World Cup Football Field

বিজ্ঞাপন

১৯৯০: ম্যারাডোনার কান্না, জার্মানির মধুর প্রতিশোধ

১৯৯০: ম্যারাডোনার কান্না, জার্মানির মধুর প্রতিশোধ

১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের চতুর্দশ আসরটি ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য মোড় হিসেবে পরিচিত। আগের আসরের শৈল্পিক ফুটবল থেকে সরে এসে অধিকাংশ দলই এই বিশ্বকাপে রক্ষণাত্মক কৌশলে মনোযোগ দিয়েছিল। গোলসংখ্যায় এটি ইতিহাসের অন্যতম ‘শুষ্ক’ বিশ্বকাপ হলেও এর নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চে কোনো কমতি ছিল না।

১৯৮২ এবং ১৯৮৬- পরপর দুই ফাইনালে হারের পর তৃতীয় প্রচেষ্টায় সাফল্যের দেখা পায় পশ্চিম জার্মানি। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের কোচিংয়ে তারা ফাইনালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। বেকেনবাওয়ার ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়েন।

১৯৮৬ সালের সেই অজেয় আর্জেন্টিনা এই আসরে শুরুতেই ক্যামেরুনের কাছে হেরে বড় ধাক্কা খায়। তবুও ম্যারাডোনার একক লড়াই আর গোলরক্ষক সার্জিও গোয়কোচিয়ার টাইব্রেকার জাদুতে তারা ফাইনালে ওঠে।

কিন্তু ফাইনালে বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে ১-০ গোলে হেরে ম্যারাডোনার শিরোপা রক্ষার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনার সেই অশ্রুসিক্ত মুখ আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে।

এদিকে ৩৮ বছর বয়সী ক্যামেরুনীয় স্ট্রাইকার রজার মিল্লা ৪ গোল করে তার দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যান, যা কোনো আফ্রিকান দেশের জন্য ছিল প্রথম। এই বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ২.২১টি গোল হয়েছিল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই কারণেই পরবর্তী আসর থেকে ‘ব্যাক-পাস’ আইন কঠোর করা হয়।

ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন। ইতালির অখ্যাত খেলোয়াড় সালভাতোর শিলাচি ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল- দুইই জিতে নিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দেন।

এই আসরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল দল দেখায় এক অনন্য নজির। তারা গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এরপরও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অদ্ভুত রেকর্ড গড়ে আইরিশরা। অন্যদিকে, সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচই টাইব্রেকারে গড়ানোয় স্নায়ুচাপের নতুন এক চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছিল ফুটবল বিশ্ব।

এমএমএম/