্যে দু’টি গোলরক্ষক মিলি আক্তারের ভুল রয়েছে আরেকটি ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকারের। ২০২২ ও ২০২৪ দুই সাফেই গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হয়েছিলেন। এবার তাকে একটি ম্যাচও খেলাননি কোচ। এ নিয়ে প্রশ্ন হলে বাটলার বলেন, ‘সে আমাকে ইমপ্রেসড করতে পারেনি। থাইল্যান্ডে মিলি ইনজুরি হওয়ার পর রুপ্না সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু সেখানে পারফর্ম করতে পারেনি। মিলি ফর্মে রয়েছে তাই তাকেই আমি বেছে নিয়েছি। সে ভুল করতে পারে, সেটা খেলারই অংশ।’

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েছেন কোচ বাটলার। এ নিয়ে তার বক্তব্য, ‘আমি শুধু বলতে চাই যে আমি এখানে কোনো অজুহাত দিতে আসিনি। আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। আমি জবাবদিহি করতে বাধ্য। টেকনিক্যাল বিষয়ের ক্ষেত্রে সব দায় আমার। অন্য কোনো জটিলতা বা কাণ্ডকারখানা আমার দেখার বিষয় নয়।’

বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছিল। আজ ফাইনালের স্কোরলাইন ৩-১ হলেও পার্থক্য দেখছেন বাটলার, ‘ঐ ম্যাচের চেয়ে আমরা ভালো পারফরম্যান্স করেছি। ম্যাচের অনেক সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’ ঋতুপর্ণার গোলে বাংলাদেশ সমতাও এনেছিল। এরপরও ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এই খেলার মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল যখন আনিকা ইনজুরিতে পড়ে মাঠের বাইরে চলে গেল। আমি তাকে ৯ নম্বরের চেয়ে ১০ নম্বর পজিশনে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এবং সে সত্যিই খুব ভালো খেলেছে। আমার মনে হয়েছে ঋতু আজ রাতে ভালো খেলেছে। মারিয়া অসাধারণ ছিল। আর আমার মনে হয় আমরা... আফরিন, যার বয়স মাত্র ১৮, সে একজন অসাধারণ তরুণ খেলোয়াড়; আমাদের দলে এমন এক-দুজন খেলোয়াড় আছে যারা তাদের ক্যারিয়ারের এমন এক সময়ে পৌঁছেছে যা হয়তো শেষ সময় পার করে এসেছে, মানে শেষের দিকে চলে এসেছে। তাদের হয় লড়াই করতে হবে, না হলে আমাদের বিকল্প খুঁজতে হবে।’

একাডেমির কোচ হয়ে এসে নারী ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব দুই বছরের বেশি সময় চলছে। বাফুফের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে বলেন, ‘আমি আসলে আমার নিজের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি এই কাজটা মূলত কোনো দয়া হিসেবে নেইনি... সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি এটা করব কি না, এবং আমি রাজি হয়েছিলাম। আর সবাই জানে যে আমি কিছুটা 'ফায়ারফাইটার' (সংকট মোচনকারী) এর মতো। আমাকে ফিরে যেতে হবে এবং আমি কী করতে চাই তা নিয়ে ভাবতে হবে। হয়তো অন্য কোথাও নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেব। আমি আমার চুক্তির শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। আমি মনে করি আমি ভালো কাজ করেছি। আমি জানি আমি ভালো কাজ করেছি।’

এজেড/এইচজেএস