কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টুর্নামেন্টে মার্সেলো বিয়েলসার স্কোয়াড উরুগুয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লিখতে মুখিয়ে আছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে দুবার শিরোপা জিতেছে।
উরুগুয়ে তাদের ১৫তম ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে এবং ২০১০ সালের প্রত্যাবর্তনের বিশ্বকাপে তারা চতুর্থ হয়েছিল। তারপর থেকে টানা পঞ্চমবার অংশ নিচ্ছে তারা। একটি চড়াই-উতরাইয়ে ভরা বাছাইপর্বের অভিযানের পর ‘লা সেলেস্তে’ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চল থেকে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করেছে।
মার্সেলো বিয়েলসার দলটি তাদের সাম্প্রতিক ‘গোল্ডেন জেনারেশন’এর মূল খেলোয়াড়দের অবসরের পর আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এডিনসন কাভানি ও লুইস সুয়ারেজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ায় ফেদেরিকো ভালভার্দের নেতৃত্বে একটি নতুন চেহারার দল তাদের কোচের ট্রেডমার্ক ট্যাকটিক্যাল স্টাইলে খেলে বিশ্বকে অবাক করার চেষ্টা করবে।
উরুগুয়ের কোচ: মার্সেলো বিয়েলসা
বিয়েলসা বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে বিবেচিত। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম প্রধান প্রভাবশালী হিসেবে তাকে সম্মান করেন বহু সতীর্থ কোচ। ৭০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন প্রধান কোচ হিসেবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ২০০২ সালে কোরিয়া-জাপানে আর্জেন্টিনার সঙ্গে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশাজনক মুহূর্ত।

এরপর তিনি চিলিকে ১২ বছর পর ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিয়ে যান। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে তারা শেষ ১৬-তে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ক্লাব ফুটবলে অ্যাথলেটিক ক্লাব, অলিম্পিক মার্সেই ও লিডস ইউনাইটেডে সফল অধ্যায়ের পর বিয়েলসা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ফিরে আসেন এবং বাছাইপর্বে কিছু দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে লা সেলেস্তেকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দেন।
উরুগুয়ের বিশ্বকাপের সূচি
১৫ জুন: সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে - মিয়ামি স্টেডিয়াম
২১ জুন: উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে - মিয়ামি স্টেডিয়াম
২৬ জুন: উরুগুয়ে বনাম স্পেন - এস্তাদিও গুয়াদালাজারা
উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: কনমেবল
সেরা বিশ্বকাপ: চ্যাম্পিয়ন (১৯৩০ ও ১৯৫০)
শেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (গ্রুপ পর্ব)
প্রথম বিশ্বকাপ: উরুগুয়ে ১৯৩০
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: ১৫ বার
সামগ্রিক রেকর্ড: ম্যাচ খেলেছে ৫৯টি; জয় ২৫, ড্র ১৩, হার ২১; গোল করেছে ৮৯টি, গোল খেয়েছে ৭৬টি।
ফিফা র্যাঙ্কিং: ১৬তম।
উরুগুয়ের শেষ বিশ্বকাপ
উরুগুয়ে ১২ বছর আগের সেমিফাইনালে খেলার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাতারে গিয়েছিল। দিয়েগো আলোনসোর অধীনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। এরপর পর্তুগালের কাছে ২-০ গোলে হেরে তাদের স্বপ্ন বড় ধাক্কা খায়। শেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতলেও অন্য ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল উরুগুয়েকে বিদায় করে দেয়।

উরুগুয়ের প্রথম বিশ্বকাপ
প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক এবং ওইবারই বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালের টুর্নামেন্টে আইকনিক এস্তাদিও সেন্টেনারিওতে পেরুর বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করে তারা রোমানিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। সেমিফাইনালে তারা যুগোস্লাভিয়াকে ৬-১ গোলে পরাজিত করে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ৪-২ ব্যবধানে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় উরুগুয়ে।
উরুগুয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতা
উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অস্কার মিগুয়েজ সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ৮টি গোল করেছেন। ১৯৫০ বিশ্বকাপে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক দিয়ে তার গোলযাত্রা শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে তিনি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ আরও গোল যোগ করেন।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়
উরুগুয়ের হয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচে কাভানির চেয়ে বেশি কেউ খেলেননি। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার আগে তিনি বিশ্বমঞ্চে ১৭টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি মোট ৫টি গোল করেছেন।

উরুগুয়ের সবচেয়ে বড় জয়
উরুগুয়ের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়টি ছিল ১৯৫০ সালে। সেবার তারা বলিভিয়াকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করে। মিগুয়েজের হ্যাটট্রিক, শিয়াফিনোর জোড়া গোল এবং ভিদাল, পেরেজ ও কিংবদন্তি ঘিঘিয়ার একটি করে গোলে এই বিশাল জয় এসেছিল।
উরুগুয়ের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক- সান্তিয়াগো মেলে, ফার্নান্দো মুস্লেরা, সার্জিও রোচেত
ডিফেন্ডার- রোনাল্ড আরাউহো, সান্তিয়াগো বুয়েনো, সেবাস্তিয়ান কাসেরেস, হোসে মারিয়া গিমেনেজ, মাতিয়াস অলিভেরা, জোয়াকিন পিকেরেজ, গুইয়ের্মো ভ্যারেলা, মাতিয়াস ভিনা
মিডফিল্ডার- ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো, জর্জিয়ান দে আরাসকায়েতা, রদ্রিগো বেন্টানকুর, আগুস্তিন ক্যানোবিও, নিকোলাস দে লা ক্রুজ, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ফাকুন্দো পেলিস্ত্রি, ব্রায়ান রদ্রিগেজ, হুয়ান ম্যানুয়েল সানাব্রিয়া, ম্যানুয়েল উগার্তে, ফেদেরিকো ভালভার্দে, রদ্রিগো জালাজার
ফরোয়ার্ড- রদ্রিগো আগুইরে, ফেদেরিকো ভিনাস, ডারউইন নুনিয়েজ।
এফএইচএম

