পূর্বনির্ধারিত কোনো স্থানে সমবেত হয়ে একসঙ্গে অসংখ্য মানুষের উদযাপন বা ওয়েভ আয়োজনের রীতি বিশ্বজুড়ে বহু পুরোনো। এর উৎপত্তিকাল এবং স্থান নিয়ে যদিও বিতর্ক রয়েছে। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো। তাদের রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে গতকাল (শনিবার) ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ আয়োজন করা হয়। যেখানে দর্শক-উপস্থিতি বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারে বলে দাবি স্বাগতিকদের।
অনুষ্ঠানটি ছিল ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-এর অভিষেকের ৪০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা তারাই প্রথম এমন আয়োজনের দাবি করে থাকেন। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর এবার তৃতীয়বারের মতো দেশটি টুর্নামেন্টটির আয়োজক বা সহ-আয়োজক হবে, যা পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।

শনিবার সকালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত প্রধান সড়ক পাসেও দে লা রেফর্মায় মেক্সিকান নাগরিক ও বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শত শত মানুষ মেক্সিকো জাতীয় দলের সবুজ জার্সি পরেছিলেন। তারা জাতীয় পতাকা নেড়ে এবং ‘মেক্সিকো, মেক্সিকো’ স্লোগান দিয়ে ধারাবাহিকভাবে হাত উঁচু করেন, যার ফলে জনসমুদ্রে ঢেউয়ের মতো এক চলমান দৃশ্য তৈরি হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ইতোমধ্যেই ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগে একাধিক রেকর্ডের স্বীকৃতি দিয়েছে।
মেক্সিকো সিটি সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এটি কোনো রেকর্ড ভাঙার বিষয় নয়, বরং একটি নতুন রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা। এটি একেবারেই নজিরবিহীন। এজন্যই গিনেস কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। তারা অনেক বিষয় বিশ্লেষণ করে থাকে।’
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দূর থেকে আসা তেরেসা লোপেজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েভে অংশ নিতে এবং আমাদের জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমরা মেক্সিকান এবং আমাদের দেশ নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।’ বিদেশি পর্যটকরাও এ আয়োজনের আবহে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় ‘মেক্সিকান ওয়েভ’-এ ২০০৮ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৪ জন অংশ নেন। ২০০৭ সালে পর্তুগালে ৮ হাজার ৪৫৩ জনকে নিয়ে গঠিত হয় সবচেয়ে দীর্ঘ ওয়েভ লাইন। আর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী ওয়েভের রেকর্ড ১৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ড, যা ২০১৫ সালে গড়েছে জাপান।
এএইচএস

